পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ

  

পিএনএস ডেস্ক : পেঁয়াজ সিন্ডিকেটকারীদের ঝাড়ু, ছেঁড়া জুতা ও থুতু নিক্ষেপ করলেন রিকশাচালক মো. মজিবুর রহমান। এরপর বাদশা বাবুর্চির পেঁয়াজহীন রান্না। পেঁয়াজ ছাড়া নুডুলস খাওয়ার পর মজিবুর বলেন, ‘হয়তো বাস্তবে পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের ছেঁড়া জুতা ও থুথু মারতে পারিনি কিন্তু ওই পুতুলটাকে (কুশপুত্তলিকা) মেরেছি। ঘেন্না লাগে তাদের প্রতি। এত টাকা কেমনে খেল আমাদের পকেট থেকে।’

রিকশাচালক মজিবুরের মতো এলাকার সর্বস্তরের জনগণ মঙ্গলবার বিকেলে প্রেস ক্লাবের পাশের সড়কে পেঁয়াজের মাত্রাতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ‘পেঁয়াজ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঘৃণার আগুন ছড়িয়ে দাও’ শিরোনামের এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে। কর্মসূচি আয়োজন করে জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক ‘নাগরিক উদ্যোগ’।

অভিনব প্রতিবাদের অংশ হিসেবে পেঁয়াজ সিন্ডিকেটে জড়িতদের কুশপুত্তলিকায় ঘৃণা জানালে দেওয়া হয়েছে পেঁয়াজবিহীন খাবার।

পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতীকী কুশপুত্তলিকায় থুতু, ঝাড়ু ও ছেঁড়া জুতা নিক্ষেপে অংশ নিয়ে ইসলামিয়া কলেজের ছাত্র রিগান বলেন, ‘পেঁয়াজ সন্ত্রাসী জনগণের দুশমন, এদের ঘৃণা প্রদর্শনের জন্য এসেছি। এক কেজি পেঁয়াজ কিনতেই ২০০-২৫০ টাকা শেষ। পেঁয়াজ খাব না এবং সিন্ডিকেটকারীদের কুশপুত্তলিকায় থুতু ও জুতা মারলাম।’

গৃহিণী বিলকিছ বেগম বলেন, ‘আমরা অনেক কিছুই রান্না করি তবে এখানে বাবুর্চি পেঁয়াজ ছাড়া রান্না করছে বিভিন্ন রেসিপি। এসব দেখছি, পাশাপাশি ঘৃণাও জানাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বে যখন বাংলাদেশের সুনাম বাড়ছে ঠিক তখনই পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা প্রধানমন্ত্রীর সম্মানহানি করতেই এই পাঁয়তারা করছে।

তিনি বলেন, আমরা মহিলা সমাজ রান্নাঘর থেকেই পেঁয়াজ প্রত্যাখ্যান করছি। আত্মীয় স্বজনদের বলব পেঁয়াজ ছাড়া পাঁচফোড়ন দিয়ে রান্না করতে। নিরামিষ খাবার খেতে। যেকোনো মূল্যে পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেব না। পেঁয়াজ সন্ত্রাসীদের বলছি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবেন না। আমরা পেঁয়াজ কিনব না, দেখি কতদিন বাড়তি দামে বিক্রি করতে পারেন।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন, অব্যাহতভাবে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির জন্য এই কর্মসূচি। বাংলাদেশের বিকল্প বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এই অনুষ্ঠান।

তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা ২০০ টাকা দিয়ে পেঁয়াজ না কিনে পরিবারের শিশুদের জন্য দুধ কিনুন। বাচ্চাদের বিকাশে শরীরে পুষ্টি হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ব্যর্থ উল্লেখ করে সুজন বলেন, চাল-ডাল পেঁয়াজ সব কিছুর দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে এটা কি মগের মুল্লুক? সরকারের মন্ত্রী এমপিরা কি করছে?

আওয়ামী লীগ নেতা হাজি মো. ইলিয়াছের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন চসিক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নীলু নাগ, সাবেক কাউন্সিলর মমতাজ খান, আওয়ামী লীগ নেতা চন্দন ধরসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

কর্মসূচিতে বাবুর্চি হাজী মো. বাদশা লাইভ রান্না পরিবেশন করেছেন। তিনি বলেন, জনগণকে পেঁয়াজহীন মাংস, মাছ , মিক্সড সবজি, নুডুলস রান্না করে দেখাচ্ছি। পেঁয়াজ ছাড়া যে মাংস আরও সুস্বাদু হয় তা সবাই খেয়ে পরখ করছে। পাকোড়াতে পেঁয়াজ না দিলে স্বাদ যে বাড়ে তা রান্না করেই দেখাচ্ছি উপস্থিত সবাইকে।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech