নড়িয়ায় পদ্মার পেটে বিলাশবহুল বাড়ি

  


পিএনএস, শরীয়তপুর: ফের পদ্মায় ভাঙন শুরু হয়েছে। আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন নদী পাড়ের মানুষ। শনিবার (১৮ আগস্ট) রাতেও শরীয়তপুরের নড়িয়ায় হযরত খাজা মঈন উদ্দিন চিশতী (গাজী কালুর মেহমান খানা) নামে চারতলা বিলাসবহুল বাড়িটি পদ্মার গর্ভে চলে গেছে। একই সময় পদ্মার পেটে গেছে খান বাড়ি জামে মসজিদ ও মোহাম্মদ দিলু খার দোতলা পাকা বাড়িটিও।

এখনো নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মূলফৎগঞ্জ বাজারটি সম্পূর্ন ঝুঁকিতে রয়েছে । তাই এসব স্থানে থাকা সব ধরনের মালামাল ও স্থাপনা যত দ্রুত সম্ভব সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। যেকোনো সময় ক্ষুদার্থ পদ্মা গ্রাস করে নিতে পারে বাজার ও হাসপাতালটিতে।

শুধু তাই নয় শনিবার দুপুরে পদ্মা নদীর গর্ভে চলে গেছে নড়িয়া-মূলফৎগঞ্জের একমাত্র সড়কের নড়িয়া বাঁশতলা থেকে পূর্ব নড়িয়া মূলফৎগঞ্জ বাজার পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক।

শরীয়তপুরের নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলায় ফের পদ্মায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। দিন যত পার হচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ভাঙন ততই তীব্র আকার ধারণ করছে। ভাঙনে দিশেহারা মানুষগুলো নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। তাই ভাঙন প্রতিরোধে সরকারের কাছে দ্রুত বেড়িবাঁধের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

মাহমুদুল হাসান শাকুরী জানান, শনিবার দুপুরে ওই বাড়িটির ছবি মোবাইলে তুলেছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় রাতে শুনলাম বাড়িটি পদ্মার গর্ভে চলে গেছে। এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে শরীয়তপুরের মানচিত্র থেকে নড়িয়া হারিয়ে যেতে খুব বেশি দিন লাগবে না।

আলিমুজ্জামান জানান, নড়িয়া উপজেলার সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, ঘরবাড়ি, দোকান ঘর, গাছপালা, ফসলি জমি পদ্মায় তলিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই। তাই খুব দ্রুত নড়িয়া উপজেলা রক্ষায় পদ্মা নদীর ডান তীরে বাঁধের পদক্ষেপ নেয়া উচিত বাংলাদেশ সরকারের।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ভাঙন শুরুর বিষয়টি ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পদ্মার ভাঙন প্রতিরোধে খুব শিগগিরই বেড়ি বাঁধের কাজ শুরু করা হবে।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াসমিন বলেন, বিলাসবহুল বাড়িটি পদ্মায় তলিয়ে গেছে শুনে সকালে সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ দিক অথবা অক্টোবরের প্রথম দিকে ভাঙন কবলিত নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার ৯ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধের কাজ শুরু করবে সরকার।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech