মৌলভীবাজারের বন্যা প্লাবিত এলাকায় সেনা মোতায়েন, ঈদ জামাতে দোয়া

  

পিএনএস ডেস্ক: মৌলভীবাজারের কয়েকটি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী।

এদিকে মৌলভীবাজার শহরও ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মধ্যেই ঈদ পালন করছে মৌলভীবাজারবাসী। প্রতিটি ঈদ জামাতে বন্যা থেকে রক্ষার জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়েছে।

শহরের হজরত শাহ মোস্তফা সংলগ্ন টাউন ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রায় ২৫ হাজার মুসল্লি অংশ নেন। নামাজ শেষে বন্যার্তদের জন্য বিশেষভাবে মোনাজাত করা হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে কুলাউড়া, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদরে সেনাবাহিনীর পৃথক পৃথক টিম কাজ করছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়া পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছে।

মৌলভীবাজার শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মনু নদে গত ১২ ঘণ্টায় ২০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে রাত ১২টায় বিপদসীমার ১৪৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। শহরের এম সাইফুর রহমান সড়কের বন্যা প্রতিরক্ষা দেওয়ালের বিভিন্ন ছিদ্র ও সংযোগের ফাঁক দিয়ে শহরে পানি প্রবেশের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে।

সেনাবাহিনীর একটি টিম বন্যা প্রতিরক্ষা দেওয়াল পরিদর্শন করে বন্যা প্রতিরক্ষা দেওয়ালের পাশে দ্রুত বালু ভর্তি বস্তা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী জানান, শহরের কাছে মনু নদের পানি আরও ২০ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেলে দেওয়াল উপচে এম সাইফুর রহমান সড়কে পরবে। দ্রুত বেগে পানি পড়ে সড়কের পিচ নষ্ট হয়ে রাস্তা দুর্বল হলে দেওয়াল ধসে পড়তে পারে। তখন সারা শহর ৭ থেকে ৮ ফুট পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সড়ক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্যা প্রতিরক্ষা দেওয়াল ধসে পড়তে না পারে তার জন্য সেনাবাহিনী বালুর বস্তা দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

এদিকে, বন্যাকবলিত কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর সড়কে শুক্রবার বিকালে বন্যার পানির স্রোতে দুই ব্যক্তি ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এরা হলেন আবদুস সাত্তার ও আবদুল করিম। জেলার বন্যাকবলিত কুলাউড়া, কমলগঞ্জ ও রাজনগর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এই দুর্যোগের মধ্যেও ঈদ উদযাপন করছে জেলাবাসী। শনিবার জেলা শহরে সকাল ৭টা, ৮টা ও ৯টায় হজরত শাহ মোস্তফা সংলগ্ন টাউন ঈদগাহ ময়দানে তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন যথাক্রমে মুফতি শামছুল ইসলাম, মাওলানা মহিবুর রহমান, ও মুফতি শামচ্ছুজ্জোহা।

জামাতের আগে বয়ান করেন সৈয়দ শাহ মোস্তফা দরগা জামে মসজিদের সানি ইমাম মাওলানা বজলুর রহমান।

প্রথম জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল, পৌর মেয়র ফজলুর রহমান, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।

এ ছাড়া জেলার সাতটি উপজেলায় ঈদগাহ মাঠসহ বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech