পাইকগাছায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি

  

পিএনএস, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : খুলনার পাইকগাছায় উপ-সহকারি মেডিকেল অফিসার, পুলিশ প্রশাসনের করেনা পজিটিভ সনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জুন মাসে ৮দিনে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২৯ জন। এর আগে ৩০মে কপিলমুনি ফাঁড়ি ইনচার্জ করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। তারা হলেন পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পিংকু দাম। উপজেলার রাড়ুলীর যুথী আক্তার (২২), আগড়ঘাটার মোজাহার গাজী (৭৫) এবং আশাশুনি বড়দলের আগষ্টাইন (২৮)। এরা সবাই পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর ল্যাবে করোনা র্যাপিড এন্টিজেন্টে পরীক্ষায় সনাক্ত হয়েছেন। এদিকে করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় পৌরসভা এলাকায় ১০ জুন থেকে ১৬ জুন রাত বারোটা পর্যন্ত কঠোর বিধি-নিষেধ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া উপজেলার কপিলমুনি হাট, চাঁদখালী হাট, বাঁকা ও কাটিপাড়ার বাজার বন্ধ থাকবে।

উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মানুষ জন এখন আর মাস্ক ব্যবহারে অনিহা। আবার কিছু অংশ যারা মাস্ক ব্যবহার করছেন, তাদের মাস্ক রয়েছে মুখের নীচে অর্থাৎ থুতুতে, কারো রয়েছে পকেটে, আবার কেউবা কানে ঝুলিয়ে রাখছেন। যাদের মাস্ক নেই তাদের কাছে না থাকার কারণ জিজ্ঞাসা করলে বলছে মাস্ক আছে পকেটে, আবার কেউ বলছে এটা ব্যবহার করলে তাদের শ্বাসকষ্টসহ নানাবিধ অসুবিধা হচ্ছে। এদিকে স্বাস্থ্যবিভাগের পক্ষ থেকে জানা গেছে, গত বছরের মার্চ মাস থেকে উপজেলায় ৮৫১জন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এরমধ্যে পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ২শত ৫৬জন এবং করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরন করেছেন ৬ জন। সর্বশেষ মঙ্গলবার ১০ জনের করোনা টেষ্ট করলে ৪ জনেরর পজিটিভ হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ও করোনা মুখপাত্র ডাঃ ইফতেখার বিন রাজ্জাক জানিয়েছেন, দেশে যেখানে মৃত্যু হার প্রায় ১.৩শতাংশ, সেখানে পাইকগাছা উপজেলায় প্রায় ২.৫ শতাংশ। তিনি আরো জানান, জুন মাসের ৮ তারিখ পর্যন্ত ৭৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৯ জনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। মঙ্গল বার ৪জনের করোনা সনাক্ত হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ডাঃ নীতিশ চন্দ্র গোলদার জানিয়েছেন, পৌরসভাসহ উপজেলার কিছু কিছু ইউনিয়নে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেকাংশে বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরো জানান, যেখানে জাতীয় পর্যায়ে সানক্তের হার প্রায় ১০শতাংশ, সেখানে পাইকগাছায় সানক্তের হার প্রায় ৪০শতাংশ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানিয়েছেন, উপজেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী ১০ জুন বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ১৬ জুন বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত পৌরসভায় কঠোর বিধি-নিষেধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুধুমাত্র হাসপাতাল, ক্লিনিক, ঔষধের দোকান, ফায়ার সার্ভিস, পানীয় জল ও সংবাদপত্র খোলা থাকবে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি দোকান, কাঁচা বাজার, কৃষি, নির্মাণ সামগ্রীর দোকান সমূহ সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এছাড়া অন্য সকল প্রকারের দোকান পাট, কলকারখানা বন্ধ থাকবে। হোটেল রেস্টুরেন্টে শুধুমাত্র অনলাইনে বিক্রয় ও সরবরাহ করতে পারবে কিন্তু কেউ বসে খেতে পারবে না। লকডাউন চলাকালে পৌরসভা অভ্যন্তরে সকল প্রকার গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। সকল ক্রেতা ও বিক্রেতাদেরকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান ও তিন ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এছাড়া উপজেলার কপিলমুনি ইউপির কপিলমুনি হাট, রাড়–লী ইউপির বাঁকা ও কাঠিপাড়া বাজার এবং চাঁদখালী ইউনিয়নে চাঁদখালী হাট বন্ধ থাকবে। উক্ত ৪টি স্থানে শুধুমাত্র ঔষধ, নিত্য প্রয়োজনীয় মুদি দোকান, কাঁচা বাজার ছাড়া সকল দোকান, শপিং মহল বন্ধ থাকবে।

পিএনএস/এসআইআর

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন