নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘটে ঢাকাগামী লঞ্চযাত্রা বাতিল, বরিশালে বিপাকে যাত্রীরা

  

পিএনএস, বরিশাল : নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে বরিশাল থেকে ঢাকাগামী লঞ্চগুলোর যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এতে করে বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। লঞ্চযাত্রা বাতিলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় কেবিন যাত্রীদেরও। অনেকেই আগে থেকে কেবিনের টিকিট কেটেছিলেন। ধর্মঘট প্রত্যাহারের আশায় তারা সন্ধ্যার পর থেকে বরিশাল নদীবন্দরে উপস্থিত হন। তবে রাত সাড়ে ৮টার দিকে লঞ্চ টার্মিনালে অপেক্ষারত যাত্রীদের চলে যেতে বলা হয়।

এদিকে ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকেই যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো পন্টুন থেকে সরিয়ে মাঝনদীতে নোঙর করে রাখা হয়। এ কারণে সকাল থেকে বরিশাল নৌবন্দর থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী সকল নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ধর্মঘটে বরিশালের নদীপথ অচল হয়ে যায়। যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা।

তবে কম দূরত্বের অনেক যাত্রী ঝুঁকি নিয়ে ট্রলার কিংবা স্পিডবোটযোগে গন্তব্যে রওনা দেন। অনেকে আবার দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ফিরে যান। কেউ কেউ দীর্ঘক্ষণ লঞ্চ ধর্মঘট প্রত্যাহারের আশায় অপেক্ষা করতে থাকেন।

মজুরি বৃদ্ধি এবং নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধসহ ১১ দফা দাবিতে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে সারাদেশে অবিরাম ধর্মঘট শুরু করেছেন নৌযান শ্রমিকরা।
মঙ্গলবার বিকেলে নদীবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা পন্টুনে অপেক্ষা করছেন। বিশেষ করে বরিশাল থেকে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম নৌযান বন্ধ থাকায় বরিশাল-ভোলা, বরিশাল-মজুচৌধুরীরহাট ও বরিশাল-মেহেন্দিগঞ্জ রুটের যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ নেই।

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের বরিশাল জেলা সাধারণ সম্পাদক মাস্টার একিন আলী জানান, সকাল থেকে অভ্যন্তরীণ ১৩টি রুটে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পণ্যবাহী নৌযানও চলছে না।

তিনি বলেন, রাতে বরিশাল-ঢাকা রুটের লঞ্চও চলাচল করবে না। ধর্মঘটি নৌযান শ্রমিকরা সকাল থেকে বন্দরসংলগ্ন নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন কার্যালয়ে অবস্থান করছেন।

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের বরিশাল জেলা সভাপতি আবুল হাসেম মাস্টার জানান, দাবি আদায়ে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন তারা। এ সময়ের মধ্যে তাদের দাবি আদায় না হওয়ায় অবিরাম কর্মবিরতি শুরু করেছেন নৌযান শ্রমিকরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন নৌযান শ্রমিকদের এ নেতা।

ঢাকা-বরিশাল নৌপথের বিলাসবহুল সুন্দরবন লঞ্চের ব্যবস্থাপক আবুল কালাম ঝন্টু বলেন, অনেকেই কেবিন বুকিং বা অগ্রিম টিকিট কেটে রেখেছিলেন। লঞ্চযাত্রা বাতিল হওয়ার কারণে তাদের টাকা ফেরৎ দেয়া হয়েছে। জনদুর্ভোগের কথা ভেবে শ্রমিক ভাইদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয়া উচিত। আলোচনার মাধ্যমে তাদের দাবি আদায় সম্ভব।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বরিশাল নৌ-নিরাপত্তা শাখার উপ-পরিচালক ও বন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু বলেন, পন্টুনে লঞ্চ না থাকায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে অপেক্ষারত যাত্রীদের মাইকিং করে চলে যেতে বলা হয়।

তিনি বলেন, বরিশাল নদীবন্দর থেকে প্রতিদিন ১৩টি অভ্যন্তরীণ রুটে বেসরকারী নৌযান চলাচল করে। কিন্তু ধর্মঘটের কারণে বেসরকারি কোনো নৌযান ছেড়ে যায়নি। অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার যাত্রীবাহী ও মালবাহী নৌযান কীর্তনখোলা নদীর মাঝে ও অপরপ্রান্তে নোঙর করে রাখা হয়েছে।

পিএনএস/মো: শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech