প্রেমিককে বাদ দিয়ে অন্যত্র বিয়ের চেষ্টা, ঢাবি ছাত্রীর আত্মহত্যা

  

পিএনএস ডেস্ক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী ফারিয়া তাবাসসুম রুম্পা পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় ভাইয়ের ভাড়া বাসায় আত্মহত্যা করেছেন। প্রেমিককে বাদ দিয়ে অন্য ছেলের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার কন্দর্পপুর গ্রামে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আটঘরিয়া থানা পুলিশ রাতেই লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় রুম্পার বাবা ফরিদ উদ্দিন মণ্ডল একটি ইউডি মামলা করেছেন।

জানা গেছে, পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের বাবুলচরা গ্রামের ফারিয়া তাবাসসুম রূম্পা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তিনি থাকতেন শামসুন্নাহার হলে। রুম্পার বাবা ফরিদ উদ্দিন মণ্ডল পেশায় সরকারি চাকরিজীবী। রুম্পার বড় ভাই আটঘরিয়ায় একটি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। আটঘরিয়ার কন্দর্পপুরে ভাইয়ের ভাড়া বাসায় ছিলেন রুম্পা। সেখানেই সোমবার তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুম্পার সঙ্গে একটি ছেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তার পরিবার থেকে সেই ছেলেকে বাদ দিয়ে অন্য ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। সে কারণেই রুম্পা আত্মহত্যা করতে পারেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে রুম্পার সহপাঠী হাসনাত আবদুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ক্লাস সেভেন থেকে রুম্পার সাথে একটি ছেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রুম্পার সাথে যে ছেলের সম্পর্ক ছিল সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না হওয়ায় রুম্পার পরিবার তাদের সম্পর্ক মেনে নেয়নি। এটা নিয়েই পরিবারে দ্বন্দ্ব চলছিল। হয়তো জোর করেই অন্যত্র বিয়ে দিতে চেয়েছিল পরিবার। আর সে কারণেই রুম্পা আত্মহত্যা করতে পারে।’

তবে পছন্দের ছেলেকে বাদ দিয়ে অন্যত্র বিয়ে ঠিক করায় রুম্পা আত্মহত্যা করেছেন কি না, এ বিষয়ে কথা বলতে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে স্বজনরা এ বিষয়ে কোনো কথা বলেননি।

আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘রুম্পা গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। পরিবারের লোকজন দেখতে পেয়ে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে আমরা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি।’

ওসি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় নিহত রুম্পার বাবা থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করেছেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। প্রেমঘটিত একটি বিষয় ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে আসল ঘটনা কী ছিল তা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

পিএনএস-জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন