স্ত্রীর মুখে কেরোসিন ঢেলে আগুন, পরে মাটিচাপা দিয়ে হত্যা

  

পিএনএস ডেস্ক: দিনাজপুরের বিরামপুরে গাছের চারা রোপণের সময় দেহাবশেষ উদ্ধার হওয়া নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম হাসিনা বেগম ওরফে সুমি (৩২)। তবে তার ১৩ দিন বয়সী সন্তানের সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার (১১ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা দিকে নিহত হাসিনা বেগম ওরফে সুমির স্বামী আব্দুর রউফ (৪০) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। দিনাজপুরের সিনিয়র জুডশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

পুলিশ আব্দুর রউফের জবানবন্দির বরাত দিয়ে জানান, আব্দুর রউফ তার চতুর্থ স্ত্রী হাসিনা বেগম ওরফে সুমিকে নিয়ে ফাঁকা মাঠের একটি সেচপাম্পের ঘরে বসবাস করতেন। তবে রউফের অন্য স্ত্রীরা তার বাড়িতে বসবাস করতেন। হাসিনা বেগমও স্বামীর বাড়ি থাকতে চাওয়া নিয়ে গত ১ জুন রাতে রউফের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে রউফ স্ত্রী হাসিনার গলা চেপে ধরেন এবং অজ্ঞান হয়ে গেলে তার মুখে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেন। পরে মৃত ভেবে হাসিনার নিথর দেহ গুম করার জন্য কাঁধে নিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বনের মধ্যে নিয়ে যান। সেখানে একটি পানির ড্রেনে স্ত্রীর নিথর দেহ ফেলে দেয়। পরে বাড়ি থেকে কোদাল নিয়ে এসে হাসিনাকে জীবন্ত অবস্থায় মাটিচাপা দেন রউফ।

গত বুধবার (৯ জুন) বিকেলে উপজেলার নয়ানি খসালপুর দরগাপাড়া ফরেস্টের ২৭ নং দাগের বাগানের পাশে গাছ লাগানোর জন্য গর্ত খুঁড়তে গিয়ে বন বিভাগের কর্মচারীরা একটি গলিত মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ গিয়ে অজ্ঞাত ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে জড়িত সন্দেহে বৃহস্পতিবার সকালে স্বামী আব্দুর রউফকে আটক করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১০ জুন) সকালে উপজেলার চড়াই ভিটা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের বাড়ি থেকে পুলিশ তাকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় আব্দুর রউফ আদালতে ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।


বিরামপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসিনা বেগমের বাড়ি নবাবগঞ্জ উপজেলায়। স্বামী পরিত্যাক্তা হয়ে বছর তিনেক আগে বিরামপুর উপজেলার খাঁনপুরে নানা বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। আটক আব্দুর রউফ নিজ বাড়ি এবং শালবনের পাশের মাঠে পাম্প ঘর ভাড়া নিয়ে জমিতে সেচ দেয়ার কাজ করতেন।

দেড় বছর আগে খাঁনপুর বাজারে উভয়ের পরিচয় হয়। এর কিছুদিন পরে তারা বিয়েও করেন। সুমি রউফের ৪র্থ স্ত্রী। তার ১ম স্ত্রী মারা যায়, দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তৃতীয় স্ত্রীর সঙ্গে বন্ধন আদর্শ গ্রামের থাকেন।

বিয়ের পর হাসিনা বেগমের সঙ্গে বিয়ের পরে থেকে উপজেলার বিভিন্ন ভাড়া বাসায় থাকেন তারা। এমনকি মাঝে মাঝে রউফের কর্মস্থল শালবনের পাশে পাম্প ঘরেও রাত যাপন করেন। এরই মধ্যে হাসিনার গর্ভে সন্তান আসে। ঘটনার ১৩ দিন আগে তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়।

বিরামপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (তদন্ত) মতিয়ার রহমান বলেন, ১০ দিন আগে স্ত্রী হাসিনা সন্তানকে অন্য কারো কাছে রেখে রউফের পাম্পঘরে আসেন রাত ১০টায়। সন্তানসহ তাকে নিজ বাড়িতে উঠানোর জন্য চাপ দেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা। পরে রউফ হাসিনাকে মারধর করে অচেতন করার পর মাটিচাপা দেয়। তবে তাদের শিশুসন্তান কোথায় রয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন