ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হোম কোয়ারেন্টাইনে ১৬৮১

  

পিএনএস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘সার্চ’ কমিটি গঠনের কারণে প্রবাসফেরতদের হোমকোয়ারেন্টাইনের সংখ্যা বেড়েছে। মঙ্গলবার ২৪ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ১৬৮১ জন প্রবাসী হোমকোয়ারেন্টাইনে এর মধ্যে চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ শেষে ২২১জন ছাড়া পেয়েছেন। বর্তমানে হোমকোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ১৪৬০ জন।

জেলা কন্ট্রোলরুম সূত্র জানান, মাঠ পর্যায়ে ‘সার্চ’ কমিটি গঠণের সুফল হিসেবে তারা প্রবাস ফেরতদের বাগে আনতে পারায় হোমকোয়ারেন্টিনের সংখ্যা বেড়েছে।

গত রোববার থেকে পুরোদমে কাজ শুরু করে ‘সার্চ’ কমিটি। এছাড়া প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতার কারণে প্রবাসফেরতরা নিজেদেরকে গুটিয়ে নিচ্ছেন। এদিকে করোনার আতঙ্কে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো এখন অনেকটাই ফাঁকা। বহির্বিভাগের পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর সংখ্যাও অনেক কমে গেছে।

সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বড় ধরণের সমস্যা না হলে যেন হাসপাতালে না আসেন। এছাড়া বাড়ি থেকে চিকিৎসা সেবা নেয়ার জন্য চিকিৎসকদের মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে দেয়া হচ্ছে। করোনা আক্রান্ত হয়েছে এমন সন্দেহভাজনদের রাখার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিনটি ইউনিট প্রস্তুত করা হচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, সাবেক প্যানাশিয়া হাসপাতাল, সাবেক আল-বারাকা হাসপাতাল ভবনে ওই তিনটি ইউনিট স্থাপন করা হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় নিয়োজিত সেনাবাহিনী মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে ওই তিনটি ইউনিট প্রস্তুতির খোঁজ নিয়েছেন।

এদিকে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ১০০ লিটার স্যানিটাইজার প্রস্তুত হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে । বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ১৫ জন শিক্ষার্থী স্যানিটাইজার তৈরির কাজে ব্যস্ত আছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদা নাজমীন জানান, দুই হাজার জনকে দেয়ার জন্য এসব স্যানিটাইজার প্রস্তুত হচ্ছে শিক্ষকদের টাকায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিদ্যালয়ের সাবেক তিন শিক্ষার্থীর উদ্যোগে প্রস্তুত করতে থাকা ওই স্যানিটাইজার জেলা প্রশাসন, পুলিশ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন অফিসে বিতরণ করা হবে।

জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের ল্যাবরেটরিতে প্রায় এক হাজার স্যানিটাইজার প্রস্তুতের কাজ চলছে । ফুটপাতে থাকা ও ভ্রাম্যমাণ লোকজনের মাঝে এসব স্যানিটাইজার বিতরণ করা হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালসহ আটটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বহির্বিভাগ ও আন্তবিভাগে রোগীর সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের একাধিক ওয়ার্ড মঙ্গলবার দুপুরে খালি পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রাইভেট ক্লিনিক সমূহ ছিল রোগী শুন্য।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ শওকত হোসেন জানান, বড় ধরনের সমস্যা না থাকলে হাসপাতালে যেন কেউ না আসেন সে বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বাড়িতে বসে চিকিৎসা সেবা নেয়ার জন্য ফোন নম্বর দিয়ে দেয়া হচ্ছে। যে কারণে হাসপাতালে বহির্বিভাগের রোগীর সংখ্যা তিনভাগের একভাগে নেমে এসেছে। ওয়ার্ডেও ভর্তি থাকা রোগীর সংখ্যা কমে গেছে।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন