ব্রিজের নিচে পড়েছিল যুবকের লাশ, তার পাশে 'ড্যান্ডি'!

  

পিএনএস ডেস্ক : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মো. সুমন মিয়া (২২) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার সকালে উপজেলার অরুয়াইল-চাতলপাড় সড়কের শোলকান্দি সেতুর নিচ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। সুমন উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের ধামাউড়া গ্রামের নাসির মিয়ার ছেলে।

সুমনের লাশের পাশে জুতায় তৈরির জন্য ব্যবহৃত আঠা উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়ভাবে আঠার ব্যবহারকে 'ড্যান্ডি' নামে মাদক হিসেবেই চিনে। মারা যাওয়া সুমনও এ নেশায় আসক্ত ছিলো বলে স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পেরেছে। পাশাপাশি ড্যান্ডি খেয়েই তার মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. একরাম উল্লাহ ‘ড্যান্ডি’ সম্পর্কে জানান, কিছু অপ্রচলিত মাদকের মধ্যে জুতার আঠা একটি। এটা শ্বাসের মাধ্যমে ভেতরে প্রবেশ করলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এ বিষয়ে সবার সচেতন হওয়া দরকার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুমন মিয়া মাদকাসক্ত ছিলেন। তিনি জুতায় লাগানোর আঠা (ড্যান্ডি) নেশা হিসেবে গ্রহণ করতেন। নেশার টাকার জন্য সে প্রায়ই মা-বাবাকে নির্যাতন করতেন। সুমনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সম্প্রতি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত আবেদন করেছিলেন সুমনের পিতা নাসির মিয়া। আজ বুধবার সকালে শোলকান্দি ব্রিজের নিচ থেকে সুমনের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। লাশের পাশেই আঠার একটি ডিবি পাওয়া যায়।

লাশ উদ্ধারে যাওয়া সরাইল থানার উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান সাংবাদিকদেরকে জানান, ওই যুবক ড্যান্ডি নামে মাদক সেবন করতো বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে, ড্যান্ডি সেবনে তার মৃত্যু হয়েছে। তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সরাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কবির হোসেন জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই যুবক জুতা তৈরির কাজে ব্যবহৃত আঠা দিয়ে নেশা করতো। তার লাশের পাশেও আঠা পাওয়া গেছে। যে কারণে ধারণা করা হচ্ছে যে, আঠার নেশা করেই তার মৃত্যু হয়েছে।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন