‘হাতে-পায়ে ধরেছি, তবুও কোনো লাভ হয়নি’

  

পিএনএস ডেস্ক : কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বৃদ্ধ ইয়াকুব আলী (৬৯) চার বছর ধরে বিছানায় শয্যাশায়ী। স্ত্রী ছকিনা বেগম (৬৪) স্বামীর চিকিৎসা ও দুই বেলা খাবার জোটাতে অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। এমন অবস্থায় বয়স্ক ভাতার কার্ড চাইতে গেলে স্থানীয় তবকপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আশরাফুল ইসলাম ওই বয়স্ক দম্পতির কাছ থেকে টাকা চান। ইউপি সদস্যর চাহিদামতো ৫ হাজার টাকা করে দিতে না পারায় ভাতার কার্ড জোটেনি বলে অভিযোগ করেছেন পঙ্গু ইয়াকুব আলী ও তার স্ত্রী ছকিনা বেগম।

ছকিনা বেগম বলেন, ‘পাঁচ ছেলেমেয়ের মধ্যে তিন মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছেলে শফিকুল ইসলাম ঢাকায় রিকশা চালায়, পরিবার নিয়ে সেখানেই থাকে। ছোট ছেলে রফিকুল ইসলাম সে-ও পঙ্গু হওয়ায় ঢাকায় ভিক্ষাবৃত্তি করে। আমাদের দেখার মতো কেউ নেই।’

তিনি আক্ষেপ করে জানান, আল্লাহ তাদের তুলে নিলে সব কষ্ট শেষ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে এলাকায় মাইকিং করে ভাতার কার্ডের জন্য ভোটার আইডি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ করতে বলা হয়। সেখানে গেলে এলাকার মেম্বার আশরাফুল ইসলাম ভাতা পাওয়ার উপযুক্ত বয়স হয়নি বলে ফিরিয়ে দেন। পরে মেম্বার বাড়িতে এসে ভাতা কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে জনপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা করে দাবি করেন। দু-বেলা ভাত জোটে না, সেখানে এত টাকা কোথায় পাব। হাতে-পায়ে ধরেছি, তবুও কোনো লাভ হয়নি। টাকা না দিলে জোটে না ভাতার কার্ড। চেয়ারম্যানের কাছে গেলে তিনিও তাড়িয়ে দেন।’

স্থানীয় একজন বলেন, ‘এই দুজনের কষ্টের শেষ নেই। আমরা নিজেরাও দরিদ্র, তবুও যতটুকু পারি সহযোগিতা করি।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার ইউপি সদস্য টাকা ছাড়া কিছুই বোঝেন না। তার কাছে কোনো কাজ নিয়ে গেলেই আগে টাকা চান।

তবকপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম টাকা চাওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘কাজ করতে গেলে তো টাকা লাগে। আমি কী নিজের পকেটের টাকা দিয়ে কাজ করে দেব?’

কোন কাজে টাকা লাগে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য বলেন, ‘অনলাইন খরচ আছে, ভাতা বই করতেও টাকা লাগে। তাছাড়া অফিসের কিছু খরছ আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা অনলাইনে আবেদন করেনি। আবেদন না করলে আমি কীভাবে কাজ করে দেব। ভবিষ্যতে সুযোগ আসলে অবশ্যই ভাতার ব্যবস্থা করে দেব তাদের।’

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ নেই। ভাতাভোগীদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করলে সেখানে প্রতিস্থাপন করার সুযোগ আছে। এ কারণে তাদের অফিসে পাঠিয়ে দিলে আমি সে চেষ্টা করে দেখব।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূর-এ-জান্নাত রুমিকে জানালে তিনি ওই দম্পতিকে কার্ড করে দেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দেন।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন