কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা সড়কের একি হাল!

  

পিএনএস ডেস্ক : ঠিকাদারের গাফিলতিতে কুষ্টিয়ার দুটি মহাসড়কের তিন জায়গায় বেশ কিছু এলাকাজুড়ে পিচ-পাথর উঁচু হয়ে অসংখ্য ঢিবির সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে ছোটবড় যানবাহন।

কুষ্টিয়া শহরের ত্রিমোহনী ও বটতৈল বাইপাস গোল চত্বর এবং মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা সড়কে এমন হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

বটতৈল ও তালবাড়িয়া এলাকাবাসী জানায়, সড়কের বিভিন্ন জায়গায় সংস্কার কাজ এখনও চলমান। মাত্র পাঁচ মাস আগে গোল চত্বর নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই সড়কে পিচ ও পাথর উঠে ঢিবি হয়ে গেছে। এতে যান চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন অনেক যাত্রী।

কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শতকোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়া শহর বাইপাস নির্মাণ করা হয়েছে। এ সড়কের বটতৈল, ত্রিমোহনী ও ভেড়ামারা সড়ক মোহনায় চার লেন আকারে তিনটি গোল চত্বর নির্মাণ করা হয়। মিজানুর রহমান নামে এক ঠিকাদার এ কাজ করেন। একেকটি গোল চত্বরে খরচ হয় অন্তত ছয় কোটি টাকা করে। গত বছরের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হয়। রঙ, সাইনবোর্ডসহ কিছু কাজ এখনও বাকি রয়েছে। তবে সড়কে পিচ-পাথরের কাজ শেষ হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিম্নমানের কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে বছর না ঘুরতেই সড়কের বেহাল দশা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের বটতৈল এলাকায় চার-পাঁচ শ্রমিক পিচ-পাথর আবার তোলার কাজ করছেন। তারা বলেন, সড়কের নিচে ইট-পাথরের স্তরের (বেড) সঙ্গে পিচ-পাথরের প্রলেপের সংযোগ নেই। তাই পিচ-পাথর উঠে যাচ্ছে। ফের সংস্কারের জন্য সেগুলো উপড়ে ফেলা হচ্ছে। ভেড়ামারা সংযোগ সড়কের ত্রিমোহনী গোল চত্বরেও দেখা যায় একই চিত্র।

এদিকে কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কের তালবাড়িয়ায় জ্যোতি পাম্প এলাকার ৮০০ মিটার জায়গাজুড়ে পিচ-পাথর উঠে অসংখ্য জায়গায় ঢিবি হয়ে গেছে। এখানে সেচ নালার মতো হয়ে গেছে সড়ক। এ সড়কের সাড়ে ১০ কিলোমিটার কাজে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। আংশিক মজবুতকরণসহ ওভার লে করানো হয়। একই ঠিকাদার গত বছরের ২৯ মার্চ কাজ শুরু করেন, যা শেষ হয় ৩১ ডিসেম্বর। কিন্তু কাজ চলমান থাকা অবস্থায় অক্টোবরে জ্যোতি তেল পাম্প এলাকার শতাধিক জায়গায় ঢিবি হয়ে যায়। সে সময় সেগুলো সংস্কার করা হয়। তারপর আবারও সেখানে ঢিবি হয়ে গেছে।

ঠিকাদার মিজানুর রহমান বলেন, যতবার নষ্ট হবে ততবারই ঢিবি সংস্কার করা হবে। কোনো ধরনের সমস্যা রেখে কাজ শেষ করা হবে না বলে জানান তিনি।

কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কের জ্যোতি তেলপাম্প এলাকায় গত বছর ঢিবি মেরামত করা হয়েছিল। বৃষ্টির কারণে আবার একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটির পাকা অংশের নিচে পিচ শক্ত হয়ে জমাট বেঁধে ওপরের দিকে উঁচু হওয়ায় ঢিবির মতো হয়েছে। সড়কের সহ্য-ক্ষমতার চেয়ে যানবাহনগুলো মাত্রাতিরিক্ত ওজনের মালপত্র বহন করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যে এলাকায় বালুবোঝাই ভারী ট্রাক বেশি চলাচল করে, সেখানে সবচেয়ে বেশি ঢিবি হয়েছে বলে জানান তিনি।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech