আবহাওয়া পরিবর্তনে মানিকগঞ্জে শীতের আমেজ

  

পিএনএস ডেস্ক : জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব এবং আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শীত মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই এবার মানিকঞ্জের গ্রামাঞ্চলে শীত পড়তে শুরু করেছে।

সেই সাথে কুয়াশার চাঁদরে ঢেকে যাচ্ছে মাঠ, ঘাট। বদলে যাচ্ছে প্রকৃতি। ষড়ঋতুর দেশে শীত নিয়ে আসছে উৎসবের আমেজ। শরতের বিদায়লগ্নে জেলার পিচঢালা রাজপথে রাতে পড়ছে ঘনকুয়াশা। শিশির ভেজায় শীক্ত হয়ে পড়ছে ফসলের মাঠ। শুরু হয়েছে আমন ধান কাটা। কৃষকের গোলায় উঠছে আমন ধান। কৃষকের ঘরে ঘরে চলছে নব্বান্ন উৎসবের প্রস্তুতি। অন্যান্য বছর সাধারণত অগ্রায়ণ মাসের মাঝা-মাঝি থেকে শীত পড়তে শুরু করে। কিন্ত এবার কার্তিকের শেষ সপ্তাহ থেকেই এ এলাকায় রাতের বেলায় শীত পড়ছে। ষড় ঋতুর দেশ হিসেবে পৌষ-মাঘ এ দু’মাস শীতকাল ধরা হয়।

সে অনুযায়ী শীত মৌসুম শুরু হওয়ার আরও এক মাস বাকী রয়েছে। জলবায়ুর পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রকৃতিও যেন বদলে যাচ্ছে। প্রতিদিন সন্ধার পর থেকেই ধীরে ধীরে শীতের প্রকোপ বাড়াচ্ছে।শীতের আগমনী বার্তায় প্রস্তুতি হচ্ছে লেপ-তোষকের দোকানীরা এবং খেঁজুর গাছ কেটে রস আহরণকারী গাছিরা। পাশাপাশি গ্রাম বাংলায় চলছে পিঠা, পুলি ও পায়েশ খাওয়ার প্রস্তুতি।

জানা গেছে, অন্যান্য বছর জেলার গ্রামাঞ্চলে অগ্রায়ণ মাসের শেষের দিক থেকে শীত পড়তে শুরু করে। কিন্ত এবার অগ্রায়ণ মাস আসার আগে কার্তিক মাস থেকেই শীত পড়তে শুরু করেছে। জেলার চরাঞ্চলে আস্তে আস্তে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। ব্যস্ত লেপ-তোষকের দোকনের কারিগররা। খেঁজুর গাছ কেটে রস আহরনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে গাছিরা। শীত নিবারনের জন্য জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে লেপ-তোষকের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে।

জেলার সর্বত্র চলছে শীতকে বরণ করে নেওয়ার জোর প্রস্তুতি। ধুম পড়ে গেছে লেপ-তোষক বানানোর। বিত্তবান ও মধ্যবিত্তরা লেপ-তোষকের দোকানে ভিড় করলেও দরিদ্ররা রয়েছে আতংকের মধ্যে। বিশেষ করে জেলার শিবালয়- দৌলতপুর ও হরিরামপুর উপজেলার চঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষের জন্য শীত আসছে আতংকের বার্তা নিয়ে। শীতের আগমনকে ঘিরে গরম কাপড়ের মৌসুমী ব্যাবসায়ীরাও সুযোগ নিচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বাড়িয়ে দিয়েছে লেপ-তোষকের দাম। নতুন নতুন অর্ডার নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

শিবালয়ের লেপ-তোষক ব্যাবসায়ী আব্দুর রউফ জানান, তুলা, কাপড় এবং মজুরি মিলিয়ে একটি লেপ তৈরিতে খরচ হয় ১২’শ থেকে ১৫’শ টাকা। ১৬’শ থেকে ২ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারলে হয়ত লাভ থাকবে। তবে তুলা এবং কাপড়ের দাম আরও বেড়ে গেলে লেপ-তোষকের দামও আরো বেড়ে যাবে বলে সে জানায়।

এদিকে বাজারে হরেক রকমের শীতের সবজি উঠতে শুরু করেছে। কিন্ত নতুন সবজির দাম অনেক বেশি। জেলার শিবালয়, হরিরামপুর ও সাটুরিয়ায় এ বছর প্রচুর পরিমাণে শীতকালিন সবজি উৎপন্ন হয়েছে। এসব শীতকালিন সবজির তালিকায় রয়েছে আলু, বেগুণ, বরবটি, ধনেপাতা, শিম, টমেটো, লাউ, মুলা, ফুলকপি ও পাতাকপি।

খেঁজুর গাছ ঝোড়ার কাজ শুরু করেছে গাছিরা। আর হয়ত এক সপ্তাহের মধ্যে গাছিরা খেঁজুর রস আহরণ শুরু করবে। বাজারে উঠবে সুস্বাদু নতুন পাটালি গুড়। পাশাপাশি রস জ্বালানোর জন্য চুলা তৈরীতে ব্যস্ত রয়েছে গৃহিনীরা। শীতের আগমনিতে জেলার কুমার পাড়াও ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। তারা গাছিদের রস সংগ্রহ এবং জ্বাল দেওয়ার জন্য হাড়ি ও পাতিল (জ্বালা) তৈরির কাজে ব্যস্ত রয়েছে। সবমিলিয়ে অন্যান্য বছরের মত এবারও শীতের আগমনে মানিকগঞ্জের গ্রামাঞ্চলে চলছে শীতকে বরণ করে নেওয়ার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech