কপিলমুনি স্থপতি রায় বাবুর ৮৩তম মহা প্রয়াণ দিবস

  

পিএনএস, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : বুধবার খুলনার অন্যতম পাইকারী বণিজ্যিক শহর কপিলমুনি স্থপতি রায় বাবুর ৮৩ তম মহা প্রয়াণ দিবস। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক ও জ্ঞান পিপাষু ব্যক্তি। তাঁর স্পর্শে পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনিতে গড়ে উঠেছিল অসংখ্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান।

জানাযায়, বাং ১২৯৬ সনের ২৬ বৈশাখ; তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার বর্তমান খুলনা জেলার দক্ষিণাঞ্চলের অজপাড়া গাঁ কপিলমুনিতে রায় সাহেব বিনোদ সাধুর জন্ম। পিতা যাদব চন্দ্র সাধু, মাতা সহচরী দেবী, শৈশব ও কিশোর জীবন পার করতেই তিনি সমাজ সংস্কার কাজ শুরু করেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ব্যবসায় শুরু করেন। তৎকালীন সময়ে ব্যবসার প্রসার বাড়াতে কোলকাতার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেন। আর তার ব্যবসায়ে উপার্জিত অর্থ দিয়ে বৃহত্তর কপিলমুনির মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। মায়ের নামে সহচরী বিদ্যামন্দির (বর্তমানে স্কুল এন্ড কলেজ), ২০ শয্যা বিশিষ্ট চিকিৎসালয় যা তৎকালীন ভারতের বীর বাহাদুর যদু নাথ সরকার কর্তৃক দারোদঘাটিত হয়।

পাশাপাশি এলাকার বেকারত্ব ঘুচাতে প্রতিষ্ঠা করেন অমৃতময়ী টেকনিক্যাল স্কুল। তার সমাজ সংস্কার কাজের পুরষ্কার হিসেবে তৎকালীন সরকার তাকে রায় সাহেব উপাধিতে ভূষিত করেন। যখন খুলনা অঞ্চলে বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা ছিল না তখন তিনি সুদূর কোলকাতা থেকে কপিলমুনি বাজারকে আলোকিত করতে জেনারেটরের মাধ্যমে আলোর ব্যবস্থা করেন। এলাকার মানুষের সুপেয় পানি জন্য তিনি খনন করেন ‘সহচরী সরোবর’ নামে একটি বৃহৎ পুকুর (বর্তমানে বালির মাঠ)। ক্ষনজন্মা এই মহা মনিষিকে অত্র এলাকার সকল মানুষ মহা মানব হিসেবে স্মরণ করে থাকেন। তার নিজ অর্জিত অর্থ দ্বারা ক্রয়কৃত প্রায় ৫০একর সম্পত্তির উপর প্রতিষ্ঠা করেন ‘বিনোদগঞ্জ’ যা এখন কপিলমুনি বাজার নামে পরিচিত।

বিনোদগঞ্জ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, খেলার মাঠ ও পাবলিক স্টেডিয়াম সবই তার স্মৃতি বহন করে। ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় একই সময় প্রতিষ্ঠা করেন উৎকর্ষ সমিতি ও সিদ্ধেশ্বরী ব্যাংক। ব্যবসায়ীরা তাদের প্রয়োজনে উক্ত ব্যাংক থেকে অর্থ গ্রহণ করতেন। এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে তিনি স্ট্রেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায় বহু টাকা সঞ্চয় করেন, কিন্তু দেশ ভাগের পর সঞ্চিত অর্থ ফেরৎ পাওয়া যায়নি।

কোলকাতা সদর থেকে ৬মাইল উত্তরে আগরপাড়া নামক স্থানে ব্যবসার সুবাদে বসবাস করার জন্য বহু টাকা ব্যয়ে একটা বাগান বাড়ি ক্রয় করেন। সে সময় সেখানে স¦-পরিবারে বসবাস শুরু করেন। এক বছরের বেশি সময় চললো এ ভাবেই। কিন্তু ছোট বেলার অভ্যাস কর্মশূন্য হয়ে থাকতে পারেন না তিনি। সেখানে বসবাস করাটা তাঁর জন্য ছিল এমন যে, এক দিকে কর্মশুণ্যতা, অন্যদিকে শহুরে বদ্ধজীবন যাপন। তাই তিনি চলে আসেন জম্মভূমি কপিলমুনিতে।

কিন্তু ভাগ্যটা এতই প্রতিকূল যে, এখানে ফিরেও তিনি বেরীবেরী রোগে আক্রান্ত হলেন। কলকাতার সকল চিকিৎসকের সাধনা বিফল করে বাং ১৩৪১ সনের ৩রা মাঘ মাত্র ৪৫ বছর বয়সে ধরনী ত্যাগ করেন তিনি। ক্ষণজন্মা এই মহা মানবের মৃত্যু দিবসে স্থানীয় স্বর্গীয় রায় সাহেব বিনোদ বিহারী স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ র্যালী, মাল্যদান ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। রায় সাহেব স্মরণে স্থানীয় গুণীজন স্মৃতি সংসদ স্মরণীকা ‘গুনীজন বার্তা’ প্রকাশ করবে।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech