৭ মাসেই পাল্টে গেছে উপজেলার চিত্র! - মফস্বল - Premier News Syndicate Limited (PNS)

৭ মাসেই পাল্টে গেছে উপজেলার চিত্র!

  

পিএনএস, তানোর (রাজশাহী) সংবাদদাতা : মাত্র সাতমাসেই পুরো উপজেলার চাল-চিত্র পাল্টিয়ে দিয়েছেন জনবান্ধব ইউএনও মুহা: শওকাত আলী। তিনি চলতি বছরের ২২ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদে তানোর উপজেলায় যোগদান করেন। তারপর থেকে তিনি নিরন্তন কাজ করে যাচ্ছেন। রকমারি কাজের উদ্যোগ আর নিরলসভাবে কাজে ইতিমধ্যে তিনি শিক্ষা, সাং¯ৃ‹তিক, ক্রীড়া, বাল্যবিবাহ, মাদক, বৃক্ষরোপন, গণশুনানির ও সরজমিন পরিদর্শন পূর্বক বিচারকার্য সম্পন্নসহ বিবিধ কর্মে সফলতার ছাপ রেখে চলেছেন।

শুক্রবার কিংবা সরকারি ছুটির দিনেও তিনি কখনও অফিসে, কখনও বাহিরে কাজ করেন। ছুটে চলা এই ইউএনও এরিমধ্যে সাজিয়েছেন পুরো উপজেলা চত্বরকে মনোরম পরিবেশে। প্রকৃতি প্রেমিক ইউএনও এরি মধ্যে উপজেলা অফিসচত্বর, সম্মেলন কক্ষ সাজিয়েছেন বাহারি বৃক্ষের টব দিয়ে। গোল চত্বরে ফুলের বাগান, সানবাঁধানো পুকুর ঘাট। আর পুকুরে ফুটেছে লাল শাপলাফুল। পুকুরপাড় ঘিরে বসার পাকাস্থান। গাছে গাছে চুনকাম। কৃত্রিম ঝর্ণা। ঝর্ণার মধ্যে বিভিন্ন মাছের পোনা। তার কার্যালয় প্রবেশ পথের ওয়ালে ধর্মীয় কথা ও গুণীজনদের বাণী লেখা। উপজেলায় সেবাগ্রহীতাদের জন্য বিশ্রমাগার। গাড়ী রাখার গ্যারেজঘর। সব মিলেয়ে পুরো উপজেলা চত্বর এখন দৃষ্টিনন্দন চত্বর।

এ নিয়ে তানোর সাহিত্য পরিষদের উপদেষ্টা ও সমাজসেবক অধ্যাপক লুৎফর রহমান জানান, ইউএনও সাহেব সুন্দর মনের মানুষ। তাই উপজেলা পরিষদ চত্বর এতো সুন্দর। সবচেয়ে বড় কথা হলো তিনি খুব কর্মঠ মানুষ। ছুটির দিনেও কোন অনুষ্ঠানে দাওয়াত করলে ঠিক সময়ে চলে আসেন। অনেক অফিসার তো ছুটির দিনে আরাম আয়েশ করেন কিন্তু আমাদের ইউএনও সাহেব ছুটে চলে আসেন।

প্রতিনিয়ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান উন্নয়নের জন্য পরামর্শ আবার কখনও নিজেই ক্লাস নেন নৈতিকতা, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ওপর। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সততা ষ্টোর, সঠিক সময়ে উপস্থিতি ও দীর্ঘদিন ধরে কলেজ শিক্ষকরা সপ্তাহে ৪দিন ক্লাস নিতেন। তিনি তা পরিবর্তন করে ৬দিন ক্লাস নেয়ার ব্যবস্থা চালু করেন। ক্লাস ছাড়াও অতিরিক্ত সময়ে দুর্বল ও অসহায় শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে ক্লাস নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন তিনি। এছাড়া তার নির্দেশে প্রাইমারী থেকে ¯œাতক পর্যন্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রোভার/গালর্স গাইড দল গঠন করা হয়। বিভিন্ন জাতীয় দিবসে পিটি, প্যারেড ও মনোরম ডিসপ্লে প্রদর্শন ব্যধতামূলক করেন।

এ নিয়ে তানোর পৌরসভা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বি.এম কলেজের অধ্যক্ষ ইলিয়াস আলী মৃধা বলেন, ইউএনও স্যার খুব আন্তরিক মানুষ। আমাদের কলেজে সুন্দর টিচাররুম, উন্নত শৌচাগার তৈরি তার পরামর্শেই হয়েছে। শুধু তার কথা মতো নির্দেশ পালন করে উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় সংগীত ও পিটিপ্যারেডে ১ম স্থান অধিকার করেছি। এখন কলেজগেট ও বাউন্ডারীতেও তিনি সহায়তা করছেন। তিনি যেমন ভুল কাজ করলে কড়া নির্দেশ দেন, আবার ভালো কাজ করলে প্রশংসা করতে ভুল করেন না।

তিনি জঙ্গীবাদ, মাদক ও বাল্যবিবাহ নিয়ে কিছু সভা-সমাবেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বিশেষ জনসমাবেশ আয়োজন করেন। যেখানে পুরো উপজেলা সকল স্তরের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করে। এছাড়া সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে স্বর্ণকিশোরী ও সূর্যকিশোর নির্বাচিত করে মাদক, বাল্যবিবাহ ও জঙ্গিবাদের উপর মহাসমাবেশ করেন। তিনি এপর্যন্ত দুই শতাধিক বাল্যবিবাহ বন্ধ, শতাধিক বাল্যবিবাহের অপরাধে আটক এবং পাঁচটি বাল্যবিবাহ হওয়ার পরও পিতা-মাতাসহ বরকে কারাদন্ড দিয়েছেন। বজ্রপাত থেকে জীবন রক্ষার্থে তার উদ্যোগে পুরো উপজেলায় একদিনে একযোগে এক লক্ষ তালবীজ রোপন করা হয়। এ পর্যন্ত তিনি ৩০জন হতদরিদ্র শিক্ষার্থী ও ৫০জন অতিদরিদ্র শ্রমজীবীকে সহায়তা দিয়েছেন। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জীবনমান উন্নয়নে তিনি নিজ উদ্যোগে ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ এনছেন। তিনিই প্রথম তানোরে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা করেন। তানোরে প্রথম পূর্ণাঙ্গ বইমেলা, বিচিত্র সাজে বর্ষবরণ, বৈশাখীমেলা, নবান্ন পিঠা উৎসব ও সরকারের সাম্প্রতিক উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে সপ্তাহব্যাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গম্ভীরা গান ও নাটক মঞ্চস্থের ব্যবস্থা করেন। তিনি নিজে গান করেন এবং অন্যদের উৎসাহ দেন।

এ নিয়ে জাতীয় দেশজ পুরুস্কার প্রাপ্ত ছোট গল্পকার ও কবি মঈন শেখ বলেন, ইউএনও স্যার সাংস্কৃতিক প্রিয় মানুষ।তার প্রতিটি কর্মকান্ডের মধ্যে নান্দনিকতার পরিচয় মেলে। একজন প্রশাসক হিসেবে তিনি যেমন জনবান্ধব, তেমনি মানুষ হিসেবেও তিনি অত্যন্ত আন্তরিক।

তিনি বিলুপ্ত প্রায় হাডুডু, লাঠি, মোরগলড়াইসহ গ্রামীণ খেলাধুলা ও বরেন্দ্র অঞ্চলের আদি কবিগান ও আলকাপ গানের আয়োজন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষে অধ্যায়নরত তানোরের তসলিম উদ্দীন, জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ বিভাগের ৩য় বর্ষের তানোরের শিক্ষার্থী রবিন হালদার ও গুবিরপাড়া গ্রামের ফুটবল খেলোয়ার আনোয়ার হোসেন জানান, আমাদের দেখা ভালো ইউএনও মধ্যে শওকাত আলী স্যার অন্যতম। যখনই কোন প্রয়োজন হয় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনে তা করে দেন। উনার সবচেয়ে ভালো দিক উনি সৎ। একজন জনবান্ধব ইউএনও। একজন ভালো মনের মানুষ।

এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহা: শওকাত আলী বলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন পাই। তাই জনবান্ধব কাজ করে যাচ্ছি। ভালো কিছু কাজ বিবেকের তাড়নায় করি। কাজের বিনিময়ে কিছু পাওয়ার আশায় কাজ করি না। মানুষকে ভালবাসে আত্মতৃপ্তির জন্যই কাজ করি। তিনি আরো বলেন, মানুষের জন্য কিছু করতে পারলেই আমার স্বার্থকতা। কতটুকু করতে পেরেছি তার মূল্যায়ন করতে চাই না। কাজের মধ্যেই বেঁচে থাকতে চাই। বর্তমান সরকারের ভিশন জনগণের দোঁড়গড়ায় সততার সহিত পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি মাত্র।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech