সরিষাবাড়ীতে পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ

  

পিএনএস ডেস্ক : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় যমুনা নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে ১৬০৩টি পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে পাট, আউশ ধান, বোরো ধান, ভুট্টা, তীল, সবজি খেত, বীজতলা ও গোচারণ ভূমিসহ ১৫০৫ হেক্টর ফসলী জমি। আজ মঙ্গলবার দুপুর পযন্ত যমুনা নদীর পানি বাহাদুরাবাদ পয়েন্টের বিপৎসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

জানা গেছে, বন্যার পানিতে উপজেলার পিংনা,আওনা, গোগলদিঘা, সাতপোয়া, ভাটারা, কামরাবাদ, ডোয়াইল ও পৌরসভার কিছু অংশসহ বাড়ি ঘরে পানি ঢুকে ১৬০৩টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বীজতলা ফসলি জমি ১৫০৫ হেক্টর যাহাতে বোরো ৩০, আউশ ৭০, পাট ১০৩৫০, শাক সবজি ৪০, তীল ১০ ও ভূটা ৫ হেক্টর পানিতে তলিয়ে গেছে। গোচারণ ভূমির ক্ষতি হয়েছে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকার মতো। এসব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরকারি সহায়তা এসেছে ৫ টন জি আর চাউল ও নগদ ৩৯ হাজার টাকা।

এদিকে বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে পানিবন্দি পরিবারগুলো শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদি পশুপাখি নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। তাদের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি, জ্বালানি ও খাবারের সংকট দেখা দিচ্ছে। বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবার বাঁধে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চলতি বন্যায় উপজেলায় ১৫০৫ হেক্টর বীজতলা ফসলি জমি নষ্ট হয়ে গেছে। বন্যা পানি এভাবে বৃদ্ধি পেলে আরো বেশি ক্ষতি হতে পারে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হুমাউন কবীর জানান, আমরা খোঁজ রাখছি। সরকারিভাবে ৫ মেট্রিক টন চাল ও ৩৯ হাজার টাকা আমাদের হাতে রয়েছে। অবস্থা বিবেচনায় করে চাহিদা পাঠানো হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিহাব উদ্দিন আহমদ বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আগামী দুই এক দিনের মধ্যে যে সব জায়গাতে মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সেখানে ত্রাণ বিতরণ করা হবে।


পিএনএস-জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন