বিয়ের গুঞ্জন: বরগুনায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদককে শোকজ

  

পিএনএস ডেস্ক : সাংগঠনিক নির্দেশনা অমান্য করায় বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জোবায়ের আদনান অনিক ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসাইনের বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

শোকজ নোটিশের পরপরই গুঞ্জন উঠেছে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গোপনে বিয়ে করেছেন।

সোমবার রাতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে তিন কার্য দিবসের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পরপরই বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের আদনান অনিকের বিয়ের সাজে সজ্জিত একটি ছবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পায়। সেখানে তাকে বরবেশে এক নারীর সাথে দেখা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রিপন জোমাদ্দার এর মেয়ে রামিশা আদনান সারার সঙ্গে জুবায়ের আদনান অনিকের বিয়ে হয়। গত ৩০ আগস্ট বরিশালে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। অনিকের স্ত্রী রামিশা আদনান সারা মঠবাড়িয়া কে এম লতিফ ইনস্টিটিউট থেকে এ বছর এসএসসি পাস করেছেন। বয়স কম হওয়ায় বিয়ের বিষয়টি গোপণ রেখেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়াও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসাইনও গোপনে এক পুলিশ কর্মকর্তার মেয়েকে বিয়ে করেছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে বরগুনার রাজনৈতিক মহলে।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের আদনান অনিক বলেন, বেতাগী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল এনামুল ইসলাম সাব্বির দলীয় কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। তিনি বিয়ে করেছেন এবং তার সন্তানও হয়েছে।

তাই তাকে জেলা ছাত্রলীগ সিদ্ধান্ত নিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। এ কারণে সশরীরে উপস্থিত হয়ে শোকজ নোটিশের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি।

বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করে অনিক বলেন, বিয়ে তিনি করেননি। তবে তার বাবা মেয়ে পছন্দ করে আংটি পরিয়ে রেখেছেন।

তবে বেতাগী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল এনামুল ইসলাম সাব্বির বলেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির একান্ত অনুগত না হওয়ায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে কোনো ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই ছাত্রলীগ থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ গঠনতন্ত্র বিরোধী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

২০১৫ সালে সর্বশেষ বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জেলার উপজেলা ও অন্যান্য ইউনিটের বেশকিছু নেতার বিরুদ্ধে সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ সব বিষয়ে এই দুই নেতাকে ব্যাখ্যা করতে বলা হবে বলে মনে করছেন জেলা ছাত্রলীগের নেতারা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য এর মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন