হাসপাতালের প্রধান ফটকে সন্তান প্রসব!

  

পিএনএস ডেস্ক: চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জের সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল।

এখান থেকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ছাড়পত্র দেয়া হয় রহিমা খাতুন (২২) নামে এক প্রসূতিকে। কিন্তু বগুড়া নেয়ার জন্য হাসপাতাল ফটক থেকে সিএনজিতে ওঠার সময় সন্তান প্রসব করেন ওই রহিমা খাতুন।

জানা গেছে, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ বনশ্রী সাহা কর্মস্থলে না থাকায় তার স্বাক্ষরিত এক ছাড়পত্রে রহিমা খাতুনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন সিনিয়র স্টাফ নার্স ফাহমিদা খাতুন ও শিল্পী খাতুন।

পরে বগুড়া নেয়ার জন্য হাসপাতাল ফটক থেকে সিএনজিতে ওঠার সময় সন্তান প্রসব করেন ওই রহিমা খাতুন। এ নিয়ে শহরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, রোববার রাত ১০টার দিকে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে যান সদর উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের রূপসাচর এলাকার মো. আবদুর রহিমের স্ত্রী মোছা. রহিমা খাতুন। অথচ রাত সাড়ে ৯টার দিকে গাইনি বিশেষজ্ঞ বনশ্রী সাহা কর্মস্থল ত্যাগ করায় তার স্বাক্ষরিত এক ছাড়পত্রে রহিমা খাতুনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন সিনিয়র স্টাফ নার্স ফাহমিদা খাতুন ও শিল্পী খাতুন।

নিরুপায় হয়ে রহিমা খাতুনকে নিয়ে তার স্বামী আব্দুর রহিম বগুড়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার জন্য গাইনি ওয়ার্ড ত্যাগ করেন। যখনই হাসপাতালের প্রধান ফটক থেকে সিএনজিতে উঠতে যান তখনই প্রসব ব্যথায় আরও কাতর হয়ে ফুটফুটে সন্তান প্রসব করেন রহিমা।

তবে ফাঁকা জায়গার ওপর সন্তান প্রসব করায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে নবজাতক গুরুতর আহত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আহত নবজাতককে উদ্ধার করে শিশু ওয়ার্ডে ও মাকে গাইনি ওয়ার্ডে নিয়ে যান হাসপাতালে অবস্থানরত সাধারণ মানুষ।

এ ছাড়াও রাত ১০টায় কেবিনের ৫নং বেডের এক গর্ভবতীকে ছাড়পত্র প্রদান করেন ওই দুই নার্স। সাংবাদিকদের খবর দেয়া হয়েছে এমন সন্দেহে জেদের বশবর্তী হয়ে ওই দুই নার্স ৬নং বেডে প্রসব বেদনায় কাতর হোসেনপুর মোল্লাপাড়া মহল্লার শাহাদত হোসেনের স্ত্রী মোছা. সোনেকা খাতুনকে (২৫) রাত ৩টার দিকে রেফার করেন।

তিনজন গর্ভবতী মাকে রেফারের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গাইনি ও প্রসূতি ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স ফাহমিদা খাতুন ও শিল্পী খাতুন বলেন, প্রসূতি রহিমাকে ডাক্তার বনশ্রী সাহা ছাড়পত্র দিয়েছিলেন, তাই তাকে চলে যেতে বলেছিলাম।

এ বিষয়ে গাইনি বিশেষজ্ঞ বনশ্রী সাহার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে না পেরে ফোনটি কেটে দেন।

সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রমেশ চন্দ্র সাহা বলেন, বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। তবে প্রসূতির অবস্থা একটু জটিল হওয়ায় ওই চিকিৎসক ছাড়পত্র দিয়েছিলেন বলে জানান।

পিএনএস/ হাফিজ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech