আ.লীগ নেতাদের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক রণক্ষেত্র

  

পিএনএস ডেস্ক : নারায়ণগঞ্জের বন্দরে পরিবহন স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আওয়ামী লীগের এক নেতার ওপর অপর নেতা ও তার অনুসারীদের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে ৫ পুলিশসহ কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে এক পক্ষের নেতা খলিলুর রহমান ওরফে খলিল মেম্বারের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহত পুলিশ সদস্যসহ অন্যরা স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কিছু টিয়ারশেল ও শটগানের গুলি ছোঁড়ে। রোববার দুপুরে মদনপুরের উত্তরা সুপার মার্কেটের সামনে ওই ঘটনা ঘটে।

প্রতিপক্ষের হামলায় আহত খলিলুর রহমান মদনপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার। আর হামলাকারী আমির হোসেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত। তাদের দু’জনের মধ্যে মদনপুর স্ট্যান্ডের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর আগেও এই স্ট্যান্ডের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাদের দুই জনের অনুসারীদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন মদনপুর স্ট্যান্ডের ৫শ’ ইজিবাইক ও সিএনজি থেকে গড়ে ২৫ হাজার টাকা চাঁদা উঠানো হয়। এ নিয়েই উভয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।

খলিল মেম্বারকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে তার অনুসারীরা মাইকে ঘোষণা দিয়ে বন্দরের মদনপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে এবং প্রতিপক্ষ আমির হোসেন ও তার অনুসারীদের বাড়ি ঘর ও মার্কেটে হামলা চালিয়ে ভাঙ্গচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

ওই সময় আমির হোসেন ও তার লোকজন প্রতিরোধ গড়ে তুললে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পর্যায়ে আমির হোসেন ও তার অনুসারীরা পিছু হটলে খলিল মেম্বারের লোকজন পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর টায়ার জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। খলিল মেম্বারের ক্ষুব্ধ অনুসারীরা ওই সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বেশ কিছু যানবাহন ভাংচুর করে। দীর্ঘ সাড়ে ৩ ঘণ্টা অবরোধের কারণে ওই সড়কটিতে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়।

পরে বিকেল ৪টার দিকে সাজোয়া যান নিয়ে দাঙ্গা পুলিশ এবং র‌্যাব ঘটনাস্থলে গিয়েও পরিস্থিতি শান্ত করতে ব্যর্থ হয়। মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ সালাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে হামলারকারীদের আইনে আওতায় আনা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলে উত্তেজিত গ্রামবাসী শান্ত হয়ে রাস্তা থেকে সরে যায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হাফিজউদ্দিন জানান, মদনপুর এলাকায় অবস্থিত উত্তরা সুপার মার্কেটের ভেতরে খলিল মেম্বারের অফিস। রোববার দুপুরের দিকে খলিল মেম্বার তার দুই সহযোগীকে নিয়ে একটি চায়ের দোকানে গিয়ে বসেন। এসময় স্থানীয় নবীর হোসেনের ছেলে সোহেল, যুবলীগ নেতা আমির হোসেন তার সহযোগী বদু মিয়া ওরফে লেংড়া বদু ও চাঁনপুরের নুরু মিয়ার ছেলে বিল্লালসহ ২০-২৫ জনের একটি দল চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, হকিষ্টিক নিয়ে খলিল মেম্বারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। মাথায়, বুকে, পিঠে ও পায়ে-হাতে ধারালে অস্ত্রের কোপে খলিল মেম্বার মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঘটনাস্থলের অদূরে দি বারাকাহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থা বেগতিক দেখলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।

খবর পেয়ে বন্দর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধরা পুলিশের উপর চড়াও হয়। ওই সময় খলিল মেম্বারের অনুসারীদের নিক্ষিপ্ত ইটপাটকেলের আঘাতে বন্দর থানা এএসআই শামীমসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন।

ওই সময় পুলিশ নিরুপায় বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যর্থ চেষ্টা করে।

বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজাহারুল ইসলাম জানান, ইউপি সদস্য খলিলুর রহমানকে কুপিয়ে জখম করে সন্ত্রাসীরা। খলিল মেম্বারের পক্ষ নিয়ে তার অনুসারীরা সড়কে তাণ্ডব চালায়।
হামলাকারীদের আইনের আওয়তায় এনে গ্রেফতারের প্রতিশ্রুতি দিলে তারা রাস্তা থেকে সরে যায়। তবে হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান চলছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব সদস্যরা টহলে দিচ্ছেন।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech