একজন নারী তার প্রেমিকের জন্যে যে কাজগুলো কখনোই করা উচিৎ নয়

  

পিএনএস ডেস্ক:আপনি যখন কাউকে প্রচণ্ড ভালোবাসেন, তখন নিজের পছন্দ ও চাহিদাগুলো বিসর্জন দিয়ে তার স্বপ্ন ও লক্ষ্যের পেছনে সময় দিতে নিশ্চয়ই পছন্দ করেন? কিন্তু সময়মত যদি নিজের জীবনটাও গুছিয়ে আনতে না পারেন তাহলে ক্রমশ কালের অতল গহ্বরে তলিয়ে যাবেন আপনি। প্রিয় মানুষের জন্যে আপনি কিছু না কিছু ত্যাগ করবেন এটিই স্বাভাবিক। কিন্তু নারীদের মাঝে একটি সাধারণ প্রবৃত্তি দেখা যায় যে, পুরুষের জন্য তারা নিজের সকল স্বপ্ন, কামনা ও বাসনা উপেক্ষা করে তাদের চাহিদা অনুযায়ী জীবন চালিয়ে নেন। এমনটা মোটেই কাম্য নয়।

আপনিও যদি এমন হয়ে থাকেন, তবে আজ থেকেই নিজেকে শুধরে ফেলুন। প্রিয় মানুষ কিংবা অন্য পুরুষের জন্য কখনোই নিম্নোক্ত বিষয়গুলো ছাড় দেবেন না। কেননা, একজন প্রত্যয়ী ও আত্মবিশ্বাসী নারী নিজের অবস্থান রাখেন অন্য সকলের পূর্বে।

নিজেকে বদলে ফেলা
আপনার প্রিয় মানুষ যদি একজন নম্র ও ভদ্র মানুষ হয়ে থাকেন তবে তিনি কখনোই তার নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধির জন্যে আপনাকে বদলাতে বলবেন না। তার উচিৎ আপনি যেমন আছেন, যেভাবেই আছেন ঠিক সেভাবে সামগ্রিকভাবে আপনাকে ভালোবাসা। আপনার ওজন, চুল কিংবা চলাফেরার ধরণ, কোনটি যদি তার বিরক্তির কারণ হয় তবে বুঝতে হবে যে তিনি কোন যৌক্তিক কারণে আপনার সঙ্গে নেই। যেকোন শারীরিক পরিবর্তন যদি করতেই হয় তাহলে নিজের জন্যেই করুন, তার মনোযোগ আকর্ষণের জন্য নয়।

নিজের স্বপ্ন ও পরিকল্পনার সঙ্গে সমঝোতা করা
সত্যি কথা বলতে শুধুমাত্র প্রেমিক বা জীবনসঙ্গী কেন, পৃথিবীতে কাউকেই আপনার স্বপ্ন ও লক্ষ্য পূরণের বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে দেবেন না। এটি আপনার জীবন, এ জীবন অন্য কেউই কিন্তু যাপন করে দেবে না। পছন্দের চাকরী ছেড়ে দেওয়া কিংবা মাথায় খেলে যাওয়া কোন আইডিয়া ভেস্তে দিয়ে এখন হয়তো কিছুটা স্বস্তি পাবেন আপনি কিন্তু ভবিষ্যত কিন্তু কেউ বলতে পারে না। আপনার সঙ্গীর উচিৎ প্যাশনের ব্যাপারে সর্বদা আপনাকে সাহায্য করে যাওয়া, এতে যদি তিনিও সমান আগ্রহী হোন, তাহলে তো কথাই নেই।

তার সম্মতির জন্যে অপেক্ষা করা
একজন প্রত্যয়ী এবং আত্মবিশ্বাসী নারী সর্বদা নিজের নিয়ম-কানুন অনুযায়ী কাজ করে চলেন, তিনি কখনো কারো সম্মতি কিংবা নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করেন না। কোন কাজ শুরু করার পূর্বে প্রথমেই আপনার নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ছক কেটে নিন, অতঃপর প্রয়োজন হলে সঙ্গীর সাহায্য চাইতে পারেন।

কর্মপরিকল্পনা বাতিল করে ফেলা
জরুরী কোন কাজ থাকলে আগে থেকে করে রাখা যেকোন পরিকল্পনা পুনরায় শিডিউলে যোগ করা যায় কিন্তু শুধুমাত্র তার সঙ্গে থাকবেন বলে প্ল্যান বাতিল করবেন, ব্যাপারটা কিন্তু বেশ দৃষ্টিকটু। আপনি সর্বদা স্ট্যান্ডবাই হিসেবে থাকবেন, তেমনটিও নয়। তিনি আপনার প্রতি যত্নশীল হলে অপেক্ষা করতে পারবেন নিশ্চয়ই, তবুও হাতের কাজের জন্য বরাদ্দ সময় নষ্ট করবেন না।

বিনয়ী হওয়া
একটি সম্পর্কে নারী এবং পুরুষ দুজনকেই সমান অংশীদারিত্ব বহন করতে হবে। দু’জনেই স্বাধীন চিত্তের কিন্তু ভিন্ন মতবাদ পোষণকারী হতে পারে। একসঙ্গে থাকতে থাকতে আপনারা দুজনেই নতুন নতুন অভ্যাস রপ্ত করতেই পারেন কিন্তু একজনের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে অপরজন বেঁচে থাকবেন, এমনটা কোনভাবেই হতে পারে না।

আপনি আপনার সঙ্গীকে যতোই ভালোবাসুন না কেন, আপনার সঙ্গী যেন কোনভাবেই আপনার জীবন নিয়ন্ত্রণ না করেন। তার মানে এই নয় যে আপনারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে কোন সিদ্ধান্ত নেবেন না, তা অবশ্যই করবেন কিন্তু প্রত্যেকটি কাজ করার সময় নিজস্ব নিয়মগুলো অনুসরণ করার চেষ্টাই করবেন। মাঝপথে থেমে যাবার মত ভুল করবেন না, তাহলে মনোবল ও অনুপ্রেরণা দুই-ই হারাবেন।

না খেয়ে নিজেকে কষ্ট দেওয়া
একটি গুজব আশেপাশে প্রচলিত আছে যে, পুরুষেরা শুধুমাত্র ‘জিরো ফিগার’ সংবলিত নারীদের প্রতিই আকৃষ্ট হন। এতে করে অনেক নারী ধরেই নেন এটিই চিরন্তন সত্য এবং তারা যেভাবেই হোক এমন শারীরিক গঠন পেতে মরিয়া হয়ে যান। এটি একদম ভুল একটি ধারণা।

আপনি প্রিয় মানুষের চোখে আকর্ষণীয় হবেন বলে শুধু শুধু খাওয়াদাওয়া বাদ দিয়ে ডায়েট কন্ট্রোল করে করে অসুস্থ হয়ে যাবেন? এটি কতোটুকু যৌক্তিক? আপনার সঙ্গীকে বুঝতে হবে যে তিনি আপনার প্রেমে পড়েছেন, কোন মডেলের নয়!

নারীরাই নিজেদের সবচেয়ে মারাত্মক সমালোচক। তারা অন্যের চোখে নিজেকে ভালো দেখানোর জন্যে অযথাই প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করেন। মনে রাখবেন, আপনি যেমন আছেন ঠিক তেমনভাবেই আপনি খুব সুন্দর এবং মার্জিত। কেন মিছেমিছি অপরের জন্য নিজেকে ছোট করবেন? আপনি যদি স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে, ব্যায়াম করে একটি নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করতে চান তবে তা অবশ্যই নিজের জন্য করুন। নিজেকে ভালোবাসুন।

সূত্র: Family Share, Popsugar

পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech