শেরপুরে সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের মানববন্ধন

  

পিএনএস, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : জাতীয় বাজেটে উন্নয়ন বরাদ্দের ৪০% কৃষিখাতে বরাদ্দের দাবীতে বগুড়ার শেরপুরে সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্ট/বাসদ (মার্কসবাদী)’র উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১মে) দুপুরে শহরের স্থানীয় বাসষ্ট্যান্ডে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচি চলাকালে সমাবেশে বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা রঞ্জন কুমার দে, আমিনুল ইসলাম, কৃষক নেতা সাইফুল ইসলাম শাফি প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যে সারাদেশে গৃহবন্দী মানুষ কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। আমরা দাবি করেছিলাম গরীব-নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত যারা ইতিমধ্যেই করোনা পরিস্থিতিতে বেকার হয়ে পড়েছে, তাদের আগামী তিন মাসের খাদ্য সরকারি উদ্যোগে বিনামূল্যে নিশ্চিত করা এবং ন্যূনতম এক মাসের খাদ্যসামগ্রী ঘরে-ঘরে পৌঁছে দিয়ে লকডাউন কার্যকর করতে হবে। কিন্তু সরকার তা না করে লোক দেখানো ত্রাণ বিতরণের নামে লুটপাটের মহোৎসব শুরু করেছে। তারা আরও বলেন, সরকার একদিকে মানুষকে ঘরে থাকার কথা বলছে, অন্যদিকে গার্মেন্টসহ বিভিন্ন শিল্প-কারখানা চালু করছে, শপিং মল খুলে দিচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মুনাফার স্বার্থে দেশের কোটি কোটি মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার সতর্ক করছে, এর ফলে মহামারী আরো প্রকট আকার ধারণ করবে। করোনাবাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশের শিল্প কারখানার উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। আসন্ন অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলা করার জন্য কৃষির উপর জোর দেয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। কিন্তু সরকার সেই পথেও হাঁটছে না। বরাবরের মতো কৃষি ও কৃষক এখনও উপেক্ষিত। ইরি-বোরো মৌসুমে দেশে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৩ কোটি ২ লক্ষ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন। অথচ সরকার ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে মাত্র ৮ লক্ষ মেট্রিক টন। এই সামান্য পরিমাণ ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত কৃষকদের রক্ষা করতে পারবে না এবং আসন্ন মহামন্দা মোকাবেলায় কার্যকর কোন ভূমিকা পালন করবে না। সেই জরুরী প্রয়োজন পূরণ এবং কৃষকদের ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য এ বছর ইরি- বোরো মৌসুমে সরকারকে উৎপাদনের এক তৃতীয়াংশ, ন্যুনতম ৭০ লক্ষ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করতে হবে। সরকারি খাদ্য গুদামে জায়গা না হলে, প্রয়োজনে গুদাম ভাড়া করতে হবে অথবা কৃষকদের ঘরেই ধান রেখে টাকা পরিশোধ করতে হবে। বক্তারা বলেন, ইতিমধ্যেই যেসব এলাকায় ধান কাটা হয়েছে সে সমস্ত এলাকায় কৃষকরা সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণে উৎপাদন খরচের অর্ধেক মূল্যে ৪০০/৪৫০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। তাই হাটে হাটে ক্রয় কেন্দ্র খুলে কৃষকদের কাছে থেকে ধান কেনার জন্য তারা সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছি। আমাদের দেশ কৃষি প্রধান হলেও স্বাধীনতার ৪৯ বছরে এ খাত বরাবরই উপেক্ষিত। আমরা প্রতিবারই দাবি করছি জাতীয় বাজেটে উন্নয়ন বরাদ্দের ৪০% এই খাতে বরাদ্দ করার জন্য। কারণ দেশের অধিকাংশ মানুষ এর সাথে যুক্ত। সরকার “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে” শ্লোগান দিলেও প্রতি বছরই ব্যবসায়ীদের লুটপাটের পক্ষে অবস্থান নেয়। আমরা আবারও দাবি করছি আসন্ন বাজেটে কৃষি খাতে উন্নয়ন বরাদ্দের কমপক্ষে ৪০% বরাদ্দ করতে হবে। দেশের কৃষি ও কৃষক রক্ষার জন্য এসব বাস্তবায়ন করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি করছি। পাশাপাশি দাবী আদায়ে আন্দোলন করার জন্য জনগণের প্রতি আহবান জানান বক্তারা।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন