কাপাসিয়ায় ছাত্রীদের পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠালেন শিক্ষক

  

পিএনএস, কাপাসিয়া প্রতিনিধি : পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতা। তাই ছোট্রমনিদের সহায়তায় এগিয়ে গেলেন শহীদ গিয়াস উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর তিন ছাত্রী। আর এতেই কাল হলো তাদের। নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষক তাদের পিটিয়ে মারাত্বক ভাবে আহত করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত রোবাবার সকালে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বারিষাব এলাকার শহীদ গিয়াস উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।

জানা যায়, উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের শহীদ গিয়াস উচ্চ বিদ্যালয় এবং গিয়াসপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় একই ক্যাম্পাসে অবস্থিত। গত রোববার ছিল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই দিনব্যাপী বার্ষিক ক্রিড়ানুষ্ঠানের শেষ দিন। পাশাপাশি হওয়ায় ছোট্রমনিদের অনুরোধে অষ্টম শ্রেণীর তিন শিক্ষার্থী তারিন আক্তার রিতা, শরিফা আক্তার শিখা, রাবেয়া বেগম তাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিভিন্ন বিষয় শিখিয়ে দিচ্ছিল। সেই সময় গিয়াসপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান বাবুল তাদের ডেকে পাঠান। একে একে তাদের অফিস কক্ষে ডেকে বেত দিয়ে পিটাতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারিন আক্তার রিতা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অন্যরা মারাত্বক ভাবে জখমপ্রাপ্ত হয়। খবর পেয়ে অভিভাবকরা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাকছুদুল ইসলাম জানান, ছাত্রী নির্যাতনের বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছাত্রীদের তিনি দেখতে গিয়েছিলেন। ইউএনও আরো জানান, এব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি নির্যাতিত শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং জড়িত শিক্ষককের ব্যাপারে তদন্ত কমিটি করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন।

অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান বাবুলের মোবাইল নাম্বারে (০১৭৪৩৮৮৮১৮৩) বার বার ফোন দিলে তিনি ধরেননি। এক পর্যায়ে মতিন নামে এক ব্যক্তি ফোন রিসিভ করে বলেন, স্যার এখন নেই, ‘পরে ফোন দিয়েন’।

এব্যাপারে শিক্ষার্থী তারিন আক্তার রিতা’র পিতা রেনু মিয়া বলেন, আমার মেয়েকে কোন কারন ছাড়াই নির্মমভাবে পিটানো হয়েছে। আমি অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার চাই।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহজাহান মোল্লা’কে বার বার (০১৭১৩০০৭৭৫০) ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

বারিষাব ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা আতাউজ্জামান বাবলু জানান, শিক্ষার্থী নির্যাতনের কথা শুনে হাসপাতালে তাদের দেখতে গিয়েছিলাম। তিনি বলেন, শিক্ষকদের নিকট থেকে তিনি শুনেছেন, শিক্ষকদের অনুমতি না নিয়ে শিক্ষার্থীরা পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করছিল। তখন শিক্ষকরা গিয়ে তাদের শাসন করেছেন। এ বিষয়টিকে একটি মহল ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech