আশ্রায়ণ প্রকল্পে জরাজীর্ণ ঘরে কষ্টের জীবন

  

পিএনএস, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : খুলনার পাইকগাছায় সরকারের কোটি-কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো ধ্বংসের পথে। জরাজীর্ণ ঘরে ভীষণ কষ্টে জীবন যাপন করছে প্রকল্পের বসিন্দারা। এখনকার বাসিন্দারা তাদের আবাসন সমস্যা, মানব সভ্যতার বিদ্যুতের আলো বঞ্চিত, তীব্র খাবার পানি সংকট, শিক্ষার অভাব, ভেঙে পড়া স্যানিটেশন, অনুন্নত যোগাযোগ সহ দেখ ভালের অভাবে সরকারের অধিকাংশ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বর্তমান সরকারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে ভুক্তভোগী পরিবার ও সমাজের বিশিষ্ট জনেরা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের পাশাপাশি ছিন্নমূল অভাবী মানুষের আশ্রয় স্থলের ঘরগুলো সংস্কার করে বসবাসের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টির দাবী করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার কপিলমুনি, গড়ইখালী, চাঁদখালী-ইউনিয়নে আশ্রায়ণ প্রকল্পের ২শ ৪০টি ঘরে বাসিন্দারা বসবাস করছেন। শুরুতেই সরকার তাদের ঘরের দলিল, ঋণদান সহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিয়ে পুণঃবাসন করলেও এখানকার বাসিন্দারা ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। বছরের পর বছর ধরে এ প্রকল্পের মানুষরা নানা সমস্যায় জর্জরিত। অধিকাংশরা শুধুমাত্র সরকারী সাহায্যের আশায় বসে থেকে কর্মহীন হয়ে এক পর্যায়ে প্রকল্প ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। আবার কোনো কোনো পরিবার মৌসুমি ভিত্তিক কাজ ইটভাটা, যশোর-গোপালগঞ্জ জেলা মুখি কৃষিকাজ ও নানা পেশায় জড়িয়ে জীবন সংগ্রামে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন! বর্তমানে প্রকল্পের বাসিন্দারা মানবেতর জীবনযাপনে অভ্যস্থ হয়ে পড়েছেন।

সরেজমিনে চাঁদখালীর কপোতাক্ষ নদের তীরে দেবদুয়ার আশ্রয়ণ প্রকল্পে গেলে এখানকার বাসিন্দারা তাদের অন্তহীন সমস্যা সমাধানের জন্য সাংবাদিকদের সরকারের দৃষ্টিতে আনার জন্য অনুরোধ করেণ। প্রকল্প সভাপতি শেখ ইউনুছ আলী জানান, বর্তমানে ঘরগুলো ভেঙ্গে চুরে বসবাসের অনুপোযোগি হয়ে পড়েছে, বর্ষা মোসুমে কষ্টের শেষ থাকেনা, বাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানি থৈ-থৈ করে, বিদ্যুতের আলো থেকে বঞ্চিত থাকার কথা জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে আবেদন ও মাসের পর মাস ধরে ধর্ণা দিলেও কাজ হয়নি।

বয়োঃবৃদ্ধ শেখ আ. জব্বর, মহসিন মিস্ত্রী, কাশেম সরদার, হাসনা বানু বলেন, ৮ একর সরকারী জমির উপর এ প্রকল্পে শুরুতে আর্মির কাজে আমরাও সহযোগিতা করে এ পর্যন্ত বসবাস করছি। সুযোগ-সুবিধার দাবী করে তাঁরা পর্যাপ্ত কার্ড, বয়স্ক ভাতা, ঘরের ছাউনী, রাস্তা মেরামত, পুকুরের ঘাট তৈরী সহ ক্ষতিগ্রস্থ মসজিদ মেরামতের দাবী করেছেন। বিধবা ফরিদা, হাসিনা বেগমের অভিযোগ স্বামী মৃত্যুর ১৫ বছরেও বিধবা ভাতা কার্ড জোঠেনি। এতিম বাচ্চাদের নিয়ে বসবাস করছি কেউ কষ্টের কথা শোনেনা! বহুবার মেম্বর-চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েছি কিন্তু টাকা না দিলে কার্ড হয়না বলে তারা এমন অভিযোগ করেন।

এ নিয়ে অনেক জনপ্রতিনিধিদের কাছে মতামত নেবার চেষ্টা করেও তাঁরা মন্তব্য করতে রাজী না হলেও গড়ইখালী ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বিশ্বাস বলেন, আবাসন বা আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর বাজে অবস্থা ও বাসিন্দাদের করুন বসবাস দাবী করে বলেন, এ ভাবে চলতে পারে না, এ নিয়ে বহুবার উপজেলা মিটিংএ তুলেছি এবং ইতোপূর্বে ইউএনও, ডিসি ও সাবেক এমপিরা পরিদর্শর করলেও সমাধান হচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরাফাতুল আলম আশ্রায়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের উন্নয়নে সরকারী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে, ভুক্তভোগীদের আবেদন পেয়েছি এবং তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি প্রেরণের কথা জানান।

আবাসন বা আশ্রায়ণের অভাবী মানুষের জন্য খুলনা-৬, (পাইকগাছা-কয়রা) এমপি আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলেছে, বহুমাত্রিক উন্নয়নের সাথে সরকারী পদক্ষেপের সাথে তিনি এখানকার বাসিন্দাদের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন বলে জানিয়েছেন।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech