স্ত্রীর মৃত্যুর খবরে স্বামীরও মৃত্যু, অনাথ হলো ৮ দিনের শিশু

  

পিএনএস ডেস্ক : ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গত ৬ জানুয়ারি নাদিয়া আনার কলি (২০) ফুটফুটে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। সেখানে পাঁচ দিন থেকে সুস্থ হয়ে হাসিমুখে সন্তানকে নিয়ে বাসায় ফেরেন। সবকিছু ঠিকই ছিলো। কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন কলি। স্বামী মোস্তফা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী মোস্তফা ওষুধ আনতে যান ফার্মেসিতে। ফিরে আসার পূর্বেই খবর পান স্ত্রী কলি মারা গেছেন। শোক সইতে না পেরে সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর কলে ঢলে পড়েন মোস্তফাও।

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম বাঁশবুনিয়া গ্রামে মোস্তফার বাড়িতে এখন কেবলই শোকের মাতম। ফুটফুটে শিশুটির মাত্র ৮ দিন বয়সে অনাথ হওয়ার বিষয়টি যেন কেউই মেনে নিতে পারছেন না।

বৃহস্পতিবার পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে গৃহবধূ কলির মৃত্যু হয়। আর সে খবরেই মারা যান তার স্বামী মোস্তফাও। এদিকে বাবা-মায়ের মৃত্যুতে অনাথ হয়ে যাওয়া নবজাতকে বুকে নিয়ে অঝোরে কাঁদছেন কলির মা ছালমা বেগম ও মোস্তফার মা সাজেদা বেগম।



পরিবারের সদস্যরা জানান, কলি গর্ভবতী হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সন্তান প্রসবের জন্য শহরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি হন। ক্লিনিকে ৬ জানুয়ারি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুত্রসন্তানের মা হন কলি। সুস্থ হয়ে ১১ জানুয়ারি ক্লিনিক থেকে শহরের শান্তিবাগ এলাকায় ভাড়া বাসায় ওঠেন তারা।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কলি একাধিকবার বমি করেন, খিঁচুনি ওঠে। স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে সকালেই মোস্তফা কলিকে নিয়ে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিক কলিকে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করে ওষুধের জন্য ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন। মোস্তফা ওষুধ কিনতে হাসপাতালের সামনের ফার্মেসির দিকে যাওয়ার সময় মুঠোফোনে কলির মৃত্যুর খবর পান। সেখানেই ঢলে পড়েন মোস্তফা। লোকজন তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মোস্তফা পটুয়াখালী শহরের ফজিলাতুন্নেছা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে খণ্ডকালীন ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে পাঠদান করে আসছিলেন। প্রায় ছয় বছর আগে পারিবারিকভাবে শহরের টাউন কালিকাপুর এলাকার প্রয়াত মকবুল হোসেনের মেয়ে কলির সঙ্গে বিয়ে হয়। নুরুল হক আকনের চার ছেলের মধ্যে মোস্তফা ছিলেন তৃতীয়।

পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা মাজাহারুল ইসলাম জানান, গুরুতর অসুস্থ কলিকে হাসপাতালে নিয়ে এলে বারবার বমি করেন ও তার খিঁচুনি হচ্ছিল। বেডে নেওয়ার পরপরই রক্ত বমি হয় এবং মারা যান কলি। প্রসব-পরবর্তী অ্যাকলেমশিয়ায় কলির মৃত্যু হয় বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা। আর তার স্বামী মোস্তাফা স্ত্রীর মৃত্যুর খবরের শোক সইতে পারেননি। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।।

পিএনএস-জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন