রাজাপুরে টুং টাং শব্দে মুখরিত কামারপারা

  

পিএনএস, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে কামার শিল্পীরা। দম ফেলাবারও যেন সময় পাচ্ছেনা তারা। দিন রাত টুংটাং শব্দে মুখরিত হচ্ছে হাট বাজারসহ কামারবাড়িতে।

সরজমিনে ঘুরে যায়, কামার শিল্পীরা রাজাপুরের বাঘরি বাজার হাট, রাজাপুর বাজার, বাইপাস মোড়, লেবুবুনিয়া বাজার,কাঠিপাড়া,পাকাপোল,গালুয়া বাজার,উত্তমপুর,পুটিয়াখালিসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কামারদের বাড়িতে কামাররা সরঞ্জাম তৈরি করছেন। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দা,বটি,চাকু,চাপাতিসহ বিভিন্ন সরজ্ঞাম তৈরি করছে কামাররা। রাত দিন টানা পরিশ্রম করে এসব জিনিসপত্র তৈরি করছেন তারা। এসব ব্যবহার্য্য জিনিস স্থানীয় চাহিদা মিটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারি ব্যবসায়ীরা নিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাজার থেকে লোহা কিনে সেগুলো আগুনে পুরে দা,বটি,চাপাতি,চাকুসহ বিভিন্ন জিনিস পত্র তৈরি করছে কামার মিল্পীরা। এসময় তারা যন্ত্রপাতি বিক্রি করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করে থাকেন। বর্তমান আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চললেও পবিত্র ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে জমে উঠেছে এ শিল্প।

রাজাপুর বাজারের কামার শিল্পী রাজ্জাক কর্মকার জানান, এক সময় কামারদের যে কদর ছিল বর্তমানে তা আর নেই। মেশিনের সাহায্যে বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে ফলে আমাদের তৈরি যন্ত্রপাতির প্রতি মানুষ আকৃষ্ট হারাচ্ছে। হয় তো বা এক সময় এই পেশা আর থাকবে না। তবে কোরবানির ঈদের সময় আমরা একটু আশাবাদী হই। কামার শিল্পী কৃঞ কর্মকার বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষেরা এই কাজ করে আসছে সারা বছর তেমন কোন কাজ না থাকলেও কোরবানীর সময় আমাদের কাজের চাহিদা বেড়ে যায়। এ ব্যাপারে রাজাপুর বাইপাস মোড়ে দিপক কর্মকার বলেন, এই পেশায় আমরা যারা আছি তারা খুবই অবহেলিত। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের দাম বেশি হলেও সে অনুযায়ী আমরা ন্যাযমূল্য পাইনা। এই পেশায় থেকে সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হয়। সরকারী কোন আর্থিক সহযোগিতা না পেলে হয়তো এ শিল্প একদিন হারিয়ে যাবে।

কামার শিল্পীরা জানান, বর্তমান বিদেশ থেকে আমদানিকৃত আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারের ফলে কৃষি কাজে ব্যবহার করা দেশীয় তৈরি সব পুরনো উপকরন আর তেমন ব্যবহার করা হচ্ছে না। প্রযুক্তি নির্ভর কৃষিতে লোহার তৈরি পুরনো সব উপকরনের যোগ্যতা এখন আর নেই বললেই চলে। কৃষি উপকরনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরিতে জড়িত কামার শিল্পীদের প্রায় সারা বছর কাজ নেই বললেই চলে। আর এতে করে অভাব অনটনের মধ্যে দিয়ে তাদের চলতে হয়। কিন্তু প্রতি বছর কোরবানির ঈদের সময় ব্যস্ত সময় পার করেন কামার শিল্পীরা।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech