বাবা আমার আম্মুর পায়ে ও হাতে রশি দিয়ে বেঁধেছিল!

  

পিএনএস ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার আলী সাহারদী এলাকায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার বর্ষাকে শারীরিক নির্যাতন করে হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। নিহত বর্ষার সাড়ে চার বছরের সন্তান জান্নাতুল ফেরদৌস নিঝারের মুখ থেকে বেরিয়েছে বোমা ফাটানোর মতো এমন তথ্য, যা সবাইকে বিস্মিত করেছে। এই প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে সেই তথ্য।

হত্যাকাণ্ডের পর বর্ষার স্বামীর বাড়িতে গিয়ে বর্ষার মেয়ে নিঝারকে দেখতে পাননি স্বজনদের কেউই। বাড়িতে লাশ দেখতে নিকট আত্মীয়-স্বজনরা ও প্রতিবেশিরা এসে বাড়িতে ভীড় করলেও ওই বাড়িতে ছিলেন না বর্ষার শ্বশুর বাড়ির কোনও লোকজন। হত্যাকাণ্ডের পর পর নয়নের বাবা মা ও ছোট ভাই বোন গা ঢাকা দেন।

ঘটনার পরদিন সকালে সদরের জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বর্ষার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করলে মেয়ে নিঝারকে সবাই খুঁজতে শুরু করেন। বর্ষার শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে ফোন করলেও কেউই ফোন রিসিভ করেননি। দাফনের আগে মায়ের লাশ শেষবারের মতো দেখানোর জন্য বর্ষার পরিবারের স্বজনরা নানাজনের সাথে যোগাযোগ করলে শেষ পর্যন্ত শ্বশুরবাড়ির লোকজন মায়ের লাশ দেখানোর জন্য মাত্র পনের মিনিটের জন্য সময় বেঁধে দেন।

সেই শর্ত অনুযায়ী বর্ষার ছোট মামা তাদের সাথে কথা দেন লাশ দেখিয়ে নিঝারকে দাদা-দাদীর কাছে ফেরত দেবে। তবে ঘটনা মোড় নেয় ওইখানেই। চাঞ্চল্যকর তথ্য তখন অপেক্ষা করছে।

বর্ষার মামা শাহাদাৎ হোসেন এই প্রতিবেদককে, বর্ষার মেয়েকে ওই বাড়ির লোক মারফত আমার কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়। শর্ত ছিল মায়ের লাশ দেখিয়ে পনের মিনিটের মধ্যে নিঝারকে তাদের কাছে বুঝিয়ে দেব। সেই শর্ত অনুযায়ী বর্ষার শ্বশুরবাড়ির এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে নিঝারকে আমার হাতে তুলে দেয়া হয়। তবে ওই বাড়ির কয়েকজন আমার পিছু নেয়।

তিনি বলেন, নিঝারকে আমাদের বাড়িতে এনে তার মায়ের লাশ দেখানো মাত্র মেয়েটি কান্না শুরু করে এবং আমাকে এমন কখা বলে, যা শুনে আমি কথা বলার মতো শক্তি হারিয়ে ফেলি। আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে নিঝার বলতে থাকে, ‘বাবা আমার আম্মুর রুমে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়’।

শাহাদাৎ হোসেন বলেন, বাচ্চা মেয়েটি যখন আমাকে এসব কথা বলছিল তখন সাথে সাথে বর্ষার শ্বশুরবাড়ির ওই লোকগুলো নিঝারকে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় এবং বলে পনের মিনিট সময় শেষ। ওকে নিয়ে যেতে হবে। এরপর তারা নিঝারকে নিয়ে যায়।

বর্ষার মেয়ে নিঝারের মুখ থেকে এসব কথা বেরিয়ে আসার পর বিষয়টি স্বজনদের মাধ্যমে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এই বিষয়টি বন্দর থানার ওসিকে জানানো হয়েছে বলে জানা যায়।

এদিকে বর্ষা হত্যা মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে আসামিপক্ষ নানা কৌশল অবলম্বন করছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহত বর্ষার পরিবারের স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, বর্ষার মরদেহের ময়নাতদন্তে স্পষ্ট প্রকাশ পেয়েছে যে, তার গলায়, হাতে, পায়ে ও পিঠেসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নের আলামত পাওয়া গেছে। সেসব আলামত অনুযায়ী মোটামুটিভাবে বলা যায় বর্ষাকে শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তাছাড়া মৃত্যুর কয়েকঘণ্টা আগেও ছোট বোন মীমকে মোবাইলে ইমুতে ভিডিও কল করে প্রায় একঘণ্টা কথা বলার সময় স্বামী নয়নের নির্যাতনের কথা বর্ণনা করে গেছে বর্ষা।

বোনের লাশ দেখতে এসে মীম ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে এ বিষয়টি বর্ণনাও করেছে। তবে এখন বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা বলে চালানোর অপচেষ্টা চলছে বলে বর্ষার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে।

বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: রফিকুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে বলেন, মামলাটি বিভিন্ন পর্যায় থেকে আমার গভীরভাবে তদন্ত করছি। বর্ষার মেয়ের বক্তব্যের বিষয়টিও আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।এর পাশাপাশি হুমকিও বিষয়টিও আমরা খতিয়ে দেখছি।

তিনি আরও বলেন, আসামিকে দুইদিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি এবং তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মামলার তদন্তের সার্থে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। তবে আমরা দ্রুত এই ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছি।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech