বালু উত্তোলনের ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিককে কুপালো দুর্বৃত্তরা - মফস্বল - Premier News Syndicate Limited (PNS)

বালু উত্তোলনের ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিককে কুপালো দুর্বৃত্তরা

  

পিএনএস ডেস্ক : নবগঙ্গা নদীর তীব্র ভাঙনে দিশেহারা এলাকার বাসিন্দারা। তার ওপর নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। নদীভাঙন এবং ড্রেজার মেশিনের বালু উত্তোলনের ছবি তুলতে গেলে একজন সাংবাদিককে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে জখম করেছে। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাঁর ক্যামেরাও কেড়ে নেয়।

আজ রোববার দুপুরে নড়াইলের কালিয়া পৌরসভার বড় কালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর অবস্থায় সাংবাদিক মো. ফসিয়ার রহমানকে কালিয়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফসিয়ার রহমান কালিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং দৈনিক খবরের জেলা প্রতিনিধি।

আহত ফসিয়ার রহমান জানান, নবগঙ্গা নদীর তীব্র স্রোতে কালিয়া উপজেলার শুক্ত গ্রামের পালপাড়া ভাঙনের কবলে পড়ে প্রায় শতাধিক পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া এই এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্পটিও ভাঙনের কবলে। উপজেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। রোববার দুপুরে সরেজমিনে ওই এলাকায় দেখা যায়, নদীভাঙনকবলিত এলাকার অদূরে নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। নদীভাঙন এবং ড্রেজার মেশিনের ছবি তুলে বাড়ি ফেরার পথে কালিয়া পৌরসভার বড় কালিয়ায় পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ১০ থেকে ১২ জন দুর্বৃত্ত তাঁর মোটরসাইকেল থামিয়ে বেধড়ক লাঠিপেটা এবং কুপিয়ে জখম করে ফেলে রেখে যায়। তিনি দাবি করেন, দুর্বৃত্তরা বালু উত্তোলনকারীর লোক।

কালিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এ বি এম খালিদ সিদ্দিকী বলেন, নবগঙ্গা নদীর বৃ-হাচলা নামক স্থানে একটি বালুমহাল সুরভি এন্টারপ্রাইজের নামে ইজারা বন্দোবস্ত দেওয়া আছে। কিন্তু শুক্তগ্রাম এলাকায় কোনো বালুমহাল ইজারা দেওয়া নেই। তিনি বলেন, নদীভাঙন এলাকার আশপাশে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি আরও বলেন, বন্দোবস্ত দেওয়া বালুমহালের বাইরে বালু উত্তোলন করা হলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুরভি এন্টারপ্রাইজের মালিক কালিয়া যুবলীগের আহ্বায়ক মো. রবিউল ইসলাম। জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসন আমার প্রতিষ্ঠানের নামে যে বালুমহাল বন্দোবস্ত দিয়েছে, সেখান থেকেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর বাইরে আমার লোকজন বালু উত্তোলন করছে না। তিনি বলেন, কে বা কারা সাংবাদিক ফসিয়ার ভাইকে আঘাত করেছে, আমার জানা নেই।

কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শমসের আলী বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহত সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম জানা গেছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পিএনএস-জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech