অপহরণের পর নারীর সঙ্গে নগ্ন ছবি, অতঃপর...

  

পিএনএস ডেস্ক : সীতাকুণ্ডে এক স্ক্র্যাপ (পুরাতন লোহা) ব্যবসায়ীকে মোবাইল ফোনে ডেকে আটকে রেখে এক নারীর সঙ্গে নগ্ন ছবি তুলতে বাধ্য করা হয়। পরে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মুক্তিপণ না পেলে পরিবারের কাছে ও ইন্টারনেটে ওই সব ছবি ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় অপহরণের শিকার ব্যবসায়ীকে উদ্ধার ও অপহরণ চক্রের এক সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তির নাম মো. ইকবাল হোসেন (২৬)। সে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারি ইউনিয়নের তেলিপাড়া গ্রামের মো. ছবিরের ছেলে।

অপহরণের শিকার ব্যবসায়ীর নাম মো. সোহেল রানা (৩৪)। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানার শ্যামপুর গ্রামের মৃত ফিরোজ মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি সীতাকুণ্ডের মাদামবিবিরহাট এলাকায় ভাড়া থাকেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, জাহাজের কিছু কাটা লোহা জরুরি ভিত্তিতে কম মূল্যে বিক্রি হবে উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয়ের কেউ একজন সোহেলকে মোবাইলে ফোন করে ভাটিয়ারি স্টিলের সামনে তাকে আসতে বলে। কথামতো সেখানে যাওয়ার পর সোহেলকে স্ক্র্যাপ দেখানোর কথা বলে ইকবালের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে আগে থেকে উপস্থিত থাকা এক নারী (২২) সহ আরও তিনজন দেশীয় অস্ত্রের মুখে সোহেলের পরনের কাপড় খুলতে বাধ্য করে তারা। এ অবস্থায় উপস্থিত নারী নিজে নগ্ন হয়ে তার সঙ্গে বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি ওঠায়। পরে ওই ছবি পরিবারের কাছে ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ দাবি করে। টাকা না পেলে তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়। এই অবস্থায় ভিকটিম সোহেল তার বন্ধু ও ব্যবসায়িক পার্টনার মো. শামীমকে ফোন দিলে শামীম ২ লাখ টাকা দিতে পারবে জানালে অপহরণকারীরা রাজি হয়ে যায়।

পরে ঘটনাটি পুলিশকে জানালে পুলিশ শামীমকে নিয়ে অপহরণকারীদের দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী রাত ১১টায় হাজির হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ইকবাল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া করে তাকে আটক করে। পরে তার দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে সোহেল রানাকে উদ্ধার করে পুলিশ।

সীতাকুণ্ড থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই সুজায়েত বলেন, ‘অভিনব পদ্ধতিতে অপহরণ ও ব্ল্যাকমেল করে টাকা আদায়ের চেষ্টা করে অপহরণকারীরা। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে।’ অপহরণে জড়িতদের নামে মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে তিনি জানান।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech