বিরল রোগে আক্রান্ত জামালপুরের ফারুক

  

পিএনএস ডেস্ক : জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের বিচতিয়াপাড়া গ্রামে ‘নিউরোফাইব্রোমেটোসিস’ নামক এক বিরল রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ফারুক আহমেদ (৪০)। তার ডান হাত অস্বাভাবিক ভাবে ফুলে গেছে ও ওজন বেড়ে ঝুলে গেছে এবং হাত বেকে যাওয়ার পাশাপাশি বুকে ও পিটে একই সিনড্রোম দেখা দিয়েছে ।

এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা ধারনা করছেন দেশে এ রোগে আক্রান্ত ফারুকই পুরুষদের মধ্যে প্রথম।

ফারুকের বড় ভাই নুরুজ্জামান লিটন জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় আমরা প্রথমে বিষয়টি নিয়ে কোন কিছু ভাবিনি। তখনও হাটাচলা করতে পারতো। ভারী কাজ না করতে না পারলেও সকল কাজে সে সহযেগিতা করতো।

জানা যায়- ১৯৯১ সালের দিকে ফারুক এস.এস.সি পাশের পর থেকেই আস্তে আস্তে এই বিরল রোগে আক্রান্ত হয়। তার ডান হাত ও শরীরের ডান দিকের মাংস বাড়তে থাকে।সেই সময়ে পরিবারের লোকজন ফারুককে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা কোন প্রকার রোগ নির্ণয় করতে ব্যর্থ হয় ।

গত সপ্তাহে ফারুকের আক্রান্ত ডান হাতে গুটি জাতীয় ফোড়া বের হয়ে অস্বাভাবিক ভাবে ওজন বেড়ে যায় এবং সেই ফোড়াটি ফেটে রক্ত পড়তে থাকে । অবস্থার অবনতি দেখে তার পরিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ইয়েলো ওয়ার্ডের এক্সটা ওয়ান বেডে ডাক্তার প্রফেসর নওয়াজেশ আলী খানের তত্ত্ববধানে আছেন ফারুক। কতর্ব্যরত ডাক্তাররা জানান, এটা দেখে নিউরোফাইব্রোমেটোসিস নামক জাতীয় বিরল রোগ বলেই মনে হচ্ছে। এটি একটি বংশগত রোগ।

তারা আরো জানান, ফারুকের রোগের সমস্যা গুলো খোঁজে চিহ্নিত করে চিকিৎসা করা হবে। তার জন্য ইতিমধ্যে ফারুকের শরীরের আক্রান্ত স্থান সহ শরীরের বিভিন্ন অংশের ছবি নেওয়া, বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে।

স্থানীয়রা জানান- ফারুক ১৯৯১ সালে স্থানীয় নারিকেলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি পাশ করেন এবং জামালপুর সরকারী আশেক মাহমুদ কলেজে এইচ.এস.সিতে ভর্তি হন। পরে ডান হাতে অস্বাভাবিক ভাবে ফুলে বড় হয়ে যাওয়ার কারণে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায় তার।

ফারুক এ পৃথিবীতে এসেছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে।

সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের বিচতিয়া পাড়া গ্রামের মৃত তৈয়ব আলী’র পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন ফররুখ আহমেদ ওরফে ফারুক । গ্রামের মধ্যবৃত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া ফারুক ৬ ভাইয়ের মধ্যে ৩য়।

কিভাবে ফারুক এই বিরল রোগ থেকে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে তা নিয়ে পরিবারের উদ্বেগ আর উৎকন্ঠার শেষ নেই।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech