পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় গৃহবধূকে পেটালেন স্বামী

  

পিএনএস ডেস্ক:লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় সেলিনা আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তারই পাষন্ড স্বামী ওমর আলীর বিরুদ্ধে। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এর আগে সোমবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার পূর্ব নওদাবাস গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ উপজেলার সিংগীমারী ইউনিয়নের দক্ষিণ ধুবনী গ্রামের মৃত বদিউজ্জামানের মেয়ে। আর অভিযুক্ত ওমর আলী উপজেলার পূর্ব নওদাবাস গ্রামের জোড়াল মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, প্রায় ৫ বছর আগে ১লক্ষ টাকা যৌতুকের বিনিময়ে সেলিনার সাথে বিয়ে হয় ওমর আলীর। কিছুদিন পরে সেলিনা জানতে পারেন ওমর আলীর সাথে তার বড় ভাইয়ের স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে কথা বলায় তার উপর নেমে আসে নির্যাতনের খোড়াক। এরপর বছর ঘুরতেই তাদের ঘর আলোকিত করে জন্ম নেয় একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে স্বামী ও ভাবীর অনৈতিক সম্পর্ক নিরবে সহ্য করে আসে সেলিনা। এরপরেও প্রায় কারণে অকারণে সেলিনাকে মরধর করেন তার স্বামী। এমনকি ওই ভাবীও সেলিনাকে মারধর করে।

এদিকে ঘটনার দিন সোমবার বিকেলে স্বামী ওমর আলী ওই ভাবীর সাথে ঘরে একান্ত সময় কাটায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে সেলিনাকে তার স্বামী কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে বেধরক মারধর শুরু করে। এতে সেলিনা অচেতন হয়ে পড়ে এবং তাকে আহত অবস্থায় ঘরে আটকিয়ে রাখা হয়। খবর পয়ে মঙ্গলবার বিকেলে পরিবারের লোকজন ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে সরজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, নির্যাতনের শ্বীকার ওই গৃহবধূ শরীরে ক্ষত নিয়ে ব্যাথার যন্ত্রণায় হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছে। বাম চোখ ফুলে গিয়ে ব্যাথায় ঠিকমত কথা বলতে পারছে না।

এ সময় তার সাথে কথা হলে সেলিনা আক্তার জানান, আমার স্বামীর সাথে তার ভাবীর অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। আমি বিষয়টি বুঝতে পারায় কারণে অকারণে আমাকে মরধর করা হয়। এমনকি ওই ভাবীও আমাকে প্রায় মারধর করেন। সোমবার আমার স্বামী ও তার ভাবী একান্ত সময় পাড় করছেন। এ নিয়ে আমি কথা বললে আমাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মরতে থাকে। আমি আর কিছু বলতে পারি না। জ্ঞান ফিরে দেখি বিছানায় শুয়ে আছি। আহত অবস্থায় আমাকে ঘরে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার পরের দিন মঙ্গলবার বিকেলে আমার পরিবারের লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ সময় নির্যাতিত গৃহবধূর মা মোমেনা বেগম জানান, আমার মেয়েকে ওর স্বামী প্রায় মারধর করেন। আমার স্বামী নেই, মারা গেছে। বাবা মরা মেয়ের নির্যাতনের বিচার কি হবে না?

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওমর আলী বলেন, সামান্য ভুলের কারণে তাকে মারধর করা হয়েছে এর বেশি কিছু না। এটা ঠিক হয়ে যাবে।

হাতীবান্ধা উপজেলা আবাসিক মেডিকেল অফিসার ড. নয়ন হাসান নাঈম জানান, নির্যাতনের ফলে বাম চোখে প্রচন্ড আঘাত পেয়েছে ওই গৃহবধূ। এছাড়া তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

সিংগীমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন দুলু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আমি খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে দেখেছি ওই গৃহবধূকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে গৃহবধূর পরিবারকে বলা হয়েছে।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক পূর্বপশ্চিমকে বলেন, এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech