কখনও ‘প্রবাসী নারী’, কখনও ‘পুলিশ অফিসার’ তিনি!

  

পিএনএস ডেস্ক:গলার স্বর পরিবর্তন করে নারীকণ্ঠে কথা বলে কখনও ‘প্রবাসী নারী’, কখনও ‘পুলিশ অফিসার’, কখনও ‘মেয়ের মা-বোন’ সেজে প্রতারণা ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন লোকের কাছ বিকাশের মাধ্যমে থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন মাসুক মিয়া ওরফে মাসুদ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও মোবাইল ফোনে নারী সেজে প্রতারণার অপরাধে তাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৪)।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে নরসিংদী জেলার মনোহরদী থানা এলাকায় মনোহরদী পৌরসভা বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত হওয়া তিনটি মোবইল ফোন ও ৫ হাজার টাকা উদ্ধার করে র‌্যাব।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে র‍্যাব-৪ এর সহকারী পরিচালক পুলিশ সুপার (এএসপি) জিয়াউর রহমান চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিভিন্ন সময় অভিযোগ আসে, মেয়েদের নামে ফেইক ফেইসবুক আইডি খুলে, সুন্দরী মেয়ের ছবি দিয়ে বিভিন্ন জনকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে নানাভাবে প্রলুব্ধ করে বিকাশের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ভুয়া আইডি ও প্রোফাইল পিকচার দিয়ে ফেসবুক ব্যবহার করে বন্ধু হওয়ার আমন্ত্রণ করা হয়। এ আমন্ত্রণে সাড়া দিলেই হয় মোবাইল নম্বর দেওয়া-নেওয়া।

এরপর দীর্ঘ সময় ধরে নারীকণ্ঠে বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপ, প্রেম ও ভালোবাসা। একপর্যায়ে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার জন্য তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেন। পথে দুর্ঘটনা আবার কখনো হাসপাতালে ভর্তি, তাৎক্ষণিক মিটমাট করার জন্য প্রয়োজন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু সঙ্গে এত টাকা নেই, তাই বন্ধুর শরণাপন্ন হতে হয়। বন্ধুও সরল বিশ্বাসে ভালোবাসার টানে বিকাশের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত টাকা পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এভাবেই বিকাশের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় মাসুক। তবে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে কখনও ভিডিও কলে কথা বলতো না সে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে এএসপি জিয়াউর জানান, আসামি মাসুক মিয়া সোনিয়া আক্তার কেয়া নামে ফেইক ফেসবুক আইডি খুলে, তানজিম মেহেজাবিন খান স্নেহা নামে এক মেয়ের ছবি প্রোফাইল পিকচার হিসেবে ব্যবহার করেন। নিজেকে লন্ডনপ্রবাসী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ছেলেদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে বন্ধুত্ব স্থাপন করে কখনও ম্যাসেঞ্জারে, কখনও মোবাইলে নারীকণ্ঠে কথা বলতেন। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে প্রতারণা করে নিরিহ মানুষদের কাছ থেকে এ পর্যন্ত ১৫-২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন