ভারতের ‘ন্যাশনাল ইয়ুথ আইন অ্যাওয়ার্ড’ সম্মাননা পেলেন মাসুমা মরিয়ম

  

পিএনএস, শেরপর (বগুড়া) প্রতিনিধি : ‘ন্যাশনাল ইয়ুথ আইকন অ্যাওয়ার্ড ২০১৯’ সম্মাননা পেয়েছেন বগুড়ার শেরপুরের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রী মাসুমা মরিয়ম। ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লীতে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেয়া হয়।

রোববার (০৬অক্টোবর) বিকেলে মেয়ের এই অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন মা ‘বিশ্বসেরা শিক্ষক’ হিসেবে পুরস্কারপ্রাপ্ত শাহনাজ পারভীন। জানা যায়, ভারতের ‘ন্যাশনাল ইয়ুথ কমিটি’ গত দু’বছর ধরে বিভিন্ন সামাজিক এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্যে ভারতের যুবদের ‘ন্যাশনাল ইয়ুথ আইকন অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবারই প্রথম গোটা বিশ্বের যুবদের উৎসাহিত করার জন্যে বিভিন্ন দেশের প্রায় ১২০০ আবেদনকারীর মধ্য থেকে যাচাই বাছাই করে ৭৯ জনকে ‘ন্যাশনাল ইয়ুথ আইকন অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কার দেয়া হয় এবং এরমধ্যে ‘ওয়ার্ল্ড ইয়াং পারসন অব দ্য ইয়ার ২০১৯’ এর জন্যে ১৮ জনকে মনোনীত করা হয় যাদের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ের অনার্স ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুমা মরিয়ম জায়গা করে নেন।

অ্যাওয়ার্ড পাওয়া মাসুমা মরিয়ম পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। ২০১৫ সালে মা-বাবার সহযোগিতায় নিজের এলাকা শেরপুর শহরে প্রতিষ্ঠা করেন ‘স্বপ্ন যুব উন্নয়ন সংস্থা’। যা পরবর্তীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পায়। এ সংস্থাটির মাধ্যমে যুবদের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন ওয়ার্কশপ, ট্রেইনিং, ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়ে থাকে।

মহিলাদের আত্মনির্ভরশীল করার জন্যে প্রতিষ্ঠিত “উইমেনস হ্যাভেন ফর হিউম্যানিটি’ এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন মাসুমা। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন প্রাপ্ত এই প্রতিষ্ঠানটিও মহিলাদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়ণমূলক কাজ করে যাচ্ছে।

মরিয়ম বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত। ব্রিটিশ কাউন্সিল এর অ্যাক্টিভ সিটিজেন এর ভলান্টিয়ার । বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এর ইয়েস গ্রুপের সদস্য। রোটার্যাক্ট ক্লাব অব ঢাকা ইউনিভার্সিটির সদস্য। প্রজেক্ট আলোকিত শিশু এর ক্যাম্পাস এম্বাসেডর এবং স্বপ্নালোড়নেও সদস্য। ডেমোক্রেসি ওয়াচ ও গ্রিন বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। মাসুমা মরিয়ম উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের সাধুবাড়ী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তবে বর্তমানে শহরের শান্তিনগরে বসবাস করছেন। তার বাবা মোহাম্মাদ আলী একজন প্রভাষক এবং মা শাহনাজ পারভীন শিক্ষক। দুই বোনের মধ্যে ছোট বোন আমিনা মুমতারিন শ্রেয়া নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

উল্লেখ্য, মাসুমা মরিয়মের মা শাহনাজ পারভীন ২০১৭ সালে ভারকি ফাউন্ডেশন আয়োজিত গ্লোবাল টিচার্স প্রাইজ ২০১৭’ বিশ্বের সেরা ৫০ শিক্ষকের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নেন এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র বাংলাদেশী হিসেবে এ পুরস্কার অর্জন করেন। বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী মাসুমা মরিয়ম পঞ্চমশ্রেণীতে কৃতিত্বের সাথে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি এবং এসএসসিতে রাজশাহী বোর্ডের মধ্যে মেয়েদের মধ্যে ৪র্থ স্থানসহ ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পান। ভবিষ্যতে তিনিও বাবা-মা ‘র মতো শিক্ষক হতে চান এবং পাশাপাশি মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চান। মাসুমনা গত আগষ্ট ২০১৯, “আন্তর্জাতিক ইয়ুথ পলিসি কনফারেন্স” এ অংশ নিতে নেপালের ইতাহারিতে গিয়ে ছিলেন মাসুমা মরিয়ম। সামাজিক কাজে অবদান এবং যুবদের নিয়ে কাজের জন্য সেখানেও তিনি প্রশংসিত হন।

পিএনএস/মো. শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech