সুন্দরগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতিতে এক জনের মৃত্যু: পানি সম্পদ সচিবের পরিদর্শন

  

পিএনএস, সুন্দরগঞ্জ(গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি দেখা দিয়েছে। বন্যার পানিতে আনারুল ইসলাম (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কবির বিন আনোয়ার।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়,গত ১০দিন ধরে অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, কঞ্চিবাড়ি, শ্রীপুর, চন্ডিপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়ন দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছ। ফলে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। বন্যায় ৮৯ হেক্টর সবজি ক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসল বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। বর্তমানে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতির অবনতি দেখা দেয়ায় সোমবার পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কবির বিন আনোয়ার বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এদিকে, বন্যার পানিতে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের গেন্দুরাম গ্রামের দুলা মিয়ার ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুন্নবী সরকার জানান, এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ৮০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে তারাপুর ইউনিয়নে ১ হাজার, বেলকা ইউনিয়নে ৬ হাজার, হরিপুর ইউনিয়নে ৪ হাজার, কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নে ৫’শ, শ্রীপুর ইউনিয়নে ৮’শ, চন্ডিপুর ইউনিয়নে ১ হাজার ৫’শ ও কাপাসিয়া ইউনিয়নে ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সোলেমান আলী জানান, বন্যার্তদের জন্য এ পর্যন্ত ১’শ মে.টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ৮৫ মে.টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া, ১’শ মে.টন চাল ৫ লক্ষ টাকা ও ৫’শ বান্ডিল ঢেউটিনের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, বন্যার্তদের মাঝে শুকনো খাবার হিসেবে ত্রাণ-সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে চাল ১০ কেজি, করে ডাল ১ কেজি , লবণ ১ কেজি, চিড়া ২ কেজি, তেল ১ লিটার, চিনি ১ কেজি ও লুডুস ১ প্যাকেট করে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলমগীর কবির, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সোলেমান আলী, সহকারি কমিশনার (ভূমি) রাসেল মিয়া, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুন্নবী সরকার বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন পূর্বক বিভিন্ন স্থানে পৃথক পৃথকভাবে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। এসময় সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। আলবন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত থাকলে ও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলে জানান, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বরসহ বন্যার্ত পরিবারগুলো। তাছাড়া, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্ত পরিবারের সংখ্যা ১৮ হাজার ৮’শ নিরুপণ করলেও এ সংখ্যা আরো বেশি হবে বলে মন্তব্য করেন জনপ্রতিনিধিরা। বন্যা কবলিত মানুষজন গৃহপালিত পশু-পাখি নিয়ে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র, বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেয়ায় ৮২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech