ঐতিহ্যকে উপেক্ষা করে বনবিবি দিবস পালনের উদ্যোগ

  

পিএনএস, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : একটি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ৩১মার্চ বনবিবি দিবস ঢাকায় উদযাপনের উদ্যোগকে ভালো ভাবে নিচ্ছেন না উপকূলী বিভিন্ন সংগঠন। ওই উন্নয়ন সংস্থা স্থানীয় মতামতকে উপেক্ষা করে এমন উদ্যোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুন্দরবন সংলগ্ন জনপদের বনবিবি মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ, সুন্দরবন ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সুধীজনরা। প্রতিবছর জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে ১লা মাঘ (পঞ্জিকা মতে) বনবিবি’র পূজা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অথচ একটি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা এটাকে উপেক্ষা করে ৩১ মার্চ বনবিবি দিবস উদযাপন করার সিদ্ধান্ত ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করছে।

ফেসবুকে বনবিবি দিবস ২০১৯ নামে একশন এইড এর পেজ থেকে জানা গেছে, সুন্দরবনের জঙ্গলে বসবাসকারী জনগোষ্টীরা বনবিবিকে পূজা দিয়ে থাকে। ধারণা করা হয় যে, বনবিবি সবসময় তাদের সঙ্গে থাকেন। রক্ষা করেন সকল প্রকার বিপদ থেকে। এই ধারণা থেকে তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্যমী নারীদের বনবিবি হিসাবে স্বীকৃতি দিতে চায়। ইতিমধ্যে যারা বনবিবি হিসাবে সমাজ পরিবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে তাদের সামনে আনতে চায়, যাতে অন্যরাও উৎসাহিত হয় বনবিবি হয়ে উঠতে। এই যুক্তির ভিত্তিতে একশন এইড বনবিবি দিবস পালন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যা সুন্দরবন ভিত্তিক ইতিহাস ঐতিহ্য ও ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করা হবে বলে মনে করছেন উপকূলী মানুষরা।

বনবিবি বা বনদেবী বা ব্যাগ্র দেবী একই সাথে হিন্দু ধর্মের দেবী ও বন সংলগ্ন মুসলীম সম্প্রদায়ের পীরানি। সুন্দরবনের বাংলাদেশ ও ভারতীয় অংশের আশেপাশের এলাকার জেলে, মৌওয়ালী ও বাওয়ালী জনগোষ্ঠী বাঘের আক্রমন হতে রক্ষা পেতে বনবিবির পূজা করেন। সুন্দরবন অঞ্চলের লোকালয়ে বনবিবি হিন্দু, মুসলমান নির্বিশেষে পূজিত হন। বনজীবিদের কাছে স্বমহিমায় পূজিত দেবীর নাম বনবিবি। তিনি অরণ্যের দেবী রূপে পূজিতা। বনজীবীদের ধারণা বাঘ ও ভূত-প্রেতের মত অপশক্তির উপর কর্তৃত্ব করেন বনবিবি। তাই গভীর বনে কাঠ, গোলপাতা, মধু ও মোম সংগ্রহ বা মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য বনবিবির উদ্দেশ্যে শিরনি দেন ক্ষীর বা অন্ন। একমাত্র সুন্দরবন কেন্দ্রিক জনপদে বনবিবির পূজা হয়। শুধু বাংলাদেশে নয় ভারতের সুন্দরবন জনপদে ব্যাপক আয়োজনে বনবিবির পূজা অনুষ্ঠিত হয়। তাই বনবিবি দিবস নামে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্যমী নারীদের বনবিবি হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হলে তা হবে ধর্মের উপর আঘাত ও অবমাননার শামিল। তাই উদ্যোক্তাদের বনবিবির নাম ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়েছে সুন্দরবন উপকূল অঞ্চলের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট জেলার সুন্দরবন সংলগ্ন উপজেলা গুলিতে প্রতিবছর বনবিবির পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সাতক্ষীরার দেবহাটায় অতিত আর ঐতিহ্যে ভরা বনবিবির বটতলা রয়েছে। প্রায় ২একর জমি জুড়ে এই বটতলা। প্রতিবছর স্থানীয়দের উদ্যোগে ১লা মাঘ হাজতমেলা ও বনবিবির পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

এ বিষয়ে উপকূল অঞ্চলের পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতা সাংবাদিক প্রকাশ ঘোষ বিধান জানান, সুন্দরবন ঘিরে বনবিবি’র উপখ্যান বনের রাণী বনবিবি ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে তার পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এটা শুধু একমাত্র সুন্দরবন কেন্দ্রিক সুন্দরবনের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিশ্বাস বনে থাকতে দিন। সুন্দরবন ও তার ইতিহাস ঐতিহ্য রক্ষা করার দায়িত্ব সকলের।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল




 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech