‘রক্ত দেবো জীবন দেবো, তবুও দোকান পজিশন ছাড়বো না’

  

পিএনএস, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : ‘রক্ত দেবো জীবন দেবো, তবুও দোকান পজিশন ছাড়বো না-এমন ঘোষণা দিয়েছেন আড়াইশ’ পজিশন মালিক ও ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার (১২জানুয়ারি) বেলা ১১টায় বগুড়ার শেরপুর পৌর শহরের স্থানীয় বাসষ্ট্যান্ডে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

মার্কেটের ভূমি মালিকদের স্বৈরাচারি সিদ্ধান্তে উচ্ছেদের প্রতিবাদে উপজেলা দোকান পজিশন মালিক সমিতির উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আব্দুর রহমান টুকু। বক্তব্য রাখেন সমিতির উপদেষ্টা শফিকুল ইসলাম, আফছার আলী, অপরেশ চন্দ্র বসাক, সাধারণ সম্পাদক আফছার আলী, কোষাধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ প্রমূখ।

ঘন্টাব্যাপি চলা এই কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, উত্তরবঙ্গ মহাসসড়ক চারলেনে সম্প্রসারণ করার জন্য মহাসড়ক সংলগ্ন জমি অধিগ্রহণ করেছে সরকার। এজন্য জমি ও স্থাপনার ক্ষতিপুরণ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ভূমি মালিকরা ক্ষতিপুরণের টাকা উত্তোলন করলেও তাদের বিক্রি করা পজিশন মালিকদের স্থাপনার সেই ক্ষতিপুরুণের টাকা দিচ্ছেন না। ফলে পজিশন মালিকদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। সেইসঙ্গে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ন্যায্য পাওনা আদায়ে ‘জীবন দেবো, তবুও স্থাপনা ভাঙতে দেবো না’। প্রয়োজনে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতেও প্রস্তুত রয়েছেন বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়। তাই ভূমি অধিগ্রহণের বাইরে ভবন ও স্থাপনা না ভাঙতে আহবান জানান বক্তারা।

উপজেলা পজিশন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফছার আলী বলেন, শহরের স্থানীয় বাসষ্ট্যান্ডে অভিজাত পাঁচটি মার্কেট রয়েছে। এসব মার্কেটের মালিকদের নিকট থেকে ২৫০জন ব্যক্তি পজিশন কিনে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তাদের টাকায় মার্কেটের স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ মার্কেটের জমি মালিকরা তাদের ভূমির ক্ষতিপুরণের টাকার পাশাপাশি স্থাপনার টাকাও তুলে নিচ্ছেন। পজিশন মালিকদের বর্তমান বাজার অনুযায়ি ন্যায্য ক্ষতিপুরণ দিচ্ছেন না।

অত্র সংগঠনের সভাপতি আব্দুর রহমান টুকু অভিযোগ করে বলেন, শহরের মোহাম্মদ আলী কমপ্লেক্সেটি ২১শতক জায়গার ওপর অবস্থিত। এরমধ্যে মাত্র চার শতক জায়গা মহাসড়ক সম্প্রসারণের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এজন্য ত্রিশটি দোকানের মধ্যে কেবল ছয়টি দোকান ভাঙতে হবে। বাকি দোকান ভাঙার কোনো প্রয়োজন নেই। তাই ওইসব দোকানে যথারীতি ব্যবসায়িক কার্যক্রমও চলছে। কিন্তু এই মার্কেটের জমির মালিক জেলা ভূমি অধিগ্রহণ ও গণপূর্ত অফিসের কতিপয় কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজস করে পুরো ভবন ‘ড্যামেজ’ দেখিয়ে ক্ষতিপুরণ নিয়েছেন। অথচ দোকান পজিশন গ্রহিতাদের সেই অনুযায়ী ক্ষতিপুরণের টাকা দিচ্ছেন না। এই পজিশন মালিক ও ব্যবসায়ী নেতা আরও বলেন, সড়ক সম্প্রসারণ কাজের জন্য বিগত তিন-চার মাস যাবত ভাঙা-গড়ার কারণে এমনিতেই ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ। তাদের আয়-রোজগার না থাকায় কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। সেইসঙ্গে ক্ষতিপুরণের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে জরুরি ভিত্তিতে সমাধান করার জন্য স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

পিএনএস/এসআইআর

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন