গফরগাঁয়ে সিকিউরিটি গার্ডের রহস্যজনক মৃত্যু

  

পিএনএস, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বেসরকারি কারখানার সিকিউরিটি গার্ড সৈয়দ হোসেন (৫০) লাশ উদ্ধার করেছে পাগলা থানা পুলিশ। সৈয়দ হোসেন গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানাধীন টাঙ্গাব ইউনিয়নের পাঁচাহার গ্রামের বাসিন্দা এবং পার্শ্ববর্তী শ্রীপুরের মাওনার মাস্টারবাড়ীতে একটি বেসরকারি কারখানার সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতেন।

শনিবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) রাতে সৈয়দ হোসেন নিখোঁজ হন। নিখোঁজ হওয়ার ৪/৫ ঘন্টা পর নির্জন বিলপাড়ে স্থানীয়রা তার অর্ধমৃত দেহ পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

পরিবারের লোকজনের দাবি, দাম্পত্য কলহের জের ও পূর্বের মামলার ঘটনায় ওই ব্যক্তিকে পরিকল্পিতভাবে তার দ্বিতীয় স্ত্রী’র পক্ষের লোকজন হত্যার উদ্দ্যেশ্যে মুখে বিষ ঢেলে দিয়েছে।

নিহতের মেয়ের জামাই মোঃ শাহীন বলেন, তার শ্বশুর সৈয়দ হোসেনের প্রথম স্ত্রী চার ছেলে-মেয়ে রেখে এক বছর আগে মারা যায়। পরে ৬/৭ মাস আগে পার্শ্ববর্তী বিরই গ্রামে দ্বিতীয় বিয়ে করেন সৈয়দ হোসেন। বিয়ের পর থেকে দ্বিতীয় স্ত্রী’র বেপোয়ার আচরণে সংসারে অশান্তি নেমে আসে। কয়েক মাস না যেতেই দ্বিতীয় স্ত্রী তার স্বামীর জমানো সংসারের নগদ টাকাসহ অন্য জিনিসপত্র নিয়ে পিত্রালয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় স্ত্রী’র বিরুদ্ধে পাগলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন স্বামী সৈয়দ হোসেন। এরপর থেকে স্ত্রী ও তার স্বজনরা সৈয়দ হোসেনকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছিল।

নিহতের ছেলে সাইদুল বলেন, ‘শুক্রবার দিন সন্ধ্যা থেকে বাবাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে রাত অনুমান ৯টার দিকে স্থানীয় লোকজনের খবরে বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে একটি বিলপাড়ে তাকে বিষপান অবস্থায় অর্ধমৃত উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার শরীরের জামা-কাপড় ছেঁড়া ছিল। পরে দ্রুত গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

খবর পেয়ে শনিবার দুপুরে পাগলা থানার এসআই মোঃ জেলকদ গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে লাশের সূরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন। তবে তার শরীরের কোথাও আঘাতের আলমত ‎পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এব্যাপারে পাগলা থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে বলে আরও জানান পাগলা থানার এসআই মোঃ জেলকদ।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল




 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech