শিল্পী হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ

  


পিএনএস, টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গৃহবধূ শিল্পী আক্তার (২৭) হত্যার প্রতিবাদে মূল আসামি ঘাতক স্বামী এএসআই ফিরোজ আল মামুন (৪০)সহ তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে।

আজ শুক্রবার অসহায় শিল্পীর পরিবার এবং ক্ষুব্দ এলাকাবাসী ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও কলেজ রোডের প্রেস ক্লাবের সামনে অবরোধ করে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। মির্জাপুর পুরাতন বাস স্টেশনের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবরোধ করে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

গত ১৩ আগস্ট বিকেলে উপজেলা সদরের বাওয়ার কুমারজানি পুর্বপাড়া গ্রামে চাঞ্চল্যকর এ খুনের ঘটনা ঘটে। একটি বিশেষ মহলের প্ররোচনায় প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করতে পুলিশ শিল্পী খুনের মূল নায়ক সেই ঘাতক পুলিশের এএসআই মামুনকে গ্রেফতার না করে তার অসহায় বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে আটক করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে নিহত শিল্পীর অসহায় পরিবার এবং এলাকাবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

মানববন্ধন শেষে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন লতিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: জাকির হোসেন, মামলার বাদী ও নিহত শিল্পীর ভাই মো: মোস্তফা মিয়া, মিল্টন চৌধুরী, রিপন মিয়া ও নুর মোহাম্মদ প্রমুখ।

আজ শুক্রবার মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে শিল্পীর অসহায় পরিবার অভিযোগ করেন, লতিফপুর ইউনিয়নের যুগিরকোপা গ্রামের শামসুদ্দিন সিকদারের মেয়ে শিল্পী আক্তার (২৭) ও বাওয়ার কুমারজানি পুর্বপাড়া গ্রামের কাশের মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া (৪০) সাথে প্রায় দুই বছর আগে বিয়ে হয়। শিল্পীকে বিয়ের আগেও এএসআই মামুন আরো দুইটি বিয়ে করেছিল। মামুনের কু-কর্ম জানতে পেরে লাইলীর সাথে ছাড়াছাড়ি হয় প্রথম স্ত্রীর। প্রথম স্ত্রীর কথা গোপন রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করে মামুন। ঐ ঘরে দুটি পুত্রসন্তান রয়েছে। দুই পুত্র জন্মের পর নানাভাবে অত্যাচার নির্যাতন করে দ্বিতীয় স্ত্রী আমেনাকে হত্যা করে মামুন। স্ত্রী হত্যার ঘটনায় একটি মামলাও রয়েছে মামুনের বিরুদ্ধে।

প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর কথা গোপন রেখে তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করে শিল্পী আক্তারকে। বিয়ের পর শিল্পী জানতে পারেন, তাকে বিয়ের করার আগেও মামুন পর পর দুইটি বিয়ে করেছে এবং তার সংসারে দুইটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। বাবা-মায়ের অভাবের সংসারের কথা মাথায় রেখে শিল্পী আক্তার স্বামী মামুনের বাড়িতে আগের ঘরের দুইটি সন্তানকে নিজের সন্তান বলে মানুষ করতে থাকে।

এদিকে বিয়ের পর থেকেই অন্যায়ভাবে শিল্পীকে নানাভাবে অত্যাচার নির্যাতন করে আসছিল বলে অভিযোগ করেছে তার ভুক্তভোগী পরিবার। শিল্পীর পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় এএসআই মামুনের অত্যাচার নির্যাতনের প্রতিবাদ করার সাহস পেত না।

মামুন বর্তমানে গাজীপুর জেলায় শিল্পাঞ্চল পুলিশে এএসআই হিসেবে কর্মরত।

শিল্পী ও মামুনের পরিবার জানায়, গত কয়েক দিন আগে মামুন ছুটি নিয়ে বাড়ি আসে। বাড়িতে এসেই নানা অজুহাতে স্ত্রী শিল্পীর উপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের এক পর্যায়ে ঘাতক মামুন বাড়িতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিল্পীকে কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে নিজের শীরে কুপিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ঘাতক মামুন।

আশপাশের লোকজন ঘটনা জানতে পেরে শিল্পীকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা শিল্পীকে মৃত ঘোষণা করে।

পুলিশ যাতে মামুনকে গ্রেফতার করতে না পারে সে জন্য মামুন গোপনে অন্যত্র চলে গেছে বলে নিহত শিল্পীর পরিবার অভিযোগ করেছে। পুলিশ প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন না করে ও ঘাতক মামুনকে গ্রেফতার না করে তার অসহায় বৃদ্ধ পিতা আবুল কাশেম ও মাতা অযুফা বেগমকে আটক করেছে।

মানববন্ধন শেষে প্রতিবাদ সমাবেশে খুনের ঘটনা ধামাচাপা এবং ঘাতক মামুনকে বাঁচানোর জন্য তার অসহায় পিতা-মাতাকে খুনের ঘটনায় ফাঁসানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শিল্পী ও মামুনের ঘনিষ্টজনরা বলেছে, তাদের সাথে কারো কোনো শত্রুতা ছিল না। শিল্পীকে হত্যা এএসআই মামুনের এটা সাজানো একটা নাটক।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল হক মিজান বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরেই সম্ভবত এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত ছাড়া সঠিক কিছু বলা যাচ্ছে না। শিল্পীর ভাই মোস্তফা মিয়া বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলার তদন্তে যাকে দোষী প্রমাণিত হবে তাকেই গ্রেফতার করা হবে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কমল সরকার বলেন, মামলার পর এএসআই মামুনের পিতা আবুল কাশেম ও মাতা অযুফা বেগমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। খুনের সঠিক রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য চেষ্টা চলছে। পুলিশের নজরদারীতে মামুন চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech