এতিম ভাইকে নিরুদ্দেশ যাত্রায় ট্রেনে তুলে দিলেন ভাই-ভাবি!

  

পিএনএস ডেস্ক : বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর এতিম হয়ে যায় নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলার ভাবানীপুর গ্রামের শিশু রফিকুল। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর দায়িত্ব না নিয়ে ১০ বছরের শিশুকে অজানার উদ্দেশ্যে ট্রেনে তুলে দিলেন তার আপন ভাই ও ভাবি।

এ সময় তারা বলেন, 'আমরা তোকে আর দেখাশোনা করবো না। তোর কপাল যেখানে আছে চলে যা। বেঁচে থাকলে হয়তো দেখা হবে।'

আজ রবিবার দুপুরে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে কথাগুলো বলছিলেন নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের মৃত বাদেশ মন্ডলের ছেলে রফিকুল ইসলাম।

শিশু রফিকুল জানান, তার বয়স ১০ বছর। সে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো। এক বছর পূর্বে তার বাবা-মা মারা যায়। তাদের মৃত্যুর পর সে একমাত্র ভাই-ভাবির কাছে থাকতো। ভাই রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। নওগাঁ শহরে থাকেন। শনিবার তার ভাই-ভাবি তাকে রাখতে পারবে না বলে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসে তুলে দেন।

স্থানীয় সোনার বাংলা সমাজকল্যাণ ও ক্রীড়া সংসদের আহ্বায়ক হেলাল খন্দকার বলেন, শনিবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে তাকে বালিয়াকান্দির বহরপুর রেল স্টেশনে পাওয়া যায়। প্রথমে সে কাঁদছিল। তাকে বাড়িতে নিয়ে এসে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে শিশুটির পরিচয় জানা যায়। তার বয়স ১০ বছর। সে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো। তারা বাবা-মা প্রায় এক বছর পূর্বে মারা যায়। বাবা মায়ের মৃত্যুর পর ভাই এবং ভাবির বাসায় থাকতো। শনিবার তার ভাই-ভাবি তাকে আর রাখতে পারবে না বলে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেনে তুলে দেয়। পরে বহরপুর রেল স্টেশনে পাওয়া যায় শিশুটিকে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আম্বিয়া সুলতানা বলেন, শনিবার রাতে বহরপর স্টেশনে একজন সমাজকর্মী একটি শিশুকে পেয়েছেন। শিশুটির দেয়া তথ্যমতে, নওগাঁর সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা হয়েছে। শিশুটি বর্তমানে সোনার বাংলা ক্রীড়া সংদসের আহ্বায়ক হেলাল খন্দকারের বাড়িতে রয়েছে। তাকে তার ভাই-ভাবি বা পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন