শেরপুরে ভুতুড়ে বিল নিয়ে বিপাকে গ্রাহক

  

পিএনএস, শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা : মিটারের চাকা ঘুরে রিডিংয়ের জায়গায় স্থির হয়ে জলজল করছে ১হাজার ৪৭২ইউনিট। রোববার (২৫ফেব্রয়ারি) দুপুর নাগাদ এই পরিমান বিদ্যুৎ গ্রাহক ব্যবহার করেছে বলে হিসেব দেখাচ্ছে মিটার। এরমধ্যে গেল ৩ জানুয়ারি ১ হাজার ৩৫০ইউনিটের বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এই হিসেবে বর্তমানে ১২২ইউনিটের বিল পাওনা রয়েছে। গেল জানুয়ারি মাসের বিদ্যুৎ বিলের কথা বলছি। কিন্তু গ্রাহকের হাতে ধরিয়ে দেয়া হয় ২হাজার ২৫০ ইউনিটের কাগুজে বিল। প্রায় ৭৭৮ বাড়তি ইউনিট যোগ করে বিল পরিশোধ করতে গ্রাহকের হাতে কাগজ ধরিয়ে দেয় বাংলাদেশ নর্দান বিদ্যুৎ সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) বগুড়ার শেরপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ।

উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের মামুরশাহী গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলামের নেয়া সেচ পাম্পের (অগভীর নলকূপ) বিদ্যুত সংযোগের বিপরীতে নেসকোর বিল দেয়ার ক্ষেত্রে এই অনিয়মের কাজটি করা হয়েছে। যার হিসাব নং-২৯৭৩৩৭০। প্রতিকার পেতে এই ভুক্তভোগীকে বারবার নেসকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের কর্তাদের দরজায় কড়া নাড়তে হচ্ছে। কিন্তু আশানুরূপ সাড়া মিলছে না।

শুধু নেসকোর স্থানীয় কার্যালয়ই নয়। বিদ্যুৎ বিল দেয়া ও আদায়ের ক্ষেত্রে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি শেরপুর জোনাল অফিসের অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র প্রায় একই। কারণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ছে না। এরপরও ঘুরছে মিটারের চাকা। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মিটারের ডিজিটগুলো। তবে বাস্তবে না। হাতের ম্যারপাচে করা হচ্ছে এই কাজটি। ইচ্ছেমত বিল কষে গ্রাহকদের হাতে ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ বিলের কপি। সেই বাড়তি বিল পরিশোধে বাধ্য করছেন বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তরা। বিদ্যুৎ বিল নিয়ে এই অনিয়ম-দুর্নীতি চলে আসছে বেশ কয়েকমাস ধরে। কিন্তু বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্টদের কোন উদ্যোগ নেই। বরং অনিয়ম-দুর্নীতি চালু রেখে গ্রাহকদের কাছ থেকে বাড়তি ভুতুরে বিদ্যুৎ বিল আদায়ে সংশ্লিষ্টরা তৎপর বলে অভিযোগ উঠেছে।

যমুনা সেমি অটো রাইচ মিলের সত্ত্বাধিকারী আব্দুল জাব্বার অভিযোগ করে বলেন, তার মিলে গেল ডিসেম্বর মাসে আড়াই হাজার বস্তা চাল বের করা হয়। এর বিপরীতে ৭০হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেন। অথচ ফেব্রয়ারি মাসে দুই হাজার চাল বের হওয়ার বিপরীতে ১লাখ ৭হাজার টাকা বিদ্যুতের বিলের কাগজ দেয়া হয়। পরে অফিসে যোগাযোগের পর বিদ্যুৎ বিলের নয়ছয় হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে বলে তিনি দাবি করেন।

একইভাবে গোলাম রব্বানী ও ওসমান গনিসহ একাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহক বলেন, মিটারের রিডিং দেখার জন্য নিয়োজিত কোন ব্যক্তি আসেন না। তারা ৩-৪মাস ধরে ইচ্ছেমত বিল করছেন। গেল কয়েকমাস ধরে এভাবেই বিলের কাগজ দেয়া হয়। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও তারা কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। এমনকি এই ভুতুরে বিল পরিশোধ না করলে সংযোগ বন্ধ করার পাশাপাশি মামলারও হুমকি দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

এভাবে নেসকো ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন অসংখ্য সাধারণ গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি শেরপুর জোনাল অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আব্দুল্লাহ আল আমিন চৌধুরী অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভুল বশতঃ কাজগুলো হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।

এদিকে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে নেসকোর শেরপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গোপাল চন্দ্র সাহা বাড়তি বিল নেয়ার কথা আংশিক স্বীকার করলেও কারণ না জানিয়ে কৌশলে এড়িয়ে যান তিনি। তবে অতিরিক্ত বিলের টাকা গ্রাহকের হিসাব নম্বরে জমা থাকবে-এমন দাবি করে এই কর্মকর্তা আরও বলেন, একটি টাকাও কারো পকেটে উঠবে না। এছাড়া আগামিতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পর সমন্বয় করে গ্রাহকদের বিল দেয়া হবে। কিন্তু বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেও গ্রাহকরা কেন বিল দেবেন-এমন প্রশ্নের কোন সদোত্তর দিতে পারেননি প্রকৌশলী গোপাল চন্দ্র সাহা।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech