যে কারণে কারণে পড়ুয়ারা অন্যদের চেয়ে ভালো

  

পিএনএস ডেস্ক : গ্রন্থানুরাগীদের সাধারণত ভাবা হয় অসামাজিক, অন্তমুখী ও প্রশ্নমুখর। কিন্তু অনেক পড়ুয়া শুনে খুশি হবেন- সবাই এমন নন। অন্তত একগুচ্ছ বৈজ্ঞানিক গবেষণা তা-ই বলে।

যারা নিয়মিত পঠনের মধ্যে থাকেন তারা অন্যদের চেয়ে উন্নত ও ভালো মানুষ। জীবনের নানা মুহূর্ত সামলাতে অন্যদের চেয়ে দক্ষ। কেন? জেনে নিন নয় কারণ-

বইপ্রেমীরা ঠান্ডা মেজাজের: ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্সের এক গবেষণায় দেখা যায়, ৬ মিনিট বই পড়লে ৬৮ ভাগ মানসিক চাপ কমে। বই পাঠকের স্নায়ুকে শান্ত হয়। স্বাচ্ছন্দ্য ও সাবলীল হতে সাহায্য করে। এ কারণে মৃদৃভাষী বুদ্ধিজীবীদের দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তাহলে চিন্তা করুন প্রতিদিন নিয়ম করে এক ঘণ্টা পড়লে ঘটনা কী দাঁড়াবে।

পাঠকরাই ভালো শ্রোতা: বিখ্যাত নিউরোসায়েন্টিস্ট ব্যারনেস সুসান গ্রিনফিল্ড এক গবেষণায় দেখেন, নিয়মিত পঠন মনোযোগ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। কোনো কিছুতে একাগ্র হওয়ার সামর্থ্য বাড়ায়। যা কারণে আমরা আরও পরিষ্কারভাবে চিন্তা করতে পারি। একই কারণে পড়ুয়ারা ভালো শ্রোতাও।

স্মৃতিশক্তি ভালো থাকে: বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে, পড়ুয়াদের মস্তিষ্ক অন্যদের তুলনায় উচ্চতর। ভালো স্মৃতির অধিকারীরা সহজে অনেক কিছু ব্যাখ্যা করতে পারেন। কোনো তারিখ বা গুরুত্ব ঘটনা স্মরণে বইপ্রেমীরা খুব একটা উদ্বিগ্ন হন না। সুপার-স্ট্রং মস্তিষ্ক তাদের সাহায্য করে। বার্কলের এক গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণ বয়স থেকে নিয়মিত পঠন অ্যালজাইমার ঠেকিয়ে দিতে পারে।



পড়ুয়ারা সহানুভূতিশীল হয়: অনেক বই পড়ার কারণে পড়ুয়া বৈচিত্র্য ধরনের চরিত্রের সঙ্গে পরিচিত। জীবনের নানা পর্যায়ে পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সহজে মিশতে পারেন। এ কারণে তারা মানুষ ও অন্য প্রাণীদের প্রতি সহানুভূতিশীল।

উন্নত মস্তিষ্কের অধিকারী তারা: সুসান গ্রিনফিল্ডের গবেষণা আরও জানায়, বই পড়া শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। সেখানে বলা হচ্ছে, বইয়ের পাতায় বর্ণিত শব্দ, দৃশ্য, গন্ধ ও স্বাদের অভিজ্ঞতা অর্জন করে পারে মস্তিষ্ক। অক্সফোর্ডের অধ্যাপক জন স্টেইন জানান, নিয়মিত পাঠাভ্যাস মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বাড়ায়।

পড়ুয়ারা বেশি ধৈর্যশীল: বই পড়ুয়ারা কোনো একটি সিরিজের পরের কিস্তির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে পারেন। তারা জানেন কীভাবে অপেক্ষা করতে হয়। এভাবে একটি ভালো অভ্যাস গড়ে উঠে। যার প্রভাবে তারা তাড়াহুড়োর মধ্যে যান না।

রাতে ভালো ঘুম হয়: রাতে যদি ঘুমে সমস্যা হয়, তবে ঘুমানোর আগে প্রতিদিন রাতে কিছু পড়ার চেষ্টা করুন। আগের চেয়ে ভালো ঘুম হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে এতে। যার কারণে সকালে উঠলে তরতাজা অনুভূত হবে। মেজাজ হবে ফুর্তিময় ও নিবিষ্ট। নিউরোসায়েন্টিস্ট আনা-মেরি চ্যাঙ জানান, টিভির চেয়ে বই মনকে শিথিল করে দ্রুত। সব মিলিয়ে ইনসোমেনিয়া দূর করে বই।

দৃষ্টিশক্তি খুলে দেয়: কনজুমার বিহেভিয়ার রিসার্চার ক্রিস্টেল রাসেল জানান, একই বই দ্বিতীয়বার পড়লে নতুন দৃষ্টি খুলে যায়। যা প্রথম পঠনের চেয়ে ভিন্ন হয়ে থাকে। কোনো পরিস্থিতিকে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন পড়ুয়ারা। সেটা হয় যৌক্তিকভাবে। যা একজনকে আরও ইতিবাচক ও স্বাস্থ্যবান হওয়ার সুযোগ দেয়।

পড়ুয়া ভালো প্রেমিক: বইয়ের মাধ্যমে পড়ুয়া হাজারো চরিত্র বিশ্লেষণের সুযোগ পান। তাই তারা খোলামনের ও সংবেদনশীল হয়ে থাকেন। তাই প্রেমিক হিসেবে তারা উন্নতমানের। সব সময় সঙ্গীর বিস্ময় ও মনোযোগ জাগিয়ে রাখতে পারেন।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech