ফরিদপুরে সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু: আটক ৩

  

পিএনএস ডেস্ক : ফরিদপুরের সালথায় করোনার বিস্তার রোধে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সৃষ্ট সংঘর্ষে আহত একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা চত্বরে লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়ি ও তিনটি মোটরসাইকেল জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।

তিন ঘণ্টাব্যাপী এই হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ থেকে রক্ষা পায়নি উপজেলা কমপ্লেক্সের গাছপালা থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সালথার পাশাপাশি ফরিদপুর, বোয়ালমারী, ভাঙ্গা ও নগরকান্দা থানা পুলিশসহ র্যা ব, আনসার সদস্যরা ৫৮৮ রাউন্ড শটগানের গুলি, ৩২ রাউন্ড গ্যাস গান, ২২টি সাউন্ড গ্রেনেড এবং ৭৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি ছোড়ে।

এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৮ সদস্যসহ আহত হন কমপক্ষে ২০ ব্যক্তি। আহতদের মধ্যে স্থানীয় রামকান্তপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আশরাফ আলীর ছেলে হাফেজ জুবায়ের হোসেন (২০) নামের এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থল ও আশ পাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র্যাপব মোতায়েন করা হয়েছে।

সালথার ইউএনও হাসিব সরকার বলেন, গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনা পালন করতে সোমবার বিকেলে ওই বাজারে যান সহকারী কমিশনার (ভূমি)। সেখানে তিনি যাওয়ার পর মানুষের জটলা সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় তিনি ওই স্থান থেকে ফিরে এসে সেখানে পুলিশের একটি দল পাঠান।

ইউএনও’র ভাষ্য, পুলিশ যাওয়ার পর স্থানীয়দের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমানের ওপর হামলা চালায় স্থানীয়রা। হামলায় মিজানুর রহমানের মাথা ফেটে যায়।

তিনি দাবি করেন, পুলিশ চলে আসার পর স্থানীয় একটি চক্র গুজব রটায় পুলিশের গুলিতে স্থানীয় কয়েকজনের মৃত্যু ও বাহিরদিয়া মাদ্রাসার দুই মাওলানাকে গ্রেপ্তারের পর তাদেরকে মারধর করা হচ্ছে।

এমন গুজবে হাজারো মানুষ এসে থানা ঘেরাও করে। পরে উপজেলা পরিষদ, থানা, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়, ইউএনও’র বাসভবন, উপজেলা কৃষি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

এ সময় ইউএনও ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সালথা উপজেলা সদর এলাকা রণক্ষেত্র পরিণত হয়।

সালথা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর জানান, সুপরিকল্পিতভাবে বিএনপি, জামায়াত ও হেফাজতের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে। একটি গুজব ছড়িয়ে এ হামলা চালানো হয়েছে।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বিপিএম বলেন, মিথ্যা গুজবেই মধ্যযুগীয় কায়দায় হামলা চালানো হয়।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার্থে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সালথা থানা পুলিশের পাশাপাশি আশপাশের থানা থেকে আসা পুলিশ সদস্যসহ র্যা ব ও আনসার সদস্যরা ৫৮৮ রাউন্ড শটগানের গুলি, ৩২ রাউন্ড গ্যাস-গান, ২২টি সাউন্ড গ্রেনেড এবং ৭৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি ছোড়ে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৮ সদস্যসহ আহত হন কমপক্ষে ২০ ব্যক্তি। আহতদের মধ্যে স্থানীয় রামকান্তপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আশরাফ আলীর ছেলে হাফেজ জুবায়ের হোসেন (২০) নামের এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

পুলিশ সুপার বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে আমরা তিনজনকে আটক করেছি। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

পিএনএস/এসআইআর

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন