‘আমার স্বপ্নের রাজ্যে ছিল বেনাপোল’

  

পিএনএস, বেনাপোল প্রতিনিধি : কিশোর বয়সে বেনাপোলের কথা অনেক শুনেছি। শুনতে শুনতে বেনাপোল ছিল আমার স্বপ্নের রাজ্যে। সেই বেনাপোলে আজ আসতে পেরে আমি নিজেকে গর্বিত ও ধন্য মনে করছি। আবেগ আপ্লুত কন্ঠে এই অভিব্যাক্তি প্রকাশ করেন যশোর নবাগত জেলা প্রশাসক মো: আব্দুল আওয়াল।

আজ মঙ্গলবার সকালে বেনাপোল পৌরসভা মিলনায়াতনে ’আরবান স্যানেটেশন:সিটি ওয়াইড ইনক্লসিভ স্যানিটেশন এনগেইজমেন্ট প্রকল্প’র উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে বেনাপোল পৌর সভা ও এসএনভির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এসময় আমন্ত্রিত অতিথিদের ফুল, ক্রেষ্ট ও উত্তেরীয় পরিয়ে সন্মনিত করা হয়। এই অনুষ্ঠানে পৌর মেয়র যশোর জেলা প্রশাসককে সন্মানিত নাগরিক ঘোষণা দিয়ে ফুল দিয়ে বরন করে নেন।

বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি, কাষ্টম ডেপুটি কমিশনার জাকির হোসেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর যশোর নির্বাহি প্রকৌশলী মঞ্জুর মোশারফ, এসএনভি-নেদারল্যান্ড ডেভোলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের টিম লেডার রাজিভ মুনানকামী ও প্রেজেন্টার সহিদুল ইসলাম,উপজেলা নির্বাহি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ প্রমুখ। এছাড়াও বিশিষ্টজনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ চৌধুরী,সাংবাদিক এম এ রহিম,বেনাপোল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াহেদ দুদু,পৌর কাউন্সিলার মিজানুর রহমান ও সঞ্চালক সুকুমার দেবনাথ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল বলেন,আমাদের সাধ অনেক কিন্তু সামর্থ্য সীমিত। এরপরও আজ আমরা নিজের পায়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আজ আমরা এশিয়ার বৃহত্তম পদ্মাসেতু বিশ্ব ব্যাংক বা অন্য কারও সাহায্য ছাড়াই নির্মান করছি,বঙ্গবন্ধ স্যাটেলাইট-১ উপগ্রহ মহাশূন্যে পাঠিয়েছি। আর এটা সম্ভব হচ্ছে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢতার কারনে। তিনি বলেন আজ মানব বর্জ্যও ফেলনা না। এটাকেও আমাদের সম্পদে পরিনত করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি এই কর্মশালা এই মানব বর্জ্য সম্পদে পরিনত করার জন্য একটি মাইল ফলক হয়ে থাকবে।
উল্লেখ্য,মানব বজ্য অথ্যাৎ মল-মুত্র,গৃহস্থলি আবর্জনাদি বা অন্যান্য জজ্ঞালাদি পৃথিবীর বহুদেশ সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাতকরনের মাধ্যমে বায়োগ্যাস যৌবসার ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের ২৩টি এলাকা চিহ্নিত করে বেনাপোল সহ৭টি এলাকায় বর্জর্ সম্পদের উপর কাজ শুরু হয়েছে।

এই অনুষ্টানে সভাপতির বক্তব্যে মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন,স্যানিটেশন ব্যাবস্থাপনায় বাংলাদেশ এখন প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। দেশের শতকরা ৯৮ভাগ মানুষ এখন পাকা, অর্ধপাকা ও কাচা পায়খানা ব্যবহার করছে। অথচ প্রতিবেশী দেশের কোথাও কোথাও শতকরা ৩০থেকে ৪০ভাগ মানুষ খোলা স্থানে মলমুত্র ত্যাগ করেন। আমাদেরকে আরো সচেতনভাবে কাজ করতে হবে, সজাগ হতে হবে যাতে আমরা একশ ভাগই স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটেশন ব্যাবস্থার আওতায় আসতে পারি। আসছে অর্থবছরেই বেনাপোলে কার্য্যক্রম শুরু হয়ে যাবে।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech