শেরপুরে সরকারকে চাল দিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ১২৮ মিল মালিক

  

পিএনএস, শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা : বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় সরকারিভাবে শুরু হয়েছে অভ্যন্তরীণ আমন চাল সংগ্রহ অভিযান। সরকারকে চলতি মৌসুমে চাল দিতে ইতিমধ্যে ১২৮জন লাইসেন্সধারী মিল মালিক চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। চুক্তি অনুযায়ী এসব মিল থেকে ৩৯ টাকা কেজি হিসেবে চাল কিনবে সরকার।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই উপজেলায় ৬হাজার ৪৭৭ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সে মোতাবেক চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫হাজার ৭০০মেট্রিকটন চাল দিতে সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ১২৮জন মিলার।

এছাড়া আরও অন্তত ২২জন মিলার সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় চুক্তিবদ্ধ হতে পারেননি। তবে সময় বাড়ানো হলে তারাও চুক্তিবদ্ধ হবেন। সেক্ষেত্রে এবার আমন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পুরণ হবে। সূত্রটি আরও জানায়, এই উপজেলায় ৩৭২জন লাইসেন্সধারী মিলার রয়েছে। কিন্তু গেল মৌসুমে চাল দিতে সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরও ২২২জন মিলার লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে সরকারকে চাল দেননি। চুক্তি ভঙ্গের কারণে সেসব মিলারদের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এবার চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা পুরণে ওইসব মিলারদের কোন বরাদ্দ দেয়া হয়নি। এছাড়া খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছেন বলে সূত্রটি জানায়।

এদিকে সরকারিভাবে অভ্যন্তরীণ আমন চাল সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. হারুনার রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. লিটন সরকার, নির্বাচন কর্মকর্তা আনিছুর রহমান, খাদ্য পরিদর্শক গাজী শফিকুল ইসলাম, উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ, শেরপুর খাদ্য গুদামের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ইউসুফ আলীসহ চালকল মালিক সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন সাপ্তাহিক আজকের শেরপুর পত্রিকার সম্পাদক আলহাজ্ব মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ জানান, সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর প্রত্যেক মিলার প্রাপ্ত বরাদ্দ অনুযায়ী চাল দিতে বাধ্য। তাই চুক্তি অনুযায়ী মিলাররা গুদামে চালও সরবরাহ শুরু করেছেন। তবে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার জন্য আরেকবার মিলারদের সুযোগ দিতে হবে। যাতে করে বাদপড়া লাইসেন্সধারী মিল মালিকরাও সরকারকে চাল দিতে পারেন। পাশাপাশি সরকারের অভ্যন্তরীণ আমন চাল সংগ্রহ অভিযান সফল হবে বলে এই চালকল মালিক সমিতির নেতা মনে করেন।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. হারুনার রশিদ জানান, মিলার বা চাল ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী এবার চালের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই নির্ধারিত সময়ের আগেই চুক্তি অনুযায়ী মিল মালিকরা গুদামে চাল দেবেন বলে আশা করছি। চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া ২০১৮সালের ২৮ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত এই চাল সংগ্রহ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে এই কর্মকর্তা জানান।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech