সিএনজি চালকদের কাছে অসহায় রোগীর স্বজনরা

  

পিএনএস ডেস্ক: রাজধানীর শের-ই- বাংলা নগর এলাকায় জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের সামনে রাস্তায় বেশ কয়েকটা সিএনজি অটোরিকশা দাঁড়ানো। রোগীর সঙ্গে তাদের স্বজনরাও অনেকে বের হচ্ছেন হাসপাতাল থেকে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকছেন পরিবহনের জন্য। গন্তব্যে যেতে সিএনজি অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে দরদামও করছেন। বনিবনা না হওয়ায় আবার ফিরে আসছেন হাসপাতালের গেটের দিকে। বারবার এমন দৃশ্য দেখে এগিয়ে গিয়ে কথা বলে জানা গেল মূল কারণ।

পা ভেঙে যাওয়া শ্বশুরকে নিয়ে বাগেরহাট থেকে পঙ্গু হাসপাতালে এসেছেন আজগর আলী সিকদার। ভিতরে বেশ কিছুদিন যাবৎ চিকিৎসাধীন আছেন তার শ্বশুর। বয়স্ক শ্বশুরের সেবা করতে গিয়ে শাশুড়িও কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আর সেই শাশুড়িকে নিয়ে মিরপুর ১২ নম্বরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে যেতে চাচ্ছিলেন আজগর আলী। কিন্তু বিপত্তি বাধে সেখানেই। হাসপাতালের সামনে থাকা একটি সিএনজি সাড়ে তিনশ বা তিনশ টাকার নিচে যাবে না। অথচ স্বাভাবিকভাবে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা ভাড়া হওয়া উচিত বলে অভিযোগ আজগর আলীর।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালে থাকতে থাকতে অসুস্থ হয়ে যাওয়া একজন বয়স্ক মানুষকে আত্মীয়ের বাসায় রাখতে যাব। কিন্তু একটা সিএনজিও স্বাভাবিক ভাড়ায় যেতে রাজি হচ্ছে না। তারা দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করছে। আমরা তো গরিব মানুষ, কীভাবে এত ভাড়া বেশি দিয়ে যাই?

দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পায়ের চিকিৎসা পরবর্তী সেবা নিতে মায়ের সঙ্গে এসেছে অল্প বয়সী জয়নাল হক। সেবা নেয়া শেষে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে তারও একই অবস্থা। তিনি বললেন, পা ভালো থাকলে তো বাসেই চলে যেতাম। কিন্তু পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাই বাসে চড়ে যেতে পারছি না। এই অসহায়ত্ব দেখে সিএনজি চালকরা ভাড়া বেশি চাচ্ছে।

হাসপাতালের সামনে থাকা অস্থায়ী দোকানি খোরশেদ আলম এ বিষয়ে বলেন, প্রতিটি সিএনজি চালক রোগী ও রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে। মানুষের অসহায়ত্বকে পূঁজি করে এরা গলা কাটা ভাড়া নেয়। মানুষও হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে বেশি ভাড়ায় যেতে বাধ্য হয়। কারণ একজন রোগীকে নিয়ে বের হয়েছে তখন গাড়ির জন্য কতক্ষণ অপেক্ষা করবে? তাই বাধ্য হয়ে তারা যায়। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সিএনজি চালকরাও একজোট হয়ে ভাড়া বেশি চায়। তাই এসব অসহায় মানুষরাও ভাড়া নিয়ে দরদাম করার সুযোগ পায় না।

এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতেই সেখানে সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে অপেক্ষমাণ চালক মকিদুর রহমানের সঙ্গে আলাপ হয়। তিনি বলেন, ‘ভাই এখানে আমাগোরে বেশি একটা দোষ নাই। কারণ আমাগো সিএনজি জমা খরচ বেশি, এরপর হাসপাতালের সামনে সিএনজি নিয়ে দাঁড়ালে বিভিন্ন জনকে টেকা দেওয়ান লাগে, না হইলে এখানে দাঁড়াতে দেয় না। তাই অনেক সময় একটু বেশি ভাড়া নিই যাত্রীদের কাছ থাইকা।’

নিজের অসহায়ত্বের কথা উল্লেখ করে আরেক অপেক্ষমাণ রোগীর স্বজন হাবিব বললেন, এখান থেকে যাব কাজীপাড়া। কমপক্ষে ৬টা সিএনজি চালকের সঙ্গে কথা বলেছি, কেউ যাবে না। তবে দু’জন যেতে চায়, তারা ভাড়া নিবে ৩০০ টাকা। এতটুকু দূরত্বে এত টাকা ভাড়া হলে মানুষ কীভাবে যাবে? আর যেহেতু রোগী সঙ্গে আছে, আছে ব্যাগ-ব্যাগেজও তাই এরা সুযোগ বুঝে টাকা আদায় করতে চায়। আর যেহেতু আমরা এখন অসহায় তাই বাধ্য হয়েই তাদের চাহিদা অনুযায়ী বেশি ভাড়ায় যেতে হচ্ছে।

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech