পর্যটক শূন্য রাঙামাটি, রাজস্ব খাতে ঘাটতি কোটি টাকা

  19-07-2021 03:39PM


পিএনএস ডেস্ক: পর্যটক শূন্য রাঙামাটি। আয় নেই, আছে ব্যয়। চার মাস ধরে বন্ধ পর্যটন কেন্দ্র। দিন যত বাড়ছে লোকসানও বাড়ছে কয়েকগুন। মাত্র চার মাসে রাজস্ব খাতে ঘাটতি রয়েছে এক কোটি টাকা। আয় সংকট চলমান থাকলে বন্ধ হতে পারে কর্মচারীদের বেতনও।

শুধু পর্যটন ব্যবসায়ীরা নয়, এর প্রভাব পড়বে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের শিল্পের উপরও। তাই টানা পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকলে নানামুখি সংকটের শঙ্কা বাড়বে বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে গত এপ্রিল মাস থেকে বন্ধ রাঙামাটির পর্যটন কেন্দ্রগুলো। তাই নেই কোন পর্যটকের আনাগোনা। একেবারে স্থবির পর্যটন কেন্দ্রীক সব ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো। আর মাত্র একদিন পর ঈদ-উল-আযহা হলেও লাগেনি উৎসবের রঙ।

করোনা সংক্রমণের শঙ্কায় বন্ধ সমস্ত আয়োজন। অথচ গেলো বছরও পর্যটকের উপচেপড়া ভিড় ছিল এ পাহাড়ে। কিন্তু এখন পুরাই ভিন্ন চিত্র। এবার খালি সব হোটেল, মোটেল ও রেস্ট হাউসগুলো। বেকার হয়ে পড়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্রে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো।

শুধু রাঙামাটি নয়, একই চিত্র দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত অপর দুই পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। করোনার কলো ছায়ায় ধস নেমেছে পর্যটন ব্যবসায়। অলস সময় পাড় করছে হাজারো পর্যটন শ্রমিক। এক সময় যে পাহাড় জুড়ে জমজমাট ছিল ভ্রমন পিয়াসুদের আনাগোনায়। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে হাজারো পর্যটক ছুটে আসতো সবুজ পাহাড় ও নদী ঘেরা মনোরম প্রকৃতির লীলাভূমি পার্বত্যাঞ্চলে। এখন তা কল্পনা করা যায়না।

রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের নৌযান ঘাটের ম্যানেজার মো. রমজান আলী জানান, 'পর্যটক নেই, তাই ব্যবসাও নেই। নৌযার ঘাটের প্রায় শতাধিক মানুষ বেকার রয়েছে। কাপ্তাই হ্রদে এখন আর কেউ নৌ ভ্রমণ করে না। করোনার কারণে সব কিছুতেই ধস নেমেছে।'

অন্যদিকে, পাহাড়ে সেজেছে নতুন রূপে। সবুজ পাহাড়ে একপশলা বৃষ্টিতে দোল খেলছে সাদা মেঘের ভেলা। একই সাথে পাহড়ের ভাঁজে ভাঁজে হরেক রঙের ফুলের মেলা। পাখ-পাখালির নির্মল আনন্দ আর অনাবিল উচ্ছাস। প্রকৃতিতে যেন শান্ত, কোমলতার রূপ নিয়েছে। কিন্তু তা দেখার কেউ নেই।

রাঙামাটি পর্যটন মোটেল ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া জানান, 'দেশে করোনাকালের শুরু থেকে বন্ধ রাঙামাটিতে পর্যটক আসা। মাঝখানে একটু স্বাভাবিক হলেও গত চার মাস ধরে একেবারে বন্ধ পর্যটন কেন্দ্র। তাই পর্যটন কমপ্লেক্সের কর্মচারীদেরও বেতন ভাতাও বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সে ৪৯ জন কর্মচারী রয়েছে। তাদের প্রতি মাসে বেতন দিতে হয় প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা। এদিকে, ঘাটতি রয়েছে এক কোটি টাকা।

প্রসঙ্গত, রাঙামাটি জেলাজুড়ে রয়েছে অসংখ্য উপভোগ্য স্থান। গড়ে উঠেছে অনেক দৃষ্টিনন্দন পর্যটন স্পট। এখন ভ্রমণপিপাসু ও প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের বেড়ানোর বড় সুযোগ ছিল ঈদের ছুটি। রাঙামাটির মূল শহর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের হলিডে কমপ্লেক্স।

সেখানে রয়েছে দৃষ্টিকাড়া ঝুলন্ত ব্রিজ, কটেজ ও মোটেল। পর্যটন নগরী রাঙামাটিতে পর্যটকদের আনন্দ ও মনোরঞ্জন জোগানোর অসংখ্য নৈসর্গিক আবেশ ও দর্শনীয় অনেকগুলো স্থান ও স্পট রয়েছে। সরকারি পর্যটন মোটেল ছাড়াও ডিসি বাংলো, পেদাটিংটিং, সুবলং ঝর্ণা ও পর্যটন স্পট, টুকটুক ইকো ভিলেজ, গিরিশোভা ভাসমান রেস্তোঁরা, পৌর পার্ক, সুখী নীল গঞ্জ, উপজাতীয় যাদুঘর, রাজবন বিহার, চাকমা রাজার বাড়ি, বীরশ্রেষ্ট মুন্সি আবদুর রউফের স্মৃতিসৌধসহ মনোরম ও নয়নাভিরাম স্পট ও স্থাপনা সত্যিই যে কোন পর্যটককে সহজেই কাছে টানে। শিহরিত করে তোলে স্বচ্ছ কাপ্তাই হ্রদের জলে নৌবিহারের মতো রোমাঞ্চকর নৌ-ভ্রমণ।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন