মামলার পরেও মহোৎসব

  


পিএনএস, লালমনিরহাট: লালমনিরহাটে বোমা মেশিন দিয়ে নদীর বুক চিরে চরাঞ্চলে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। মামলা দিয়েও বন্ধ হচ্ছে না বালু উত্তোলনের এ মহড়া।

বৃহস্পতিবার (২২ মার্চ) দুপুরে লালমনিরহাট সদর থানায় চার বালু উত্তোলনকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে স্থানীয় ভূমি অফিস। একই অভিযোগে মঙ্গলবারও (২০ মার্চ) আরো পাঁচ বালু খেকোর বিরুদ্ধে মামলা করে ভূমি অফিস।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা ও ধরলা নদীর অববাহিকায় বালু খেকো চক্র প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বোমা মেশিন বসিয়ে উত্তোলন করছে ওই দুই নদীসহ বিভিন্ন পুকুর, ডোবা-নালা ও ফসলি জমির বালু। বেপরোয়া গতির এ বালু উত্তলনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে প্রতি বছর বন্যায় প্লাবিত হচ্ছে জেলার নতুন নতুন এলাকা। শুধু তাই নয়, পুকুর, ডোবা ও ফসলি জমি থেকে বালু উত্তোলনের ফলে আবাদি জমিগুলো পানির ধারণ ক্ষমতা হারিয়ে ফসলহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তিস্তা বা ধরলার অববাহিকা ছাড়াও গোটাa জেলায় শত শত মেশিনে উত্তোলন হচ্ছে বালু বা পাথর। উত্তোলনকারীদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না রাস্তা-ঘাট, রেলপথ, ব্রিজ ও বিভিন্ন স্থাপনার মোড়ও। এতে ভেঙে যাচ্ছে রাস্তা-ঘাট, ধসে পড়ছে ব্রিজ ও স্থাপনা।

সম্প্রতি সদর উপজেলার কুলাঘাট ওয়াবদা বাঁধের নিচে ধরলা নদীর তীরে ট্রাক ভরে বালু পাচারকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়শ্রী রাণী হানা দিলে মূল মালিকরা ট্রাক ফেলে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় ইউএনও`র নির্দেশে কুলাঘাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে মঙ্গলবার (২০ মার্চ) পাঁচ বালু খেকোর বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এছাড়া সদর উপজেলার মোঘলহাট ইউনিনের কর্ণপুর এলাকায় নৌকায় মেশিন বসিয়ে ধরলা নদী থেকে বালু উত্তোলনকালে ইউএনও অভিযান চালিয়ে বালু খেকোদের পাননি। এ ঘটনায় সদর থানায় বৃহস্পতিবার দুপুরে চার বালু উত্তোলনকারীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন মোগলহাট ইউনিয়নের উপ সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।

এদিকে, ইউএনও`র নির্দেশে স্থানীয় ভূমি অফিসের অভিযানে আদিতমারী উপজেলার তিস্তাসহ বিভিন্ন এলাকার অর্ধশতাধিক স্থানে মেশিনে বালু উত্তোলন সাময়িক বন্ধ হয়েছিল। কিন্তু এখন আবার পুরোদমে চলছে বালু উত্তোলন।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলন সাময়িক বন্ধ করা হলেও তা আবার চালু হয়ে যায়। এছাড়া মামলা করেও উত্তোলনকারীদের দমানো যাচ্ছে না। তাই ভ্রাম্যমাণ আদালতে বালু উত্তোলনের মেশিনসহ নানা সরঞ্জামাদি জব্দ করে ধ্বংস আর বালু উত্তোলনে সম্পৃক্ত যাদের আটক করা হয়, তাদের সাজা দেওয়া হোক। তাহলেই বালু উত্তোলন কমবে।

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম বলেন, বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

ইউএনও জয়শ্রী রাণী বলেন, বালু উত্তোলনের স্থানে মেশিন বা বালু মালিকদের পাওয়া যায় না। যারা থাকেন তারা সাধারণ শ্রমিক। প্রায় সময় সবাই মেশিন ফেলে পালিয়ে যায় এবং কেউ এদের নাম ঠিকানা দিতে রাজি হন না। তাই অনেক সময় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না। তাছাড়া সদর উপজেলাকে বালু উত্তোলন মুক্ত করতে সকলের সহযোগিতা দরকার।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech