তানোরে প্রধানসড়কসহ গ্রামীণ রাস্তার বেহাল দশা

  

পিএনএস, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি : একটু বৃষ্টিতেই রাস্তা ডুবে যায় পানিতে। পিচ উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্ত। খানাখন্দ আর কর্দমক্ত পাকা রাস্তা দেখে মনে হবে কাঁচা রাস্তা! দীর্ঘদিন রাস্তাগুলো সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পথচারীরা। যানবাহন বিকল হয়ে প্রায়ই ঘটছে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা। রাজশাহীর-তানোর হয়ে মু-ুমালা সড়কের চরম বেহাল অবস্থা। শুধু প্রধান সড়কগুলো নয় গ্রামীণ কাঁচা-রাস্তাগুলোও জলাবদ্ধতায় বেহাল অবস্থা। চরম দুভোর্গ নিয়ে চলাচল করছেন জনসাধারণ।

তানোর থানা সূত্রে জানা গেছে, শুধু তানোর-মু-ুমালা সড়কের বুড়াবুড়ি নামক স্থানে গত ছয় মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৪জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ২০জন। বাস, ট্রাক, আটোরিক্সা, মোটরসাইকেলসহ সড়ক দুর্ঘটনায় থানায় জব্দ আছে প্রায় ১৫টি যানবাহন।

ব্যবসায়ী শুভ কুমার দাস, কলেজ ছাত্র মেহেদী হাসান, চাকুরীজীবী শিহাব আলী জানান, তানোর থেকে আমনুরা পর্যন্ত রাস্তাটির বেহাল অবস্থা। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রতিনিয়তই বিভিন্ন ধরনের যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে থাকছে। দুর্ঘটনায় অনেকের প্রাণ যাচ্ছে। বুড়াবুড়ির মোড়ে প্রায়ই বাস-ট্রাক উল্টে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। সংশ্লিষ্টদের গুরুত্বহীনতার কারণে করুণ অবস্থা রাস্তাটির। আবার যে সব রাস্তা নতুন ভাবে হচ্ছে সেগুলোই অল্প দিনের মধ্যে অকেজো হয়ে পড়ছে।

সরজমিন দেখা গেছে, উপজেলার প্রাণকেন্দ্র থানামোড়। সেখান থেকে উত্তরে উপজেলা পরিষদের রাস্তা, দক্ষিণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রাস্তা এবং পশ্চিমে মু-ুমালার রাস্তা গুরত্বপূর্ণ সড়ক হিসেবেই পরিচিত। থানা মোড়ের পশ্চিমে সোনালী ব্যাংক, দিপক দাসের মুদিদোকান ও সালাউদ্দিন হাজির হোটেলের সামনের রাস্তায় ছোট-বড় আকারের গর্ত দেখা দিয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই জমে থাকছে পানি। ফলে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

থানা মোড়ের মুদি দোকানি দিপক দাস বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে দোকানের সামনে রাস্তার গর্তে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে। যানবাহন যাওয়া মাত্রই গর্তের সেই পানি ছিটকে এসে হয় ক্রেতা গায়ে, না হয় দোকানের ভিতরে পড়ে।’ সেখানেই দৈনিক পত্রিকা বিক্রি করেন পত্রিকার এজেন্ট আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, ‘আমার বাইসাইকেলে বিভিন্ন পত্রিকা থাকে। অনেক সময় গর্তে জমে থাকা পানি ছিটকে এসে পড়ে পত্রিকা নষ্ট করে দেয়।’

কাশেম বাজার থেকে আকচা উচ্চ বিদ্যালয়, মাসিন্দা কেল্ডস্টোরেজ থেকে হাড়দহ বিল, তানোর থানা মোড় থেকে আমনুরা, দেবিপুর মোড় থেকে মোহর-শুকদেবপুর হয়ে সরনজাই বাজার, দেবিপুর মোড় হয়ে লালপুর,বিলশহর থেকে নারায়ণপুর, ইলামদহ হয়ে প্রকাশনগর পর্যন্ত পাকা রাস্তার বেশির ভাগই পিচ উঠে দেখা দিয়েছে ছোট বড় অসংখ্য গর্ত। খানাখন্দে রাস্তাগুলোর বেহাল দশা। এছাড়া মোহর থেকে কৃষ্ণপুর, রাবিয়ার মোড় থেকে বানিয়াল, চন্দনকোঠা, বাধাইড় ও আকচাসহ গ্রামীণ জনপথের বেশির ভাগ কাঁচা রাস্তা বৃষ্টির পানিতে কাঁদার পাঁক সৃষ্টি হয়েছে। জনসাধারণের চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে তানোর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘কিছু রাস্তার টেন্ডার হয়ে আছে। কিন্তু করোনার জন্য বর্তমানে কাজ বন্ধ আছে। বাকি রাস্তাগুলোর চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সংস্কারের অনুমতি পেলেই টেন্ডারের মাধ্যমে দরপত্রের আহবান করা হবে।’

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন