যেসব মেয়ে যৌন সম্পর্কে করতে পারলেই খুশি

  

পিএনএস ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের ২৪ বছর বয়সী এক স্কুল শিক্ষক এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তাঁর টিন-এজার ছাত্র-ছাত্রীদের কিছু গল্প শুনে তিনি রীতিমতো বিস্মিত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি বলেন, ছেলেরা যে ভাষায় যৌন ও যৌন ক্রিয়া সম্পর্কিত আলোচনা করে তাতে বুঝা যায় এ বিষয়ে তাদের জ্ঞান কতটা কম। সত্যিকার যৌন সম্পর্কের মধ্যে যে দুজনের মধ্যেই সম্মান ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক থাকে সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণাই নেই।

তিনি বলেন, মেয়েদের যে নিজের প্রতি ভালোবাসা থাকা উচিত, নিজ দেহেরও যে একটা মর্যাদা আছে সেটা তাদের শেখানো হয় না, তারা শেখেও না। এমনকি তাদের যদি ছেলেরা ব্যবহারও করে সেটাও তারা বুঝে না।

ওই শিক্ষক বলেন, আমার এক শিক্ষার্থী, যার বয়স ১৪ বছর। আমাকে বলছিল প্রেম হবার পর এক ছেলের সাথে তার যৌন সম্পর্ক হয়েছে। আর কয়েকদিন পর ওই ছেলে তাকে জানায় যে সে তাকে ভালোবাসে না। মেয়েটি দুঃখ পাচ্ছিল এই ভেবে যৌন সম্পর্ক করার পরও কেন ছেলেটি তাকে ভালোবাসে না। আমার মনে হয় না ১৪ বা ১৬ বছর বয়সী কোনো কিশোরী ঠিকভাবে যৌন ক্রিয়া করতে পারে এবং এ থেকে মজা নিতে পারে। তারা শুধু এর মধ্যে দিয়ে যায়। কোনো আনন্দ তারা নিতে পারে না। এমনটা করতে তারা বাধ্য হয়।

তিনি বলেন, সময়টা এমন যে তারা মনে করে তারা যৌন সম্পর্কে জড়াতে পারছে, এ কাজের জন্য তাদের পছন্দ করা হচ্ছে, এটাইতো সম্মানের। আর যদি ছেলেটা সমাজ বা স্কুলে বা কলেজে জনপ্রিয় হয় তাহলেতো কথাই নেই। তাদের সাথে যৌন সম্পর্কে জড়ানো মানে বিশাল কিছু-কিশোরীরা এমনটাই ভাবছে। এই যে ১৪, ১৫ বা ১৬ বছরে তারা যৌন সম্পর্কে জড়াচ্ছে একসময় তারা পিছনে ফিরে তাকাবে এবং সময় হারিয়ে বুঝবে এটা ভুল ছিল। তারা বুঝবে তাদের শরীর ব্যবহার করা হয়েছে। যৌন সম্পর্কের বিষয়টা তারা খুব সহজভাবে নেয় এবং পরবর্তীতে এটা তাদের পীড়া দেয়।

তিনি বলেন, কিশোরীদের আসলে বুঝাতে হবে যে এটা ঠিক নয়। তাদের যে ব্যবহার করা হচ্ছে সেটাও তাদের বুঝাতে হবে। তাদের না বলার অধিকার আছে এবং না বলতে পারলে কেউই যৌন সম্পর্ক নিয়ে কোনো ধরনের মানসিক চাপে পড়বে না। প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে মেয়েদের মধ্যে যে কনসেপ্ট তা আসলে ভাবার বিষয়, অনেকটা দুঃখেরও বিষয়। এই বয়সে ছেলেরা তাকে নিয়ে কী ভাবছে সেটাই মেয়েদের কাছে বড়। কোনো ছেলে যদি কোনো মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করতে না চায় তাহলে সেটা খারাপ-এমনটাই তারা ভাবে।

ওই শিক্ষক বলেন, আমার মনে হয় ছেলেরা অনেক চালাক, তারা এমন মেয়ে খোঁজে যাকে ব্যবহার করা যাবে তাদের মতো করে। অবশ্য সব ছেলে এক নয়। তারা যৌন সম্পর্কিত অসুখের বিষয়ে জানে, কনডম ব্যবহার সম্পর্কে জানে। কিন্তু সত্যিকার যৌন সম্পর্কের বিষয়টাই জানে না। এসব কিশোর-কিশোরীদের এ বিষয় সঠিক শিক্ষা প্রয়োজন। শিক্ষকরা এ বিষয়ে অতিরিক্ত ক্লাস নিতে পারে। যদিও অনেক শিক্ষক যৌন সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে কথা বলতে চায় না।

তিনি আরও বলেন, যখন স্কুলে ছিলাম তখন ওয়েব ক্যাম, সেস্ক চ্যাট, এমএসএন মেসেঞ্জারে এসব কেলেঙ্কারির বিষয়ে শুনতাম, কিন্তু কখনো ছেলেদের মেয়েদের নিয়ে এমনভাবে বলতে শুনিনি। জানি না কেন ক্রমশ পরিস্থিতি এতটা বদলাচ্ছে। আমরা পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে দোষ দিতে পারি, সোশ্যাল মিডিয়া ও ইন্টারনেটের সহজ ব্যবহারও হয়তো এজন্য দায়ী। কিন্তু এরা আসলে ইনফেক্টেড জেনারেশন, যাদের কাছে যৌন সম্পর্কের কোনো মর্যাদা নেই।

পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech