যখন ১৩ বছর বয়সী কোনো কিশোরীকে দেখবেন...

  

পিএনএস ডেস্ক : বলছি সেইসব টিনএজ মেয়েদের জন্য যারা ঘরের আয়নায় নিজেকে ঘুরিয়ে ফিরয়ে দেখে আর আফসোস করে- কেন তাকে সেলিব্রেটিদের মতো দেখাচ্ছে না! তাদের বলছি, দয়া করে জেনে নাও যে কেউই ঘুম থেকে অমন তরতাজা রূপ নিয়ে ওঠে না। আমিও না। অন্য কোনো অ্যাক্টরও না। এমনকি বিয়োন্সেও না- আমি শপথ করে বলছি।

তোমাদেরকে আসল রহস্যটা এখানে বলছি, জেনে নাও: যে কোনো পাবলিক অ্যাপিয়ারেন্সে যাওয়ার আগে আমাকে ৯০ মিনিট মেকআপের চেয়ারে বসে থাকতে হয়। আমার রূপচর্চা আর চুল পরিচর্যায় তিন থেকে ছয়জন লোককে ব্যস্ত থাকে। আর আমার নখের যত্নে নিতে নিয়োজিত আছেন একজন পেশাদার লোক। আমার ভ্রুগুলো প্লাকিং আর থ্রেড করতে হয় প্রতি সপ্তাহে।

আমার শরীরে কিছু কালোদাগ এবং চোখের নিচের ডার্ক সার্কেল ঢাকার জন্য কনসিলার ব্যবহার করতে হয়- অথচ আমি কখনো কল্পনাও করিনি যে আমাকে কনসিলার ব্যবহার করতে হবে?

প্রতিদিন ভোর ছয়টায় আমাকে বিছানা ছাড়তে হয় আর সাড়ে সাতটার মধ্যে জিমে উপস্থিত হতে হয়। সেখানে আমাকে ৯০ মিনিট ব্যায়াম করতে হয়, কখনো কখনো সন্ধ্যাকালেও, আবার বিছানায় যাওয়ার আগেও একদফা। আমি কী খাবো আর কী খাবো না- এটা নির্ধারণে যে সময় ব্যয় হয় তা একজনের ফুলটাইম চাকরির কর্মঘণ্টা হতে পারে। আমার দৈনিক খাবারের চেয়ে আমার ফেসপ্যাকের উপাদানের সংখ্যা বেশি।

একটি আত্মনিবেদিত টিম রয়েছে যারা সারাক্ষণ আমাকে চিত্তাকর্ষক পোশাকে দেখানোর জন্য ব্যস্ত থাকেন। এতকিছুর পরেও যদি আমাকে যথেষ্ট পরিমাণে নিখুঁত না দেখায়- সেক্ষেত্রে ছবিতে আমাকে নিখুঁত দেখানোর জন্য ফটোশপের উদার সেবা তো আছেই।

আমি এটা আগেও বলেছি এবং এটা আমি বলতেই থাকবো: তোমরা একজন সেলিব্রেটিকে যেমন দেখ তাকে সেই অবস্থায় উপস্থাপন করতে রীতিমতো একটি ‘সেনা বাহিনীর’ প্রয়োজন পড়ে, আরো প্রয়োজন পড়ে প্রচুর অর্থের আর বিশাল পরিমাণ সময়ের। এটা মোটেই বাস্তব জগৎ নয়- এবং এটা ব্যাকুলভাবে কামনা করে লালায়িত হবার মতো কোনো বিষয়ও নয়।

তোমাদের বরঞ্চ আত্মবিশ্বাসী হতে সচেষ্ট হতে হবে, নিজেকে সুন্দর, সুখী এবং ভাবনাহীন ভাবতে অভ্যস্ত হতে হবে। অন্য কোনো রকমের বা বিশেষ কারো মতো দেখাতে হবে তোমাকে- মাথা থেকে এটা বাদ দিতে হবে।

এরপর যখন আপনি ১৩ বছর বয়সী কোনো কিশোরীকে দেখবেন কোনো ম্যাগাজিন কাভারে ছাপানো কোনো বলিউড অভিনেত্রীর ছবির দিকে ‘হাঁ’ করে তাকিয়ে আছে অপলক- দয়া করে তাকে জানাবেন ‘অমন নিখুঁত-নিষ্কল্ক’ থাকার পেছনের রহস্যগুলো।

তাকে বলুন যে সে নিজে আসলে কতোটা সুন্দরী। তার মুচকি হাসির বা মুখ ভরে হাসির প্রশংসা করুন, তার মনের সৌন্দর্যের কথা বলুন কিংবা বলুন তার হাঁটার ভঙ্গিটা কতো সুন্দর!

তাকে এই ধারণা নিয়ে বেড়ে উঠতে দেবেন না যে সে নিখুঁত, অথবা এটা বলবেন না যে বিলবোর্ডে দেখা কোনো নারীর সঙ্গে তাকে পুরো মেলানো যাচ্ছে না তার কোনো খামতির জন্য। তাকে এমন কোনো স্টান্ডার্ডে নিজেকে তুলে ধরতে দিবেন না যা খুবই উচ্চাকাঙ্খী, এমনকি বিলবোর্ডে দেখা মেয়েটির জন্যও না।

পিএনএস/জে এ /মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech