টাকার বিনিময়ে ব্যবস্থাপত্রে ভেজাল ওষুধ লেখেন চিকিৎসক!

  

পিএনএস ডেস্ক : চট্টগ্রাম নগরের বেশ কিছু চিকিৎসক রোগীর ব্যবস্থাপত্রে ভেজাল ওষুধ লেখেন। এর মাধ্যমে প্রতি চিকিৎসক মাসে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা বিনিময় পান। আজ নগরীর খুলশী থানার লালখান বাজারের পশ্চিম হাইলেভেল রোডে তাহের বিল্ডিংয়ের নিচতলায় ‘অ্যাকুরা ফার্মা বাংলাদেশ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অফিস ও গুদামে অভিযান চালায় নগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম। অভিযানে ওষুধসহ ২৬ ধরনের প্রায় একহাজার কৌটা উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ফুড সাপ্লিমেন্ট, ভিটামিন ও শক্তিবর্ধক ওষুধও আছে।

এসময় অ্যাকুরা ফার্মা বাংলাদেশের মালিক সাইদুল ইসলামকে (৩৮) আটক করা হয়েছে। আটক সাইদুল ইসলাম চিকিৎসকদের ব্যাপারে এসব তথ্য দেন। নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (এডিসি-কাউন্টার টেরোরজিম) পলাশ কান্তি নাথ অভিযানে নেতৃত্ব দেন। আটক সাইদুলের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ (গ) ধারায় খুলশী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (এডিসি-কাউন্টার টেরোরজিম) পলাশ কান্তি নাথ বলেন, ‘ভারত এবং চীন থেকে অবৈধভাবে ওষুধগুলো আনা হয়। এরপর সেগুলো ১০ থেকে ৩০টি করে কৌটায় ভরে বিভিন্ন নাম দিয়ে লেবেল লাগানো হয়। প্রতিটি কৌটার দাম কমপক্ষে এক হাজার টাকা। এসব ওষুধ নির্দিষ্ট দোকানের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। ওষুধগুলো কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই বাজারজাত করা হয়েছে।’

জানা যায়, ‘আটক সাইদুল জানিয়েছেন বন্দরনগরীর বেশ কয়েকজন স্বনামধন্য চিকিৎসক মাসে মাত্র ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে এসব ভেজাল ওষুধ রোগীদের সেবনের জন্য ব্যবস্থাপত্রে নির্দেশনা দেন। এসব চিকিৎসকের মধ্যে ১৮ জনের নাম সাইদুল প্রকাশ করেছেন।’

নাম প্রকাশ না করে নগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আটক সাইদুল জানিয়েছেন- প্রত্যেক সিনিয়র চিকিৎসককে মাসে তারা ২০ হাজার টাকা করে দেন। পাড়ায়, গলিতে যাদের চেম্বার আছে সেসব ডাক্তারদের ১০-১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। এর বিনিময়ে তারা এসব ওষুধের নাম প্রেসক্রিপশনে লিখেন।’

অভিযানে ছিলেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আফতাব হোসেন, রাজেশ বড়ুয়া, উপ-পরিদর্শক শিবেন বিশ্বাস, মো. আব্দুল্লাহ, সঞ্জয় গুহ, রাছিব খাঁন, ছাদেক মোহাম্মদ নাজমুল হক।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech