২২ গ্রাম্য মাতবরকে আসামি করে পুলিশের মামলা, গ্রেপ্তার ১

  

পিএনএস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি :ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সরাইল উপজেলা সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহাদাত হোসেন টিটো বলেছেন, সরাইলের মানুষ খুবই ভাল। শান্তি প্রিয় লোকজনকে কিছু অসাধু লোক বিপদে ফেলে। এখানের মানুষ দাঙ্গাবাজ নয়। তারা দাঙ্গা পছন্দও করেন না। আমি গত ২-৩ মাস কাজ করে সব বুঝতে পেরেছি। সরাইলের ৯৫ ভাগ মানুষই ভাল। আর মাত্র ৫ ভাগ মানুষ দাঙ্গাবাজ। এরাই সরাইলকে জিম্মি করে নিজেদের আখের ঘুছিয়ে যাচ্ছে। দাঙ্গা লাগিয়ে এরা ফায়দা লুটে। ব্যবসা করে। নিজেদেরকে পরিচয় দেয় সর্দার বলে। মার্ডার হয়ে গেলে তো এরা রাজা সাজে। এ লোক গুলো বাড়ি থেকে বের হয় খালি পকেটে। আর বাড়ি ফিরে ভরা পকেটে। কারণ এ কাজ গুলোই ওই শ্রেণির লোকজনের প্রধান পেশা। এখন দাঙ্গা হলে আর সাধারণ লোকজনের বিরুদ্ধে কোন মামলা হবে না। মামলা হবে ওইসব সর্দারদের বিরুদ্ধে। নাটের গুরুদের আটক করা হবে । এবার ধরা হচ্ছে গ্রাম্য ক্রিমিনাল এবং দুষ্টু প্রকৃতির সরদার মাতাব্বর দের বিভিন্ন গ্রামের যুবকদের উস্কানি দিয়ে দাঙ্গায় লিপ্ত করা এবং তাদের আশকারায় বিভিন্ন গ্রামে শান্তিপ্রিয় নিরীহ মানুষকে অশান্তি সৃষ্টিকারী পুলিশের কর্তব্য কাজে বাধা, হামলা ও হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত এবং গ্রামে দাঙ্গা সৃষ্টির অভিযোগে ২২ গ্রাম্য মাতব্বরকে আসামি করে পুলিশ মামলা দায়ের করেছে। সোমবার (৯ডিসেম্বর) সরাইল থানায় দায়ের করা মামলার বাদী হয়েছেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সহিদ মিয়া। এ মামলায় মঙ্গলবার বিকেলে গ্রাম্য মাতব্বর আসমত মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউপির পরমানন্দপুর গ্রামে গত ৭ ডিসেম্বর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠির লোকদের মাঝে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে শতাধিক মানুষ আহত হন। খবর পেয়ে এ দাঙ্গা রোধে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে আসামিরা পুলিশের ওপর হামলা করে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করে। এতে একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন।

পুলিশের দায়ের করা মামলায় আসামিরা হলেন- পরমানন্দপুর এলাকার মাতব্বর সফিকুল আমিন (৫০), নুর আলী (৭০), বাবুল মিয়া (৪০), মোশারফ খাঁন (৪৫), আসমত আলী (৪০), মহিউদ্দিন (৪৫), মতি মিয়া (৫৫), তৌফিক খাঁন (৩৫), জিয়াউল আমিন (৫৫), রিপন মিয়া (৩৫), মালেক মিয়া (৫৫), নাছির মিয়া (৫০), জামাল খাঁন (৫৫), জয়নাল আবেদীন (৪৩), কুতুব খাঁন (৩০), বাহারাইন (৩৫), জাফর আলী (৪০), মানিক মিয়া (৪৫), কাঞ্চন মিয়া (৩৬), আলফাজ উদ্দিন, আদনান খাঁন (২৫) ও তফসির খাঁন (৩৫)। এছাড়াও এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ থেকে ৩০০ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাহাদাত হোসেন টিটো এ প্রতিবেদককে বলেন, পরমানন্দপুর এলাকায় চিহ্নিত গ্রাম্য মাতব্বররা তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতেই সেই সংঘর্ষের সৃষ্টি করেছিলো। তারা পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। চিহ্নিত ২২ মাতব্বরকে আসামি করে মামলা দেওয়া হয়েছে। এক মাতব্বরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকিদের গ্রেপ্তার পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

পিএনএস/মো. শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech